![]() |
Latest Textile | Article Desk
রংয়ের কিছু টার্মস নিয়ে অল্প কিছু কথা বলব, যেগুলো আপনার রং নিয়ে যেমনটা ধারনা সেগুলো অনেক খানি পাল্টে দিবে।
▶️ রং প্রধানত দুই ধরনের। যথাঃ
✔️ ১। মৌলিক রং (Primary Color): প্রাইমারি কালার হচ্ছে যেগুলো অন্য কোনো রংয়ের মিশ্রনে তৈরি করা যায় না, অনেকটা প্রাইম নাম্বার এর মতো যেগুলো অন্য কোনো সংখ্যার গুনিতকে প্রকাশ করা যায় না!
মৌলিক রং গুলো হচ্ছেঃ নীল (Blue), লাল (Red), হলুদ (Yellow), সাদা (White), কালো (Black)!
✔️ ২. যৌগিক রং (Secondary Color): মৌকিল রং গুলোর মিশ্রনে যেই রং তৈরি করা যায় সেগুলো হচ্ছে যৌগিক রং অথবা সেকেন্ডারি কালার।
যৌগিক রং গুলো হচ্ছেঃ
লাল+হলুদ=কমলা
নীল+সাদা=আকাশি ইত্যাদি।
আবার টারসিয়ারি কালার (Tertiary Color) রয়েছে যা একটা প্রাইমারি কালার এবং একটা যৌগিক কালার এর মিশ্রন অথবা দুইটা যৌগিক কালার এর মিশ্রনে হয়ে থাকে।▶️ উৎসের উপর ভিত্তি করে রং দুই প্রকারঃ
✔️ ১। প্রকৃতিক রংঃ কৃত্রিম রং যখন আবিষ্কার হয়নি তখন উদ্ভিদ,প্রানী ও ধাতব পদার্থ থেকে যেসব রং ব্যবহার করা হতো তাকে প্রাকৃতিক রং বলে।
✔️ ২। কৃত্রিম রংঃ কৃত্রিম উপায়ে ল্যাবে যে রং তৈরি করা হয় সেগুলোই কৃত্রিম রং।
▶️ কৃত্রিম রং কে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়েছেঃ
✔️ ১। অম্ল বা (Acidic Dye): সুতা বস্ত্র রং করার বিভিন্ন ধরনের এসিড ব্যবহার করা হয় তাকে এসিড ডাই বলে। রেশম ও পশম তন্তু রং করনের ক্ষেত্রে ও এসিড ডাই ব্যবহার করা হয়। বাণিজ্যিকভাবে রং করনের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় বলে বস্ত্র শিল্পে এ জাতীয় রঙকে বাণিজ্যিক রং বলে।
✔️ ২। ক্ষার জাতীয় রং (Basic Dye): সুতি, লিনেন, রেয়ন ও পশম বস্ত্র রং করার ক্ষেত্রে এই রং ব্যবহার করা হয়। এটি প্রথম আবিষ্কৃত কৃত্রিম রং।এই রং যাতে সহজেই পানিতে মিশ্রিত হয় তাই এতে এ্যসিটিক এসিড ও ফিটকারি মিশ্রিত করা হয়।
✔️ ৩। প্রত্যক্ষ রং (Direct Dye): সুতি, লিনেন এবং রেয়ন তন্তুকে সরাসরি রং প্রয়োগের ক্ষেত্রে এই রং ব্যবহার করা হয়। আলোতে এই রংয়ের উজ্জ্বলতা থাকে না, ধোয়ার পর এই রং উঠে যায়।
✔️ ৪। ন্যাপথল বা এজোডাই: সুতি বস্ত্রের পাকার রং এবং বিভিন্ন ছাপার রং করতে এই রং ব্যবহার হয়ে থাকে,এই রং করার পর কাপড় ধুয়ে ফেলতে হয়।
✔️ ৫। ভ্যাট রং (Vat Dyes): সুতি, লিনেন ও রেয়ন বস্ত্রে এই রং প্রয়োগ করা হয়। ভ্যাট রং তিন ধরনের হয়- নীল ভ্যাট, অ্যানথ্রাকুইনোন ভ্যাট এবং সালফার ভ্যাট। বর্তমানে এ রং পাউডার হিসেবে বাজারে পাওয়া যায়। এই রং সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইড ও কস্টিক সোডার মিশ্রণের সাহায্যে পানিতে দ্রবীভূত করে বস্ত্রে প্রয়োগ করা হয়।
✔️ ৬। পিগমেন্ট রং (Pigment Color): এই রং ছাপার কাজে ব্যবহৃত হয়।
▶️ রং আবার ছয়টি ইলিমেন্টস এ বিভক্ত করা হয়ঃ
✔️ ১। ভেলু (Value): ভেলু (value) হচ্ছে একটা কালারের লাইটনেস অথবা ডার্কনেস,একটা কালার কতটা উজ্জ্বল অথবা ডার্ক সেটা হচ্ছে কালারের ভেলু।
✔️ ২। সেচুরেশন (Saturation): সেচুরেশন হচ্ছে কালারের ভাইভ্রেশন।
✔️ ৩। নিউট্রাল (Neutral): নিউট্রাল হচ্ছে ল্যাক অফ ভাইভ্রেশন অফ কালার।
✔️ ৪। টেম্পারেচার (Temperature): টেম্পারেচার অফ কালার সম্পর্কে আপনারা অনেকেই জানেন,বিভিন্ন এপস্ এ ছবি ইডিট করতে গেলে দেখবেন ছবির টেম্পারেচার বাড়ানো কমানো যায়,ওয়ার্ম- কুল।ওয়ার্ম বলতে লাল রংকে বোঝায়,লাল হচ্ছে কালার অফ সান।
✔️ ৫। টেক্সচার (Texture):কালরের যে সারফেস থাকে সেটা হচ্ছে টেক্সচার।
✔️ ৬। ওপসিটি (Opacity): একটা কালারের ভিতর দিয়ে কতটুকু আলো প্রবেশ করতে পারে সেটাই হচ্ছে একটা কালারের ওপাসিটি।
এখানে রং নিয়ে মৌলিক ধরনাকেই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এই জন্য কিছু কথা টেক্সটাইল রিলেটেড না ও মনে হতে পারে। তবুও আমাদের কালারের এই ধরনা গুলো থাকা প্রয়োজন, যা আমাদের রং নিয়ে কাজ করার সময় উপাকারি বলে মনে হবে।





0 মন্তব্যসমূহ