পরিকল্পনাহীন বাংলাদেশ, গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবন-মরণ নিয়ে খেলা 😔
Latest Textile Desk | নিজস্ব প্রতিবেদক
![]() |
| কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম © BanglaNews24 |
#SaveWorkersSaveBangladesh
গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবন-মরণ নিয়ে মারাত্মক এ খেলা কে খেলছে তা জানতে চাই বলে প্রশ্ন করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (CPB) সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।
কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, করোনা মহামারির কারণে সরকার 'লক ডাউন' ঘোষণা করে দেশের সব নাগরিককে বাসায় থাকতে বলছে। রাস্তায় বের হলে গরীব রিক্সাচালককে পিটিয়ে তার রিক্সা ভেঙে দেয়া হচ্ছে। বৃদ্ধ দিনমজুরকে কান ধরে উঠবস করানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী রপ্তানিমুখী শিল্পের যার প্রধান আংশ হলো গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ঘোষণা করেছেন। আমরা অবশ্য এ বাবদ ২৫ হাজার কোটি টাকা দিতে বলেছি। গার্মেন্টস শ্রমিকদের ১ মাসের বেতনসহ ছুটির দাবিও করা হয়েছে। ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সরকার সাধারণ ছুটিও ঘোষণা করেছে।
শনিবার, ৪ এপ্রিল CPB কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এ প্রশ্ন করেন।
![]() |
| Collected |
তিনি আরও বলেন, 'লক ডাউন' চলা অবস্থায় গার্মেন্টস কারখানা খুলে দেওয়ায় গ্রামে চলে যাওয়া শ্রমিকদেরকে এখন গাদাগাদি করে, পায়ে হেঁটে কর্মস্থলে ফিরতে হচ্ছে। তাদেরকে এখন গাদাগাদি করে থাকতে হবে, কারখানায় যেতে হবে, সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই ডিউটি করতে হবে। ফলে 'করোনা' মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার বিপদ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে শ্রমিকদের জীবনের পাশাপাশি অগনিত দেশবাসীর জীবনাশঙ্কা সৃষ্টি হবে। এর দায় তাদেরকেই নিতে হবে যারা গার্মেন্টস কারখানা খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
![]() |
| Collected |
সেলিম আরও প্রশ্ন করে বলেন, দেশের ৫০ লাখ গার্মেন্টস শ্রমিককে যদি এক মাসের স্ববেতন ছুটি দেওয়া হয়, সেজন্য ছয় হাজার কোটি টাকা মজুরি ধরলেও মোট তিন হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। তার চেয়ে বেশি টাকা তো প্রধানমন্ত্রী বরাদ্দ দিয়ে রেখেছেন। তাহলে কারখানা খুলে দিয়ে শ্রমিক ও দেশবাসীকে 'করোনার' বিপদে নিক্ষেপ এবং করোনা ভাইরাস বিস্তারের বাহন কেন করা হলো?
এদিকে তৈরি পোশাক কারখানাগুলো ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখতে মালিকদের প্রতি এই আহ্বান জানান বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক। রাতে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক অডিও বার্তায় গার্মেন্টস মালিকদের প্রতি এই আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে দেশে বর্তমান করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিকে ততটা গুরুত্ব দিচ্ছে না নিট গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) গার্মেন্টস মালিকরা। তাদের মতে, গার্মেন্টস খাত সব সময়ই ঝুঁকিপূর্ণ। এ বছর এ খাতের সবাই ক্ষতিগ্রস্ত। তাই গার্মেন্টস চালু করে যতটুকু ক্ষতি পোষানো যায়, সেটাই চেষ্টা চলছে। দেশে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তবে গার্মন্টসগুলোতে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারলেই করোনার ঝুঁকি কমবে।







0 মন্তব্যসমূহ