
সরকার টেক্সটাইল বাঁচাবে নাকি ভারত-পাকিস্তান?
Latest Textile | Al Shariar
শনিবার (৩০ মে) বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (BTMA), প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে সস্তায় পণ্য আমদানি থেকে স্থানীয় নির্মাতাদের রক্ষা করতে সরকারকে ভারতীয় ও পাকিস্তানি সুতাগুলিতে "অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক" আরোপের জন্য আহ্বান জানিয়েছে। ভারতীয় পোশাক প্রস্তুতকারকরা তাদের দেশীয় শিল্প রক্ষার জন্য বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক আইটেম আমদানিতে শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়ার এক সপ্তাহ পরে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (BTMA) সরকারকে এই প্রস্তাব দেয়।
বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন অর্থমন্ত্রী এএইচএম মোস্তফা কামালকে একটি চিঠিতে বলেছেন, "ভারত ও পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলি ডাম্পিংয়ের মূল্যে সুতা, কাপড় এবং অন্যান্য টেক্সটাইল কাঁচামাল রফতানি সহ বিভিন্ন অযৌক্তিক উদ্যোগ নিয়েছে! কোরোনা ভাইরাসের মহামারী চলাকালীন বিশ্ববাজারে তাদের বানিজ্য রাখতে তারা এসব উদ্যোগ নিয়েছেম। ক্লোথিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার (সিইমএআই) সভাপতি রাকেশ বিয়ানি ২২ মে ভারতের টেক্সটাইলমন্ত্রী স্মৃতি জুবিন ইরানির কাছে একটি চিঠিতে বলেছিলেন যে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে শুল্কমুক্ত আমদানির কারণে তাদের দেশীয় শিল্প হুমকির মুখে রয়েছে। বিটিএমএ অবশ্য ভারতীয় পোশাক প্রস্তুতকারীদের দেওয়া প্রস্তাবকে অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করে বলেছে যে, ভারত থেকে টেক্সটাইল পণ্য আমদানি করার পরিমাণটি বাংলাদেশের আরএমজি রফতানির পরিমাণের চেয়ে ১,৩০০ গুণ বেশি ছিল।
করোন ভাইরাস মহামারীর কারণে রফতানি প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে ভারত সূতার মজুতের উপরে বসেছিল এবং এই অতিরিক্ত মজুদের পরিমাণ হ্রাস করার প্রয়াসে দেশটি এখন ডাম্পিংয়ের মূল্যে বাংলাদেশে পণ্য গুলো রফতানি শুরু করেছে বলে চিঠিতে বলা হয়।
তুলার আন্তর্জাতিক দাম এবং উৎপাদনের জন্য অন্যান্য উপাদানগুলির ব্যয় বিবেচনা করে বিটিএমএ সভাপতি দাবি করেছিলেন যে, ভারত উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে কম দামে তার ৪০-কাউন্টের কম্বেড সুতা রফতানি করছে। তিনি বলেছিলেন যে ভারত থেকে কম দামে সুতা আমদানি করায় বাংলাদেশি নির্মাতারা অযৌক্তিক প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হয়েছিল।
এসব কর্মকান্ডের ভয়াবহ পরিণাম থেকে দেশে Spinning ও Weaving মিলগুলি রক্ষা করতে , দেশকে সুতা আমদানিতে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করা এবং এফওবি দামগুলিতে ১০ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়া সহ একটি টেকসই নীতি গ্রহণ করতে হবে বলে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) জানিয়েছে।
সংস্থাটি ধারণা করেছিল যে কোরোনা ভাইরাস মহামারীর কারণে আরএমজি (Ready Made Garments) এবং টেক্সটাইলের রফতানি ইউরোপীয় ইউনিয়নে ৪০ শতাংশ হ্রাস পাবে, যা বৃহত্তম রফতানির বাজার বাংলাদেশের জন্য।এ পরিস্থিতিতে, প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে সুতা আমদানির উপর অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করা এবং এফওবি দামগুলিতে ১০ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হলে COVID-19 এর মধ্যে প্রতিবেশী দেশ গুলো থেকে স্বল্প ব্যয়ে আমদানির ফলে তৈরি ঝুঁকি থেকে দেশের Spinning ও Weaving মিলগুলি রক্ষা পাবে বলে মনে করচ্ছেন, বাণিজ্য সংস্থা বিটিএমএ।




0 মন্তব্যসমূহ