একাধিক মানববন্ধন, টেক্সটাইল ধ্বংসের ফাঁদ "ছাঁটাই"?

Latest Textile | নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনা মহামারীতে এমনিতেই কারখানার মালিকরা শ্রমিকদের ছাঁটাই করছে। এ রকম সময়ে বৃহস্পতিবার (৪ই জুন) বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমই) সভাপতি রুবিনা হকও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের কথা বলেছেন। তার বক্তব্যে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের হার আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন বক্তব্যের পর থেকেই চাকরি হারানোর আতঙ্কে আছেন পোশাক শ্রমিকরা। বিজিএমইএর জনসংযোগ কমিটির চেয়ারম্যান খান মনিরুল আলম শুভ বলেন, রিপোর্ট বলছে ৫৫ শাতংশ কাজ হাতে থাকবে। তাহলে কারখানাগুলো ছাঁটাই করতে পারে। এটা সারা বিশ্বের বাস্তবতা। তবে এভাবে শ্রমিক ছাঁটাই হলে বিশ্ববাজারে আবারও ভাবমূর্তি সংকটে পড়বে বাংলাদেশের পোশাক খাত। যদিও মালিকপক্ষ বলছে, বাস্তবতা মেনে কোনো কোনো কারখানা এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেও অবশ্যই মানা হবে শ্রম আইন। শ্রমিক নেতাদের দাবি, শ্রমিক ছাঁটাইয়ে কোনো আইন মানছে না মালিকপক্ষ। বরং কারখানা কর্তৃপক্ষ নিজেদের সুবিধা মতো চাকরিচ্যুত করছে বলে অভিযোগ তাদের। গেল মার্চ মাসেও উৎপাদনে ছিল বিজিএমইএ সদস্যভুক্ত ২ হাজার ২৭৪টি পোশাক কারখানা। কর্মরত ছিলেন ২৪ লাখ ৭২ হাজার শ্রমিক। বিশ্বব্যাপী করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকায় কমতে থাকে পোশাকের কার্যাদেশ। এমন অবস্থায় কর্মরত শ্রমিকদের বেতন ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধের জন্য ২ শতাংশ সুদ ও সহজ শর্তে ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল দেয় সরকার। তারা বলছেন, বিভিন্ন কারখানায় অর্ডার কম দেখিয়ে ছাঁটাই করতেছে। কিন্তু লকডাউনে সরকার যখন বন্ধ রেখেছিল তখন তারা অর্ডার বাতিল হওয়ার ভয় দেখিয়ে গার্মেন্টস চালু করে। তাহলে অর্ডার নেই বলছে কেন? এদিকে সাভারে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে ও বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ছাঁটাইকৃত শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

শুক্রবার (০৫ জুন) দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার বাস স্ট্যান্ড এলাকায় এ মানববন্ধন করেন তারা। (তথ্যসূত্র: বার্তা২৪) ছাঁটাইকৃত শ্রমিকরা জানান, করোনার প্রাদুর্ভাব রুখতে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কারখানা বন্ধ থাকার সময়ে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকদের ছাঁটাই করে কারখানা কর্তৃপক্ষ। এসময় শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন পর্যন্ত পরিশোধ না করে কারখানা বন্ধ রেখে মালিক পলাতক রয়েছেন। দ্রুত কারখানা খুলে দিয়ে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ ও চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানান তারা। শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বলেন, অনেক পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ না করেই ঈদুল ফিতরের আগে কারখানা বন্ধ করে মালিক পক্ষ পালিয়েছে। শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরসহ শিল্প পুলিশের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোনো ফল মেলেনি। তাই বাধ্য হয়ে মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছেন শ্রমিকরা। ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকরাসহ গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট, টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সাভার-আশুলিয়া-ধামরাই আঞ্চলিক কমিটি ও গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে আজ (৫ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আসন্ন ২০২০-২১ জাতীয় বাজেটে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা, রেশনিং, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিল্প অঞ্চল ভিত্তিক হাসপাতাল, কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকারের দাবীতে এক মানববন্ধনে সংস্থাটি একথা জানায়। (তথ্যসূত্র: বার্তা২৪) মানববন্ধনের সভাপতিত্ব করেন বিসিএল'র সভাপতি সুলতানা বেগম। এসময় বক্তব্য রাখেন বিসিএল'র সাধারণ সম্পাদক নাজিমউদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ মাহাতাব উদ্দিন সহিদ, সদস্য শামীমা আক্তার শিরিন, আরাফাত জাকারিয়া সঞ্চয়, শামীম খান, মো. ইলিয়াছ, এইচএম বিল্লাল, সুমি আক্তারসহ অনেকেই। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, করোনাভাইরাসের আক্রমণে শ্রমিকরা যখন অর্ধাহারে, অনাহারে জীবন যাপন করছে, যখন ঠিকমতো মজুরি পাচ্ছেনা তখন গার্মেন্টস মালিকরা নানান অজুহাতে হাজার হাজার শ্রমিককে বেআইনিভাবে ছাঁটাই করছেন। তারপর আবার বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রচার করেছে যে, বিজিএমইএ'র সভাপতি তার বক্তব্যের মাধ্যমে গার্মেন্টস শ্রমিক ছাঁটাইয়ের কথা বলে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে শ্রমিক ছাঁটাই হলে জাতীয় দুর্যোগ আরও বাড়বে। বেতন কর্তন করছে এবং অল্প শ্রমিক দিয়ে অধিক উৎপাদন ও মুনাফা লাভের জন্য শ্রমিকদের উপর কাজের টার্গেট বাড়িয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালাচ্ছে। বক্তারা আরো বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) যখন আশংকার কথা বলছে, তখন বাংলাদেশে ২০২০-২১ অর্থ বছরের বাজেট প্রণয়নের প্রস্তুতি চলছে। আসন্ন বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। যা চলতি অর্থ বছরের চেয়ে ৫ শতাংশ বেশি। চলমান কোভিড-১৯ মহামারির প্রেক্ষাপটে ২০২০-২১ অর্থ বছরে বিভিন্ন অর্থনৈতিক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। এ অবস্থায় সামাজিক নিরাপত্তা, রেশনিং, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিল্প অঞ্চল ভিত্তিক হাসপাতাল, কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে ২০২০-২১ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেট প্রণয়ন করা উচিত। এসময় বক্তারা বিজিএমইএ'র সভাপতিকে তার শ্রমিক বিরোধী বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করতে হবে এবং তার বক্তব্য অনতিবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ