করোনা এলো, পোশাক শ্রমিকরা কি পেলো?

https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

করোনা এলো, পোশাক শ্রমিকরা কি পেলো?

Latest Textile | Md. Mahadi Hasan


বাংলাদেশে কোভিড -১৯ প্রথম সনাক্ত হয় ৮ মার্চ। এখন (২৭শে মে, ২০২০) পর্যন্ত সনাক্তকরণ হয়েছে ৩৮২৯২। মৃত্যু হয়েছে ৫৪৪ জনের।সুস্থ হয়েছেন ৭৯২৫ জন।

করোনার এই ক্রান্তিকালে দেশে প্রথম লকডাউন ঘোষনা করা হয় ২৫ মার্চ থেকে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাওয়ার লকডাউন কয়েকধাপে বাড়ানো হয়। লকডাউন হচ্ছে মানুষ যতটা সম্ভব তাদেরকে ঘরে রাখবে, পরিবহণ, মার্কেট, ইত্যাদি সব বন্ধ থাকবে। শুধু খাবার, মেডিসিন, ইত্যাদি নেয়ার বিশেষ প্রয়োজনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘর থেকে বের হবে।

কিন্তু যাদের ওপর দেশের অর্থনীতির সিংহভাগ নির্ভর করে, তারা কি পেল লকডাউনে! তাদের ক্ষেত্রে কেন লকডাউন ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হলো। তাদের জন্য কি লকডাউন প্রযোজ্য নয়! কেনবা এমনটা বলতেছি, কারন এই পরিস্থিতে কিছু গার্মেন্টস কারখানা চালু রাখা হয়েছে লকডাউন এর পুরো সময় ধরে। যা মিডিয়ায় হয়তো অনেকে শুনেছেন। কিছু কারখানা সীমিত সময়ের জন্যে বন্ধ রেখে, রাতে বিজিএমইএ এর নির্দেশনা ব্যতীত খোলা ঘোষনা দিয়ে সকালে বিজিএমইএ এর হস্তক্ষেপে বন্ধ ঘোষনা করা হলো!বিসয়টা এমন দারালো না, যে খেলোয়ার কর্নার কিক করলো, বেশ রেফারী গোল হওয়ার পর অফসাইড এর কল দিলো!! আগে থেকে সতর্ক করে দিলে কি হতো!!

পরে কি হলো!! কেউ আবার পায়ে হেটে বাড়ী আসলো। কেউ থেকে গেলো। কষ্ট যা পাবার পেলো। কিছুদিনের ব্যবধানে প্রায় সব কারখানা খুলে দেওয়া হলো। যারা যেতে পারলেন জয়েন করলেন। যারা পারেনি তাদেরকে ফোন দিয়ে শর্ত সাপেক্ষে চাকুরী থেকে ছাটাই করা হলো।যারা জয়েন করলেন ঈদের আগে বেতন বোনাস ১০০% অনেক কারখানা থেকেই দেয়া হয়নি। জীবনের ঝুকি নিয়ে কেউ করোনায় আক্রান্ত ও হয়েছেন। এটা হলো গার্মেন্টস মালিকদের কাছ থেকে তাদের পাওয়া।

এবার আসি, যাদের উপর দেশের ৮৪% অর্থনীতির ভিত নির্ভর করে, সরকার তাদের জন্যে কি করলো! প্রতিনিধি সমাজ, গবেষক সমাজ, অর্থনীতিবীদরা যারা বললেন শ্রমিকরা কাজ না করলে দেশের অর্থনীতি কিভাবে চলবে!! তাদের কাছে আমার প্রশ্ন! পোশাক শ্রমিকদের যদি দেশের অর্থনীতি সচল রাখার জন্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে হয়, তাহলে আপনার সরকারি অফিস বন্ধ কেন! আপনার বিসিএস ক্যাডাররা বাসায় চায়ে চুমুক দিচ্ছে আর লকডাউন এর কথা বলে খেটে খাওয়া মানুষকে গালি দিচ্ছে। যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে সম্পূর্ণ বেতন পেলোনা, কিন্তু আপনার সরকারি লোকেরা বাসায় বসে চা কেলিয়ে, আর ঘুমিয়ে বেতন পাচ্ছেন।
বিষয়টা এমন হলোনা, যে কেউ মরে বিল সেচে কেহ খায় কই!!
আপনাদের এ ব্যাপারে কোন নজরদারি দেখছিনা, কোন বরাদ্দ হচ্ছেনা!এ ব্যাপারে কোন ভূমিকাই নেই সরকাররের পক্ষথেকে।

তাহলে মালিক, সরকার, এবং ক্যাডার সমাজ থেকে শ্রমিকরা পেলো শুধু লাঞ্ছনা আর কষ্ট! কিন্তু এমন আর কতদিন! শুনুন, একটি বহুতল ভবনের টিকে থাকা নির্ভর করে নিচতলায় কতটা ভিত মজবুত করেছেন। কতটা কেয়ার নিতেছেন তার উপর। ভিত যদি ভেংগে যায় আপনার বহুতল ভবন মূল্যহীন হয়ে যাবে! আপনার নিচতলার এই শ্রমিকরা যদি একদিন ইতি টানে, রুখে দারায় এই অবিচারের বিরুদ্ধে! ভেংগে দেয় তাদের ৮৪ ট% অর্থনীতির ভিত! হাত গুটায়! ভেবে দেখছেন সেদিন, ক্যাডার, সিও, ডিসি, এডিসি, সচিব, মন্ত্রী, মিনিস্টার, সরকারি কর্মকর্তাদের, কি হবে!!

অবশ্য এমনটা হবেনা!! কিন্তু হতে কতক্ষণ!! ইতিহাস তো এমন হাজার ঘটানার সাক্ষী দিচ্ছে!! তাই একটু ভেবে দেখা উচিত এ ব্যাপার এ!!
শ্রমিকদের এই লাঞ্ছনা, আর কষ্ট কিছুটা হলেও দূর করা উচিৎ। আপনারা না দেখলে কে দেখবে এদের? আপনারাই তো জাতির মাথা!

Written by
Md. Mahadi Hasan
10th batch
Executive Ambassador - Latest Textile
Shahid Abdur Rab Serniabat Textile Engineering College, Barishal.

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ