গার্মেন্টস কর্মীদের মুক্তিপণ, প্রাণোদনা
Latest Textile | নিজস্ব প্রতিবেদক
বর্তমান গার্মেন্টস শিল্প করোনা পরিস্থিতিতে এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। সরকারের পক্ষ থেকে তাই প্রাণোদনা দেওয়ার ঘোষণা হয়েছে অনেক আগেই!
ইতিমধ্যে ২ হাজার ২০০টি কারখানা প্রণোদনার টাকার জন্য আবেদন করেছে। এর মধ্যে BGMEA’র সদস্যভুক্ত গার্মেন্টস কারখানা হলো ১ হাজার ৬১৫ টি। BKMEA ভুক্ত ৫৫০টি। বাকি ৩৫টি EPZ'র।
গত ২ মে ছিল সেই আবেদন দেওয়ার শেষ সময়। ৪৬টি ব্যাংকের মাধ্যমে ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা চেয়ে তারা আবেদন করেছে।
উল্লেখ্য যে, ইতিমধ্যে ২ হাজার কোটি টাকা ছাড়ও দেওয়া হয়েছে।
রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আশি শতাংশ পণ্য রপ্তানি করছে এমন সচল প্রতিষ্ঠানকে সুদবিহীন সর্বোচ্চ ২ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ দিয়ে ঋণ নিতে পারবে এ প্যাকেজ থেকে। বলা হয়েছে শুধু শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হবে এ টাকা দিয়ে। কোনোভাবেই কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা দেওয়া যাবে না।
গার্মেন্টস মালিকরা যে প্রণোদনার টাকার লোভেই সবকিছু করছে এবং প্রণোদনার টাকা পেতেই মরিয়া হয়ে আছে, তা প্রমাণ পেতে সময় লাগলো না! বাংলাদেশের গার্মেন্টস মালিকরা তাদের প্রণোদনার টাকা কড়ায় গণ্ডায় বুঝে নেবার জন্য মরিয়া হয়ে গেছে। শ্রমিকদের জিম্মি করে প্রাণোদনা আদায়ের লক্ষ্যে তাদের এই জঘন্য পরিকল্পনা!
তাদের এই পরিকল্পনার শিকার বস্ত্র শিল্পের শ্রমিকরা। অনেক শ্রমিক এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। মালিকরা প্রথম দফা ছুটির পরে দ্বিতীয় দফা ছুটির বিষয়ে কোনো কর্ণপাত না করে এবং বিজেএমইএর অনুরোধ উপেক্ষা করে আবার শ্রমিকদেরকে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরমুখী করে পরিবহন সংকটে যে দুর্ভোগে মধ্যে ফেলেছেন তা বর্ণনাতীত। তারা শ্রমিকদের প্রতি মানবিক হয়ে উঠতে পারেননি। মুনাফা অর্জনের প্রতি যতটা নজর রাখেন, অর্জনের কারিগরদের প্রতি ততটা সংবেদনশীল নন। শ্রমিককে পণ্য উৎপাদনের যন্ত্র মনে করেন। অথচ শ্রমিকদের সুখ, দুঃখ, হাসি-কান্না আনন্দ বিনোদনের অংশীদার হওয়ার মত অনেক মালিক এখনও মানবিক বোধসম্পন্ন মানুষ হওয়ার চিন্তা চেতনা থেকে অনেক দূরে। এই সংকটময় সময়ে দেখা যাচ্ছে গাজীপুর, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জে শ্রমিকদের বিক্ষোভ।
১৬ এপ্রিলের মধ্যে মার্চ মাসের বেতন দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও অনেকে তা অমান্য করেছেন। ফলে পেটের দায়ে শ্রমিকরা সামাজিক দূরত্বকে দূরে ঠেলে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। শ্রমিকরা মাঠে নেমে সবাইকে ঝুঁকির মধ্যে রাখছে। নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর ইতোমধ্যে সংক্রমণের একেবারে ঝুঁকির শীর্ষে রয়েছে। এ সময়ে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের মত অমানবিক ঘটনাও ঘটছে। শ্রমিকদের এই সংকটকালে মালিকরা প্রতিষ্ঠান লে-অফ করে দেওয়ার মত অমানবিক সিদ্ধান্তেও যাচ্ছে। লে-অফ হল কোনো কারখানায় কাঁচামালের স্বল্পতা, মালামাল জমে যাওয়া কিংবা যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ায় শ্রমিককে কাজ দিতে না পারার অক্ষমতা। এ সংকট তো শ্রমিকদের সৃষ্ট নয়, এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। অথচ এ দায়ভার পরোক্ষভাবে এই নিপীড়িত শ্রমিকদের ওপরই বেশি পড়ছে!
এখন প্রণােদনা নামক মুক্তিপণ গ্রহণের পরও যদি বস্ত্র কর্মীরা মালিকদের অমানবিক নজর থেকে মুক্তি না পায়, তবে আর বলার কিছু থাকে না!




0 মন্তব্যসমূহ