আবারও গার্মেন্টস কর্মীদের ভোগান্তি, এ যেন নাটক?



Collected And Edited

আবারও গার্মেন্টস কর্মীদের ভোগান্তি, এ যেন নাটক?

Latest Textile | Mohammad Imtiaz Khan

করোনা ভাইরাসের মহামারী রোধে সরকারের সাধারণ ছুটি আগামী ৫ মে পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হলেও দেশের উৎপাদনমুখী কলকারখানা বিশেষ করে গার্মেন্টস শিল্পের ছুটি বৃদ্ধি করা হয়নি।
সরকারী সিদ্ধান্তে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।

কারখানা খুলছে এমন খবরে সারা রাত দলে দলে ঢাকায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন গার্মেন্টস কর্মীরা। কেউ যাচ্ছেন ট্রাকে আবার কেউ মাছের গাড়িতে করে।


Collected


শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে দেখা যায়, পায়ে হেঁটেই শ্রমিকরা গাজীপুর-ঢাকার দিকে যাচ্ছেন। তাদের বেশিরভাগই উত্তরবঙ্গ, জামালপুর ও টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকা থেকে যাচ্ছেন। অনেকে সিএনজি-অটোরিক্সায় করে যাচ্ছেন। আবার কোন ট্রাক বা পিকআপ পেলে সেটিতে উঠার চেষ্টাও করছেন অনেকে।

শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের কর্মস্থলের গার্মেন্টস থেকে বলা হয়েছে ২৬ এপ্রিল থেকে তাদের অবশ্যই কাজে যোগ দিতে হবে। সরকারী সাধারণ ছুটি বৃদ্ধি হলেও, এখনও তারা তাদের ছুটি বৃদ্ধির কোন সিদ্ধান্ত কর্তৃপক্ষের থেকে পাননি।


Collected


অন্য দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল থেকে গার্মেন্টস কর্মীরা ঢাকার দিকে যেতে থাকে। বিকেলে ঢাকামুখী গার্মেন্টস শ্রমিকদের স্রোত বাড়তে থাকলে ময়মনসিংহ পাটগুদাম ব্রিজ এলাকায় তাদের আটকে দেয় পুলিশ।

ডিবিএল ও মন্ডল গ্রুপের ফ্যাক্টরিতে কাজ করা কয়েকজন শ্রমিকেরা জানান, রোববার (২৬ এপ্রিল)  থেকে তাদের অফিসে যোগদান করতে বলা হয়েছে। তাই লকডাউনের মধ্যেই চাকরি বাঁচাতে ঝুঁকি নিয়ে তারা ঢাকায় রওয়ানা দিয়েছেন।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কাছে গার্মেন্টস খোলার কোনো নির্দেশনা নেই। এ কারণে শ্রমিকদের যেতে আমরা বাঁধা দিচ্ছি। রাতেও কিছু শ্রমিক সিএনজি অটোরিকশা, পিকআপে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তবে নির্দেশনা পেলে গার্মেন্টস কর্মীদের যেতে দেওয়া হবে।’


From BGMEA Website


করোনাভাইরাসের ঝুঁকির মধ্যেই রোববার থেকে ধাপে ধাপে খুলছে গার্মেন্টস কারখানা।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (BGMEA) ওয়েবসাইটে গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দেয়া মালিকদের উদ্দেশে এক বার্তায় আহ্বান জানানো হয়, এমন পরিস্থিতিতে সদস্যভুক্ত কারখানা মালিকরা যাতে শ্রমিকদের গ্রাম থেকে ডেকে ঢাকায় না নিয়ে আসে।

মানবিক দৃষ্টিকোণ বিবেচনায় কোনো শ্রমিক ছাঁটাই না করার অনুরোধ জানিয়েছে বিজিএমইএ। এছাড়া যেকোনো পরিস্থিতিতে কোনো শ্রমিককে অসমর্থিত ও অনুপযুক্ত উপায়ে ঢাকা নিয়ে আসা হলে সংগঠন হিসেবে বিজিএমইএ কোনো সহায়তা করবে না বলেও ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে।


অতঃপর শনিবার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইতে এক সভায় কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত হয়। গতকাল (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় গার্মেন্টস কারখানা খোলার বিষয়টি অবহিত করে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন (BGMEA) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি পাঠিয়েছে। একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পোশাক শিল্প মালিকদের অপর সংগঠন (BKMEA)। এরপর শ্রম মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য বিধি মেনে কারখানা চালু করার জন্য একটি নির্দেশনা জারি করে।

উল্লেখ্য যে, এর আগে গত ৪ এপ্রিল ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এমন চিত্র দেখা গিয়েছিলো। ৫ এপ্রিল থেকে গার্মেন্টস খোলার কথা থাকায় এভাবেই ভোগান্তি সয়ে কর্মস্থলের দিকে গিয়েছিলো গার্মেন্টস শ্রমিকরা। কিন্তু ৪ তারিখ গভীর রাতে আবারও গার্মেন্টস বন্ধ ঘোষণা আসায় তাদের ফিরে আসতে হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ