Latest Textile | নিজস্ব প্রতিবেদক
রেডিমেড গার্মেন্টস মানেই একটি নির্দিষ্ট চার্টের কিছু নির্দিষ্ট মাপের পোশাক, যা আমরা দেখি নানা রকম সাইজ লেবেল (উদাহণস্বরূপ XS, S, M, L, XL, XXL) দ্বারা বাজারে ছাড়া হয়।
কিন্তু এই নির্দিষ্ট চার্ট আর মাপেরও আছে হেরফের। যেমন ধরুন, আমেরিকার S সাইজ, ভারতের M, আর বাংলাদেশের জন্য হতে পারে ওই একই পোশাক L সাইজ। ভারত বা বাংলাদেশে যে ব্যক্তি লার্জ সাইজের পোশাক পড়েন, আমেরিকায় গেলে তাঁকেই কিনতে হবে মিডিয়াম সাইজ। ফলে সাইজের এই হেরফেরের জন্য পোশাক কিনতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন প্রবাসীরা।
তাছাড়া, দেশে বানানো অনেক রেডিমেড গার্মেন্টস, দেশের সব ধরনের মানুষের জন্য এখনও প্রযোজ্য হয়নি। ফলে এখনও আমাদেরকে নির্ভর করতে হয় সেই প্রাচীন আমলের ব্যায়বহুল টেইলরিং'র উপর।
গত বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতে এই সমস্যা দূর করতেই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে তাদের সরকার। বিশেষ সার্ভের মাধ্যমে পোশাকের সঠিক মাপ নির্ণয় করে নিজস্ব সাইজ চার্ট তৈরি করবে তারা।
ভারতের কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রণালয় এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ফ্যাশন টেকনোলজির (NIFT) যৌথ উদ্যোগে শুরু হচ্ছে 'ইন্ডিয়াসাইজ' নামে এই বিশেষ সার্ভে। পোশাক প্রস্তুতকারক সমিতি অফ ইন্ডিয়া এই সাইজ চার্টের সংশোধিত জরিপকে সমর্থন করেছে। আন্তর্জাতিক পোশাক সংস্থাগুলি নতুন সাইজিং গাইড অনুসরণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় বস্ত্র সচিব উপেন্দ্র প্রসাদ সিং বলেন,
২০১৯ সালেই এই সার্ভের ঘোষণা হয়েছিল। কিন্তু, মহামারীর জেরে তা পিছিয়ে যায়। এবার দেশে ছ'টি শহরে সার্ভে করা হবে। তালিকায় রয়েছে দিল্লি, চেন্নাই, মুম্বই, হায়দরাবাদ, শিলং এবং কলকাতা। এরপর নতুন একটি সাইজের চার্ট তৈরি করা হবে। থাকবে একটি নির্দিষ্ট নম্বর। গোটা বিশ্বে ১৮টি দেশের এমনই নিজস্ব পোশাক সাইজ চার্ট রয়েছে।
এছাড়াও ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ফ্যাশন টেকনোলজিতে (NIFT) বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পোশাকের সাইজ নিয়ে গবেষণা চলছে। বয়স, সংস্কৃতি এবং আর্থিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে একাধিক গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে গবেষণাকে বলে জানা গেছে।
NIFT-এর DG শান্তমানু বলেন,
সমস্ত দিকগুলি বিবেচনা করেই আমরা নিজস্ব সাইজ চার্ট তৈরি করতে সক্ষম হব। এর জন্য আমরা 3D স্ক্যানারের ব্যবহারও করছি। যা দিয়ে মানবশরীরের সঠিক মাপ নেওয়া সম্ভব। এর মধ্যমে নৃতাত্ত্বিক তথ্যও সংগ্রহ করা যাবে। সমস্ত আন্তর্জাতিক নিয়মাবলী মেনেই এই সার্ভে করা হচ্ছে।
প্রকল্প সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য এবং ফলাফল কয়েক মাসের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। পুরো প্রকল্পটি ২০২২ সালের শেষের দিকে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রেডিমেড গার্মেন্টস জগতের রানী বাংলাদেশেরও এমন নিজস্ব একটি সাইজ চার্টের অত্যন্ত প্রয়োজন বলেই মনে করছেন বিশেজ্ঞরা।
তবে কিছু বিশেজ্ঞরা মনে করছেন যে ভারতের সাইজ চার্টই বাংলাদেশের জন্য যথেষ্ট।
#latesttextile #news #india #sizechart #readymade #garments #textile #bdvsind #clothingsize #internationalsize #readymadegarments #rmg







0 মন্তব্যসমূহ