জীবনের ঝুঁকি যেনেও হেঁটেই শ্রমিকদের আগমন, অতঃপর গার্মেন্টস বন্ধের ডাক 😳

জীবনের ঝুঁকি যেনেও হেঁটেই শ্রমিকদের আগমন, অতঃপর গার্মেন্টস বন্ধের ডাক 😳

Latest Textile Desk|মোহাম্মদ ইমতিয়াজ খান


Facebook

#SaveWorkersSaveBangladesh

করোনা মহামারি ঠেকাতে গত ২৬ মার্চ থেকে সব ছুটি ঘোষণা করা হলেও গার্মেন্টস কারখানার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত দেয়নি সরকার। শনি ও রোববার কিছু কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত শোনার পর গতকাল শুক্রবার থেকে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকার পথে রওনা হন অনেক পোশাক শ্রমিক। গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় বেশিরভাগই হেঁটে রওনা হন।

ঢাকাগামী যাত্রীরা ক্ষোভের সঙ্গে জানান, গণপরিবহন না ছেড়ে এভাবে গার্মেন্টস খুলে দেয়া কোনোভাবে ঠিক হয়নি। একদিকে দুইশ' টাকার ভাড়া ৮০০-৯০০ টাকা। অন্যদিকে ৮ -১০ কিমি পথ হেঁটে পরিবার নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছা খুবই কষ্টকর।

তারা জানান, শুধু চাকরি আর বেতনের আশায় তারা ছুটছেন। চাকরিটা চলে গেলে তারা কি করে খাবেন।

সারাদেশে এরই মধ্যে চলছে অঘোষিত লকডাউন। মানুষকে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে ঘরে থাকার। এমনকি তা কার্যকর করতে রাস্তায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ ও সেনা সদস্যদের।

এমন পরিস্থিতিতেও তৈরি পোশাক কারখানা খোলা রাখার বিষয়টিকে শ্রমশক্তি ধ্বংসের পাঁয়তারা হিসেবে উল্লেখ করেছেন গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার।

যেখানে হাজার হাজার শ্রমিক এক সাথে কাজ করে সেখানে কীভাবে তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব সে বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তার মতে, কারখানা খোলা রেখে কোনোভাবেই শ্রমিকদের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা সম্ভব নয়।

‘এরকম একটা ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে আমাদের শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়াটা খুব অন্যায় হচ্ছে। আমাদের শ্রমশক্তির শ্রমিকদের নিঃশেষ করার পাঁয়তারা এটা বলে আমরা মনে করি,’ তিনি বলেন।

তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সাথে দাবি জানিয়েছেন যে, কারখানা বন্ধ থাকার সময় শ্রমিকদেরকে যাতে বেতন দেয়া হয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তৈরি পোশাক কারখানা শ্রম ঘন শিল্প হওয়ায়, এখানে সামাজিক দূরত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করা না গেলে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে না।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ডা. আফজালুন নেসা বলেন, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার এখনকার অবস্থাটাতে যদি আগের মতো কোনো ধরনের ব্যবস্থা না নিয়েই কাজ চলে তাহলে ঝুঁকি বাড়বে। তবে যদি যেসব স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ক পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে সেটি নিশ্চিত করা গেলে ঝুঁকি কমিয়ে আনা যেতে পারে।

অন্যদিকে তৈরি পোশাক কারখানাগুলো ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখতে মালিকদের প্রতি এই আহ্বান জানান বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক। রাতে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক অডিও বার্তায় গার্মেন্টস মালিকদের প্রতি এই আহ্বান জানান তিনি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ