![]() |
| Collected |
লে-অফ ফাঁসে গার্মেন্টস কর্মীরা, অতঃপর বিক্ষোভ ভাংচুর
Latest Textile | নিজস্ব প্রতিবেদক
করোনা মহামারী নিয়ন্ত্রণে ও দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (BGMEA) এর নির্দেশ অনুরূপ গাজীপুরের লে-অফ ঘোষণা করা এক পোশাক কারখানা চালু করার নির্ধারিত তারিখ ঘোষণা এবং শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধের দাবিতে ওই কারখানার শ্রমিকরা রবিবার (২৬ এপ্রিল) বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করেছে। উত্তেজিত শ্রমিকরা পার্শ্ববর্তী কয়েকটি কারখানা ভাংচুর করেছে। এসময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল ও টায়ারে অগ্নিসংযোগ করে। পুলিশের সঙ্গে উত্তেজিত শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে পুলিশসহ অন্তত আটজন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ২৫ রাউন্ড টিয়ার শেল ছোড়ে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার জানান, গত ৩১ মার্চ এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভোগড়া এলাকার স্টাইলিশ গার্মেন্টস কারখানাটি ১ এপ্রিল হতে লে-অফ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। অথচ কারখানাটিতে ১ এপ্রিলের পরও কিছুদিন পর্যন্ত উৎপাদন অব্যহত ছিল। কারখানাটি কবে নাগাদ খোলা হবে তা ঘোষণা দেয়নি মালিকপক্ষ। কারখানাটি লে-অফ করার আগে ৩০ শ্রমিকের বেতন এবং ৮০ স্টাফের ৬০ শতাংশ বেতন বকেয়া ছিল। শ্রমিকরা ওই কারখানা চালু করার নির্ধারিত তারিখ ঘোষণা এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতনভাতাসহ পাওনাদি পরিশোধের দাবিতে রবিবার (২৬ এপ্রিল) বিক্ষোভ ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেছে। কিন্তু তাদের দাবি পূরণ না হওয়ায় এবং মালিকপক্ষের সাড়া না পেয়ে শ্রমিকরা সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল আটটার দিকে কারখানার সামনে এসে জড়ো হতে থাকে। একপর্যায়ে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করে।
শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জালাল উদ্দিন জানান, বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানার পার্শ্ববর্তী ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওপর অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এসময় বিক্ষোভকারীরা স্টাইলিশ কারখানার পার্শ্ববর্তী ভলমন্ট ফ্যাশন, ক্রাউন ফ্যাশন, টেকনো ফাইবার পোশাক কারখানার কর্মরত শ্রমিকদের কাজ বন্ধ রেখে তাদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেয়ার আহ্বান জানায় এবং ওইসব কারখানায় ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এতে ওই কারখানাগুলোর দরজা জানালার কাঁচসহ বিভিন্ন মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একপর্যায়ে তারা ক্রাউন ফ্যাশন কারখানার সামনে মহাসড়কের পাশে পার্কিং করে রাখা তিনটি মোটরসাইকেল এবং আটটি বাইসাইকেল জড়ো করে সেগুলোতে অগ্নিসংযোগ করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরোধকারীদের মহাসড়কের ওপর থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ঢিল ছুড়তে থাকে। একপর্যায়ে পুলিশ অবরোধকারীদের লাঠিচার্জ ও ধাওয়া করে। শ্রমিকরাও পাল্টাধাওয়া দেয়। এতে পুলিশসহ অন্তত আটজন আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ২৫ রাউন্ড টিয়ার শেল ছুড়ে বেলা ১১টার দিকে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে সড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
অন্যদিকে জামগড়ার নেক্সট কালেকশন নামের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা আজ সোমবার সকালে কর্মস্থলে উপস্থিত হয়ে কাজ না করে কারখানা থেকে বের হয়ে বিক্ষোভ করতে চাইলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। পরে শ্রমিকরা বাড়ি চলে যান।
এছাড়া আশুলিয়ার সিগমা ফ্যাশনসের ছাঁটাইকৃত শ্রমিকরা সকালে কারখানার মূল ফটকের সামনে জড়ো হয়ে তাদের চাকরি পুনর্বহাল ও কারখানা চালু দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন।
অন্যদিকে সাভারের উলাইল এলাকার কে এল ডিজাইন কারখানার শ্রমিকরা বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতেও বিক্ষোভ করেন।
একাধিক শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ শুধু হাত ধোয়া ও মাস্কের ব্যবস্থা করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন। তাদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে কাজে যোগ দিতে বললে তারা কারখানা থেকে বের হয়ে বিক্ষোভ করেন।
বাংলাদেশ বস্ত্র ও পোশাক শিল্প শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধির নিয়ম মানছে না অনেক কারখানা কর্তৃপক্ষ। এ কারণেই শ্রমিকরা কারখানা থেকে বের হয়ে বিক্ষোভ করছেন। কারখানার মালিকপক্ষকে পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে শ্রমিকদের কাজে ফেরোনোর আহ্বান জানাই।’
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর সহকারী পুলিশ সুপার জানে আলম বলেন, ‘কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা কাজ না করে বের হয়ে চলে গেছেন। তবে কারখানায় পর্যাপ্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দায়িত্ব মালিকপক্ষের। এসব বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ জানালে আমরা খোঁজ নিয়ে সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এছাড়া যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কারখানাগুলোর সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়েছে।’
শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার পর্যন্ত গাজীপুর সিটি করপোরেশনসহ জেলার ৫২৭টি শিল্পকারখানা খুলেছে। এর মধ্যে বিজিএমইএর ২৯১টি, বিকেএমইএর ৩৫টি, বিটিএমইএর ২৯টি এবং অন্যান্য ১৭২টি কারখানা রয়েছে।





0 মন্তব্যসমূহ