কেরানীগঞ্জের গার্মেন্টস পল্লী বন্ধ, অন্যগুলোর সিদ্ধান্ত অনিশ্চিত 🤔

কেরানীগঞ্জের গার্মেন্টস পল্লী বন্ধ, অন্যগুলোর সিদ্ধান্ত অনিশ্চিত 🤔



ঢাকার কেরানীগঞ্জের গার্মেন্টস পল্লী আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) বিকাল ৩টার পর থেকে গার্মেন্টস পল্লীর সব কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। রবিবার (২২ মার্চ) সকাল থেকে মাইকিং করে গার্মেন্টস পল্লী এলাকা বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস দোকান মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুসলিম ঢালী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মুসলিম ঢালী জানান, কেরানীগঞ্জের আগানগর ও কালিগঞ্জ এলাকায় দেশের সর্ববহৎ দেশীয় গার্মেন্টস পণ্যের মার্কেট এবং ছোট, মাঝারি ধরনের শত শত গার্মেন্টস কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করেন। এছাড়া গার্মেন্টস পণ্যের মার্কেটে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লক্ষাধিক কর্মচারী কাজ করেন। এখানে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত পাইকারি ব্যবসায়ী বিভিন্ন পণ্য কিনতে আসেন। প্রতিদিন এসব এলাকায় অনেক মানুষের সমাগম ঘটে। তাই করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সমিতির এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস দোকান মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি মো. স্বাধীন শেখ জানান, দেশের সার্বিক অবস্থা অপরিবর্তিত থাকে তাহলে এই বন্ধের সময় আরও বাড়ানো হবে।

তিনি বলেন, ‘বন্ধের সময় গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিক ও গার্মেন্টস পণ্যের দোকানের কর্মচারীদের বেতন-ভাতার কোনও অসুবিধা হবে না, যথাসময়েই দেওয়া হবে। কারণ তাদের তো কোনও দোষ নেই। কোন কারখানার মালিক যদি শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে টালবাহানা করে তবে তার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেবো!

➡️অন্যদিকে অন্যান্য গার্মেন্টস কারখানা বন্ধের কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

রবিবার (২২ মার্চ) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এ মুহূর্তে তৈরি পোশাকসহ দেশের কলকারখানা বন্ধ না করে সম্মিলিত টাস্কফোর্স গঠন, রেশনিং ব্যবস্থা, থোক বরাদ্দ, কলকারখানার ভেতরে- বাইরে স্বাস্থ্যবিষয়ক নিরাপত্তা জোরদার, প্রতিটি কারখানায় ডাক্তারের ব্যবস্থা, শ্রম ঘন এলাকাভিত্তিক কোয়ারেন্টিন এবং প্রয়োজনে সরকার মালিক শ্রমিক এবং ক্রেতাগোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠকের দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক  নেতারা।

রবিবার রাজধানীর বিজয় সরণিতে শ্রম ভবনের সম্মেলন কক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের সভাপতিত্বে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)-এর সঙ্গে করোনাভাইরাস সংক্রমণে উদ্ভুত সমস্যা মোকাবিলায় শিল্প-কলকারখানায় শ্রম পরিস্থিতি সম্পর্কে জরুরি আলোচনা সভায় শ্রমিক নেতারা সরকারের কাছে এ দাবি জানান।

সভায় শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রমিকদের নিরাপত্তাই সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সরকার স্বাস্থ্য সচেতনতার ওপর জোর দিচ্ছে। শ্রমিক নেতাদের পরামর্শ সরকার ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। আমাদের সব প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। প্রয়োজনে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিল এবং কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে শ্রমিকদের সহায়তা দেওয়া হবে।’

সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আলী আজম  করোনাভাইরাসের আতঙ্ক নিয়ে কারখানাগুলোতে যেন কোনও ধরনের শ্রম অসন্তোষ না দেখা দেয়, শ্রমিক নেতাদের সে বিষয়ে আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য বিধি প্রতিপালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘মালিকরা স্বাস্থ্য বিধি সিডি আকারে প্রতিটি কারখানায় প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’

জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি ফজলুল হক মন্টু বলেন, ‘কারখানায় উৎপাদন বন্ধ না করে শ্রমিকদের করোনা সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। সাত দিন, ১০ দিন, বন্ধ করলেই সমাধান হবে না।’ গত কয়েকদিনে দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়ে গেছে। অতিদ্রুত রেশনিং-এর প্রস্তাব দেন তিনি।

আলোচনা সভায় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. রেজাউল হক, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের মহাপরিদর্শক শিবনাথ রায়, শ্রম অধিদফতরের মহাপরিচালক এ কে এম মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন খান, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন, বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের সভাপতি শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর, জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সভাপতি চৌধুরী আশিকুল আলম, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দফতরের পদস্থ কর্মকর্তা এবং স্কপের আওতাধীন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আকতারুল ইসলাম জানান, পরে করোনাভাইরাস সংক্রমণে উদ্ভুত সমস্যা মোকাবিলায় শিল্প- কলকারখানায় শ্রম পরিস্থিতি সম্পর্কে গার্মেন্টসের ৭২টি শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিভিন্ন গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের মতামত নেওয়া হয়, যেখানে বেশির ভাগ নেতা কারখানা চালু রেখে করোনা প্রতিরোধে শ্রমিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে সুষ্ঠু মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

©
Bangla Tribute

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ