ভিয়েতনাম থেকে হাজার গুন পিছিয়ে বাংলাদেশ?

ভিয়েতনাম থেকে হাজার গুন পিছিয়ে বাংলাদেশ?

Latest Textile | নিজস্ব প্রতিবেদক


চীনে প্রথম ছড়িয়ে পরা কভিড-১৯ এর মহামারি ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে বিশ্বের সব বড় অর্থনীতির দেশ গুলো! মৃত্যু আর রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখি, পুরো পৃথিবীতে তিন লাখ ছাড়িয়েছে মৃত এর সংখ্যা।

সেখানে চীন এর সাথে ১১০০ মাইল স্থল সীমান্ত, দুই দেশের মধ্যে রয়েছে বিরাট ব্যবসা অনেক ধরনের যেগাযোগ, আর সেখানেই কিনা মৃত এর সংখ্যা শুন্য! আক্রান্তের সংখ্যা মাত্র ২৭০ জন! এই দেশটিই হচ্ছে আমাদের পোশাক শিল্পের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী।

▶️ হ্যা দেশটি হচ্ছে ভিয়েতনাম, আমাদের জানা প্রয়োজন ভিয়েতনাম কিভাবে করোনা মোকাবেলা করেছে...

ভিয়েতনামের এই সাফল্য বুঝার চেষ্টা করেছেন লন্ডন কিংস পলিটিক্যাল ইকনোমির সিনিয়র লেকচারার-ক্লিংগ্রা ভিড্রা এবং ইউনিভার্সিটি অব বাথের পি এইস ডি গবেষক বা-লিন-ট্রান। তারা ভিয়েতনামের সাফল্যকে কয়েকটি বিষয়ে উল্লেখ করেছেন, যা নিম্নে তুলে ধরা হলো!

জনগনের কাছে সঠিক তথ্য পৌছে দেওয়াঃ
শুরু থেকেই সরকার, এই ভাইরাসটি যে কতটা মারাত্মক সেটি জনগনকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছেন।তাদের এই বার্তাটি ছিলো স্পষ্ট, জনগনের মনে এই ভাইরাস নিয়ে ভয় সাধন এবং জনগন যেনো কোনো ভাবেই তাদেরকে ঝুঁকির মধ্যে না ফেলে সেই আহবান করেন তাদের সরকার প্রতিনিধিরা।
সরকার কিছু সৃজনশীল কৌশল অবলম্বন করেন জনগনের কাছে সঠিক বর্তা পৌছে দেওয়ার জন্য, মানুষের ফোনে মেসেজ পাঠানো হতো করোনা ভাইরাসের তথ্য দিয়ে, তাছাড়া শহরের দেয়ালে পোস্টার লাগিয়েও জনগনদের দায়িত্ব স্মরন করিয়ে দেওয়া হতো। ভিয়েতনাম করোনা পরিস্থিতিকে যুদ্ধের সঙ্গে অলঙ্করণ করছে৷
যেমন: প্রধানমন্ত্রী ফুক বলেছেন, ‘‘প্রত্যেক ব্যবসা, প্রত্যেক নাগরিক, প্রত্যেক আবাসিক এলাকা এই প্রাদুর্ভাবের বিরুদ্ধে একেকটি দূর্গ৷’’

▶️ কোয়ারান্টাইন ব্যবস্থাঃ
তাদের সরকার প্রতিনিধি প্রথমেই তাদের সীমাবদ্ধতা জনগনের কাছে তুলে ধরেন, হো চি মিন শহরের মেয়র জানিয়েছেন, তাঁর শহরের ৮০ লাখ লোকের জন্য ইনটেন্সিভ কেয়ার বেড আছে মাত্র নয়শ'টি৷ এ শহরে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে সহজেই তা তার প্রতিরোধের সামর্থ্যকে অতিক্রম করবে৷ তাই তাদের এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার একমাত্র পন্থা কোয়ারাইনটাইকে কড়াকড়ি ভাবে প্রাধান্য দেওয়া।ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে যে সমস্ত নাগরিক ভিয়েতনামে ফিরেছেন, তাদের বাধ্যতা মূলক ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনের এবং কোভিড-১৯ টেস্ট এর ব্যাবস্থা করা হয়। কেউ যদি কোনো শহরের স্থায়ী বাসিন্দা না হন এবং সেখানে ঢুকতে চান তাহলেও তাকে ১৪ দিনের কোয়ারান্টাইনে থাকতে হবে, এবং সেটা হতে হবে সরকার অনুমোদিত কোন একটি স্থাপনায়, যার খরচ সেই ব্যাক্তিকেই বহন করতে হবে।

▶️ স্ক্যনিং এ কঠোর নিয়মঃ
ফেব্রুয়ারি থেকেই খুব কড়াকড়ি স্ক্যনিং ব্যবস্থা গ্রহন করা হয় তাদের সব বিমান বন্দর গুলোই। তার সাথে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষাও। সকল যাত্রীদের একটি স্বাস্থ্য ফরম পূরন করতে হতো, যেখানে লেখতে হতো কার কার সংস্পর্শে এসেছে এবং কোথায় কোথায় গিয়েছে। ভিয়েতনামে এখনো এই ব্যবস্থা চালু আছে, এক শহর থেকে অন্য শহরে বা কোনো সরকারি দপ্তরে গেলেও এই তথ্য দিতে হয়।
তাছাড়া কন্ট্রাক ট্রেসিং(আক্রান্ত ব্যক্তি কাদের কাদের সংস্পর্শে এসেছে)ব্যবস্থা চালু রয়েছে। কোনো এলাকায় একজন রোগী ধরা পরার সাথে সাথে সম্পূর্ন এলাকা লক ডাউন করা হয়েছে।জার্মানির মতো পশ্চিমা দেশ গুলো যারা আক্রান্ত তাদের সংস্পর্শে আশা লোকদের খুজে বের করেছে,সেখানে ভিয়েতনাম রোগীর সংস্পর্শে আশা তৃতীয় চতুর্থ ব্যক্তিকে ও খুজে বের করেছে।

▶️ তাছাড়া করোনা ভাইরাসকে তাদের প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধের সাথে তুলনা করায়, অনেক ভিয়েতনামিদের মধ্যে এক রকমের আবেগ তৈরি করেছে৷ যার দরুন একে অন্যের পাশে দাঁড়ানো ও ধৈর্য্যশীলতার পরিচয় দিতে গিয়ে গর্ববোধ করছে তারা৷

আমরাও আমাদের এই কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে দাড়াবো, এবং সরকারি বিধি নিষেধ মেনে চলবো, আর সচেতন থাকবো সবসময়।
ইনশাআল্লাহ আমরাও আমাদের কঠোর সময়কে পার করে সুসময়ের মুখ দেখবো।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ