করোনা পরবর্তী প্রস্তাবনা-১৬, Digital Supply Chain


Latest Textile | Habibur Rahman

মাদের দেশের প্রথম সারির ১০০ জন স্বনামধন্য পোশাক রপ্তানিকারক এর সাথে কথা বলে যা বুঝেছি, তাদের সবার এক নম্বর মাথা ব্যাথা হল সাপ্লাই চেইন বিড়ম্বনা, বিচ্যুতি, ব্যাত্যয়। স্যার দের একটাই কথা এম সাপ্লাই চেন সমস্যার কোন কিছুই করতে পারছিনা। 
বড় কারখানা গুলো সকলেই ইআরপি সফটওয়্যার দিয়ে এই সমস্যার সমাধান খুঁজছেন বিগত দুই দশক হল। কিন্তু এই সমস্যার যেন কোন সমাধান নেই। উদ্যোক্তা ও কর্মকর্তা কর্মচারী সকলেই কম বেশি দোষ দেন সফটওয়্যার সল্যুশনের।

উভয়েরই বিরূপ মন্তব্য গুলো নিম্ন রূপ:

১। আমি সিস্টেম তো কিনলাম, কিন্তু আমার লোকজন তো ব্যবহার করেনা।

২। আমার লোকজন ডাটা এন্ট্রি দিতে চায়না। কি করার আছে বলুন ! 

৩। যে সলুশ্যন টা কিনেছি সেটা আসলে গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির জন্য ভাল কাজ করছেনা। এটা অন্যান্য ম্যানুফ্যাকচারিং প্লান্টের জন্য তৈরী করা মনে হয়।  

৪। আমাদের সি পোর্ট, এয়ার পোর্ট সমস্যার কোন সমাধান নেই, তাই সিস্টেম দিয়ে কি হবে।

৫। এই সল্যুশন অমুকেও কিনেছিল কিন্তু চালাইতে পারেনাই, তাই বন্ধ করে দিয়েছে। এখন আবার তারা আগের সিস্টেমে ফেরত গেছে। আগের সিস্টেম কি জানেন তো ? কমপ্লিটলি কাগুজে কলমে জীবন।
 
৬। বিদেশী সল্যুশন এর জন্য এতো বাজেট নাই , বাংলাদেশী একটা কোম্পানি ১০ লক্ষ টাকায় স্যাপের মত মোটামুটি সব কিছুই দিচ্ছে। তাই ওটা দিয়েই কাজ শুরু করছি। আর দাম যেহেতু কম ফিচার তো একটু কম থাকবেই।
 
 ৭। আমাদের দেশের সফটওয়্যার গুলো তেমন একটা সুবিধার না। আমরা এবার ভাবছি দেশী ইআরপি বাদ দিয়ে বিদেশী একটা দামী ( ১০ কোটি ) সল্যুশনে ইনভেস্ট করবো। এই কোম্পানী কিন্তু এক দশক আগেই উপরোক্ত মন্ত্যব্য করেছিল। অদ্যাবধি এই দামী সল্যুশন ও কোন সমস্যার সমাধান দিতে পারেনি। 

৮। এমপ্লয়ী গণের মূল যুক্তি হল সারাদিন নিজের কাজ করেই শেষ করতে পারিনা, আবার কখন সিস্টেম এন্ট্রি দিবো। এই সব কাজের জন্য ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ দেন।

৯। কেন যেন আমরা নতুন কোন কিছুকেই মেনে নিতে পারিনা ! পুরাতন ভুল গুলোকেই প্রাধান্য দিয়ে দিন গুজরান করতে থাকি। 
তাহলে ফলাফল কি দাড়ালো, সমস্যা চিহ্নিত করণ হল মূল সমস্যা!
আমার দৃষ্টিতে উপরোক্ত কোন টাই সমস্যা না। সমস্যা গুলো আসলে নিম্নরূপ:

১। আমাদের পূর্ব কোন অভিজ্ঞতা না থাকায় আমরা ভুল পথে পরিচালিত হই সহসাই। 

২। সল্যুশন কেনার আগে থেকেই কোম্পানীর কাজের কোন এসওপি ছিলোনা, সিস্টেম চালু করার সময়ও করা যায়নি বা হয়নি। তাই জগাখিচুড়ি কোন কিছু সিষ্টেম তো ম্যানেজ করতে পারবেনা। 

৩। মালিক পক্ষ ও উর্দ্বতন কর্মকর্তাদের কাজের কোন এসওপি কোন কোম্পানীতে অদ্যাবধি নাই। বন্ধুর কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে তার পরও ঘুম ভাঙ্গেনি (আর ভাঙবেনা বলেই মনে হচ্ছে)

৪। সিস্টেম ছাড়াই তো কোটি কোটি টাকা এসেছে এবং আসছে তাহলে সিস্টেম আমাকে কি রসগোল্লা এনে দিবে। 

৫। বিগত তিন দশকের সফলতার দম্ভ, সিআইপি খেতাব জুটানো, রপ্তানী ট্রফি জিতার সুখ সকল কেই সিস্টেম বিমুখ করে রাখতে ইন্ধন জুগিয়েছে।

যাই হোক আমার সকল লিখায় আমি অনেক পান্ডিত্য জাহির করে থাকি। একজন তো চ্যালেঞ্জ করে বসেছিল, এতো বুঝেন তো নিজে ফ্যাক্টরী করে দেখান ! 

আজকে আমার সো কল্ড জ্ঞানগর্ভ আলোচনার বিষয় বস্তূ হল সাপ্লাই চেইন বিড়ম্বনা ও বিচ্যুতি।  

সাপ্লাই চেইন টা কি তা আমরা সকলেই কিন্তু কম বেশি জানি। সাধারণ বা সর্বশেষ গ্রাহকের কাছে প্রোডাক্ট বা সার্ভিস পৌঁছে দেবার জন্য পণ্য বা সেবা উৎপাদন ও বিক্রয়ের সাথে জড়িত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, কাঁচামাল, সম্পদ, পরিবহন, কার্যক্রম এবং প্রযুক্তির একটি নিরবিচ্ছিন্ন নেটওয়ার্ক। আমাদের পোশাক রপ্তানী শিল্পে সকল কিছু আছে শুধুমাত্র নিরবিচ্ছিন্ন নেটওয়ার্ক এর অংশটুকু নিয়েই যত সমস্যা !  

সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট গুরুত্বপূর্ণ কেন?

সকল কিছু জোগাড় যন্তর ঠিক মত যদি না হয় তাহলে কোন কিছুই ঠিক মতো শুরু করা যাবেনা। প্রতিষ্ঠানের সাফল্য ও কাস্টমারদের আস্থা নিশ্চিত করার জন্য সাপ্লাই চেইনের সঠিক ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা জরুরি। এর মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠান কয়েক ধরনের উদ্দেশ্য অর্জন করতে পারে।

গ্রাহকসেবার মান বাড়াতে:

গ্রাহক সবসময় সঠিক পরিমাণে সঠিক প্রোডাক্ট বা সার্ভিস চায়। অর্ডার করা প্রোডাক্টের সাথে ডেলিভারি করা প্রোডাক্টের বৈসাদৃশ্য থাকলে অথবা ডেলিভারিতে দেরি হলে সে প্রতিষ্ঠানের উপর গ্রাহক তার আস্থা হারাবে।

গ্রাহককে নির্ধারিত জায়গায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রোডাক্ট বা সার্ভিস পৌঁছে দিতে পারার উপর নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানের জনপ্রিয়তা।
কোন প্রোডাক্ট বা সার্ভিস বিক্রি হবার পর গ্রাহক কোন সমস্যায় পড়লে যদি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাওয়া না যায়, তাহলে গ্রাহকের অসন্তুষ্টি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। গ্রাহক সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টের প্রয়োজন হয়।
প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সাফল্য নিশ্চিত করতে:

উৎপাদন খরচ কমানো: উৎপাদন কাজে দেরি হলে কোন প্রতিষ্ঠানের বিশাল ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। নির্ধারিত সময় ও খরচের মধ্যে যেন প্রোডাক্ট বা সার্ভিস উৎপাদিত হয়, তা নিশ্চিত করে সঠিক ব্যবস্থাপনা। এছাড়া, সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সাপ্লাই চেইন ম্যানেজাররা প্ল্যান্ট, গুদামঘর ও পরিবহনে প্রয়োজনীয় যানবাহনের ব্যবহার কমাতে সক্ষম। এতে উৎপাদনের খরচ হ্রাস পায়।

সম্পূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থার খরচ কমানো: প্রস্তুতকারকের কাছে কাঁচামাল আসা ও উৎপাদিত প্রোডাক্ট বা সার্ভিস কাস্টমারের কাছে সরবরাহের খরচ যথাসম্ভব কম রাখার জন্য ভালো পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা দরকার।

বিক্রির খরচ কমানো: মূল্যবান প্রোডাক্ট বা সার্ভিস মজুদ করে রাখা খুচরা বিক্রেতাদের জন্য আর্থিক চ্যালেঞ্জের বিষয়। এ খরচ কমাতে সাহায্য করে সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট।

আমরা এই সকল কার্যক্রম মোটামুটি, ফোন কল, ইমেইল, হোয়াটস্যাপ, ভাইবার, ইআরপি, মিটিং, চিৎকার চেঁচামেচি করে নানা প্রকার প্রতিকূলতার মাঝেই ম্যানেজ করেই কাজ কর্ম সম্পাদন করে আসছি। 

একটা পরিপূর্ণ সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট ইকো সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করা যাচ্ছেনা বলেই প্রতি নিয়ত এর ব্যত্যয় ঘটছে। অনেকগুলো অংশগ্রহণকারী ব্যাক্তি, সিষ্টেম, যোগাযোগ মাধ্যম, প্রতিষ্ঠানের মাঝে নিরবিচ্ছিন্ন যোগসূত্র স্থাপন সম্ভব শুধুমাত্র ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায়।
 
আমরা জুম কলে ১৮ টা দেশের ১০০ জন প্রতিনিধি এক সেকেন্ডের ভিতরে ভিডিও বার্তা আদান প্রদান করছি , ফাইল শেয়ারিং করছি, পিপিটি প্রেসেন্টেশন দিচ্ছি, কার্যাদেশ দিচ্ছি, কমেন্ট করছি এটাই ডিজিটাল অফিস কমিউনিকেশন ইকোসিস্টেম। আমরা এই মহামারীতে না পড়লে পুরোপুরি এই ইকোসিস্টেমে নিজেদের ব্যবস্থাপনা হঠাৎ রূপান্তর করতাম না।

ঠিক এই ভাবেই আমাদের সাপ্লাই চেইন ব্যপস্থাপনায় এই রকম একটা ইনস্ট্যান্ট, নিরবিচ্ছিন্ন, সকল প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে এমন একটা কানেক্টেড পরিবেশ স্থাপন করে ডিজিটাল সাপ্লাই চেইন বলা হচ্ছে।

ইলেক্ট্রনিক টেকনোলজির মাধ্যমে সকল কিছুর কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করতে আমাদের নিচের বিষয় সমূহের অবতারণা জরুরী। 

  1. The Internet of Things (IoT)
  2. End to End Digital Connectivity
  3. Cloud Computing
  4. Blockchain
  5. Big Data
  6. Artificial Intelligence
  7. Predictive Analytics
  8. Machine Learning
  9. Voice-Activated Technology
Wearable Devices:
  1. Control Towers
  2. Robotics
  3. Cyber Security
  4. Autonomous Vehicles
  5. Drones
  6. Software as a Service (SaaS)

মানে এক কথায় ডিজিটাল টেকনোলজির সকল কিছুর সমন্বয় সাধন করতে হবে। আপনারা বলবেন আমরা তো এখনো এগুলো থেকে অনেক দূরে আছি, এর ধারে কাছেও তো আমরা যেতে পারিনি।

শুধু আমাদের প্রতিযোগী দেশ সমূহ এবং আমাদের কাস্টমার গণ কিন্তু নিজেদের এই পর্যায়ে উন্নীত করার জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা পিছিয়ে থাকবো কিভাবে।

দেশের ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ রপ্তানীকে আরো জোরদার করতে আমাদের আর কোন বিকল্প রাস্তা খোলা নেই।

আরও পড়ুন,
  
Writer:
Habibur Rahman
Smart Factory 4.0 Consultant for Textile Apparel Industries;
County Head, Quantity Improvement Solutions;
Founder, Jobs For রু

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ