Latest Textile | মির্জা সুলতান
ঢাকার ধামরাই এলাকায় আজ (১৪ মার্চ) ঘটেছে চাঞ্চল্যকর ঘটনা।
মোঃ জুলমত মিয়া (৫৯) পেশায় একজন নৈশ পাহারাদার এবং দিনের বেলায় চায়ের দোকান করেন ধামরাই বাজার সংলগ্ন আইঙ্গন মোড়ে, গার্মেন্টস শ্রমিকদের আবাসিক এলাকায়। তার স্ত্রী জাহানারা বেগম (৫০)। জুলমতের এক পুত্র সন্তান মো.বজলুর রহমান (৩৩) আরব আমিরাত (আবু ধাবি) প্রবাসী ও দুই কন্যা সন্তান যথাক্রমে মালেকা বানু (৩৭) ও জুলেখা বেগম(৩৬) রয়েছে। সন্তানদের বিয়ে সম্পন্ন করেছেন অনেক আগে। স্ত্রী, পুত্রবধু লাকী রহমান (২৯) ও একমাত্র নাতি জুনায়েদ হেসেন(০৬) কে নিয়েই তার বসবাস।
জুলমত মিয়া অনেক আগেই আইঙ্গন মোড়ে অবস্থিত বেগম নুরজাহান স্কুল এন্ড কলেজের বিপরীতে তৈরি করেছিলেন তিন তলা টাইলসে নির্মিত আলিশান বহুতল ভবন।
প্রতিবেশিরা লেটেস্ট টেক্সটাইলকে জানান,
জুলমতের পরিবারে সর্বদা ঝগড়াঝাটি ও মনোমালিন্য লেগেই থাকতো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাক্তি জানান, ছেলের বউ (লাকী রহমান) সহ স্ত্রী, সন্তানের সাথে তার মিলতো না।
সকলের কাছে হ্যায় প্রতিপন্ন হতে হয়েছে বহুদিন। জনাব জুলমত রাতভর পাহারাদারি করার পর সকালে ঘুম ও বিকালে চায়ের দোকানে বসাই ছিল তার প্রতিদিনের কাজ। পরিবারে সময় দিতে পারতেন না জুলমত। কারণ হিসেবে পাওয়া যায় তার বাড়ি তৈরি ও ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য মোটা অংকের ঋণ করতে হয়েছিল। এজন্য, বেশ ডিপ্রেশনে ছিল বৃদ্ধ জুলমত। সর্বশেষ, জুলমতের ঋণ ছিল ৪ লক্ষ টাকার আশেপাশে। এ টাকা শোধ করতেই হিমশিম খাচ্ছিল জুলমত কারণ ছেলে আরব আমিরাত প্রবাসী বজলুর রহমান(৩৩) যথাযথ টাকা দিত না।
প্রতিবারের মত এবারও কথা কাটাকাটি হয় ছেলের সাথে। ছেলে সরাসরি বলে দেন সে আর তাকে টাকা দিতে পারবে না। পারলে কিডনি বিক্রি করে টাকা শোধ করতে বলে। এতে করে স্ত্রী, পুত্র ও পুত্রবধূ কর্তৃক নানান অপমান ও তাচ্ছিল্য তাঁকে হতাশায় ফেলে দেয় সে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে।
শুক্রবার (১২ই মার্চ) সকাল ৭ ঘটিকায় বউয়ের (জাহানারা) সাথে ঝগড়া করে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যান। সারাদিন বাড়ি ফেরেনি জুলমত। বিষয়টি পরিবারের লোকেরা ব্যাতিত কেউ জানতো না। আর, অবাক করার বিষয় পরিবারের কেউই প্রতিবেশীদের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করেনি।
সারাদিন না খাওয়া জুলমত আইঙ্গন জামে মসজিদে জুম্মার নামাজ শেষে এলাকার বন্ধু দের সাথে মত বিনিময় করে এবং অন্যত্র চলে যান। সন্ধ্যায় তাকে আইঙ্গন শান্তি পাড়ায় দেখা যায়। শনিবার সারাদিন আশে পাশের এলাকা ঘুরে বেড়ান এবং বিকালে বাড়ির পাশে ভ্যান গাড়িতে বসে থাকতে দেখে তারই বাড়ির এক ভাড়াটিয়া। সেখানে কিছুটা সময় কাটান কিন্তু বাসায় ফেরেন নি।
গতকাল শনিবার (১৩ মার্চ) রাত ১১ঃ৩০ মিনিটে গ্রামের জুলহাস মিয়া (৩৩) মোঃ জুলমত মিয়াকে আইঙ্গন ব্রীজে বসে থাকতে দেখেন। ডাক দিলে উনি গ্রামের ব্রীজ থেকে পলায়ন করে অন্যত্র চলে যান। এলাকার অধিবাসী যুবা মোঃ জুলহাস হোসেন, মোঃ নয়ন মিয়া, মোঃ সিরাজুল ইসলাম সহ ওনার পরিবারের মানুষ খোঁজ করলেও পরিবর্তীতে তার সন্ধান মেলেনি।
![]() |
| আত্মহত্যা নাকি খুন? |
আজ রবিবার (১৪ মার্চ) ভোর ৬ ঘটিকায় এক পথচারী গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় জুলমতের শরীর দেখতে পায় এবং আশেপাশে বাড়ির মানুষকে জানায়। কিছুক্ষণের মধ্যে জায়গাটি জনসমাগনে ভরপুর হয়ে যায়। এলাকাবাসী জানায়,শরীফবাগ পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা পরিতোষ মন্ডল ধামরাই থানায় কল করলে পুলিশের গাড়ির উপস্থিতি সকাল ৮ঃ৩০ মিনিটে পরিলক্ষিত হয়।
আনুমানিক ৩ ঘটিকায় গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ ঝুলতে ধারণা করছে কেউ কেউ। শরীফবাগ পশ্চিম পাড়া হাইওয়ে রোডের পার্শ্ববর্তী মো.কাউসার মিয়ার বাড়ীর পেছনে রাস্তার ধারে।
ধামরাই থানার ওসি.মো.কামাল (তদন্ত) তদন্ত টিমের সহিত তার শরীরকে ধামরাই থানায়, অতঃপর পোস্ট মর্টেমের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে আনুমানিক সকাল ১১ঃ০০ ঘটিকায় পাঠানো হয়। এবং দুপুর ২ঃ৩০ মিনিটে জুলমত মিয়ার লাশ আইঙ্গনে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। রিপোর্ট পরবর্তী সময়ে দেওয়া হবে বলে জনগন ও জুলমত মিয়ার পরিবারকে আশ্বস্ত করেছে পুলিশ।
আরও পড়ুন
সন্ধ্যা ৬ঃ৩০ মিনিটে মাগরিবের নামাজ শেষে আইঙ্গন জামে মসজিদের ইমাম ও এলাকাবাসী জানাজা সম্পন্ন হয়। অতঃপর মোঃ জুলমত মিয়াকে আইঙ্গন কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
![]() |
| শেষ বিদায় |
তবে আশ্চর্যের বিষয় এই যে খারাপ মন্তব্যকারী একটি মানুষও খুঁজে পাওয়া যায়নি যে জুলমত মিয়া(৫৯) সম্পর্কে। জুলমত একজন সহজ-সরল ও সমাজপ্রেমী মানুষ ছিলেন। আত্মহত্যা করার মত মানুষ তিনি নন। তার এই কাজটি কেউই মানতে পারছেন না। এছাড়া, নানান নব্য নতুন প্রশ্নের জন্ম সৃষ্টি হচ্ছে জনগন তথা দুই এলাকাবাসীর মনে। কেননা, সারাজীবন সেবা দেওয়া জুলমতের এই অপমৃত্যু মানুষের কাছে সম্পুর্ন অপ্রত্যাশিত।
ধামরাই থানাতে সন্দেহ ভাজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে তার পরিবার।
সোর্সঃ
শরীফবাগ পশ্চিম পাড়া এলাকবাসী,
জুলমতের প্রতিবেশি মুদি দোকানদার, মো.আলমগীর, সামাদ (৫০) ভাড়াটিয়াঃ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, জুলমতের ভাই- ১.ফরহাদ হোসেন, ২. মো.হাসান আলি।
মনির হোসেন, রিয়াজ সহ অন্যান্য।







0 মন্তব্যসমূহ