টেক্সটাইলে "সিসাল ফাইবার" কি ও কেন?


Latest Textile | G.M. Abir Hossain

ন্যাচারাল ফাইবারগুলোর মধ্যে ব্যবহারের দিক দিয়ে সিসাল ফাইবার (Sisal Fiber) অন্যতম এবং এর চাষাবাদ পদ্ধতি ও খুব সহজ। সিসাল ফাইবার থেকে যে তন্তু পাওয়া যায় তা বিভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফাইবার টি উৎপাদিত হয়। কিন্তু তাদের মধ্যে প্রধান উৎপাদনকারী দেশ দুটি হলো ব্রাজিল এবং তানজানিয়া। বাংলাদেশের ও বিভিন্ন এলাকায় ফাইবার টি অল্প পরিমাণে উৎপাদিত হয়।

জকে আমরা জানবো সিসাল ফাইবারের শ্রেণীবিন্যাস, ব্যবহার, বৈশ্বিক উৎপাদন ও বানিজ্যের পরিমাণ ইত্যাদি সম্পর্কে।

💠বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
বৈজ্ঞানিক নাম: Agave Sisalana
প্রজাতি: আ. সিসালনা
দ্বিপদী নাম: আগাভা সিসালনা

💠 সিসাল যার বৈজ্ঞানিক নাম Agave Sisalana। এটি আগাভে প্রজাতির গাছ, যা মূলত দক্ষিণ মেক্সিকোতে পাওয়া যায়, কিন্তু সারা বিশ্বেই এর চাষাবাদ করা হয়। এ থেকে যে তন্তু পাওয়া যায়, তা নানা ধরনের পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। একে মাঝে মাঝে "সিসল শণ" হিসেবে অভিহিত করা হয়। শণ ফাইবার এর একটি প্রধান উৎস ছিল। সিসল ফাইবার ঐতিহ্যগতভাবে দড়ি এবং কুণ্ডলী সহ কাগজ, কাপড়, প্রাচীর পাতার কার্পেট তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়।

💠শ্রেণীবিন্যাস
সিসাল গাছে তলোয়ার আকৃতির লম্বা পাতা ১.৫-২ মিটার (৪.৯-৬.৬ ফুট) নকশাকৃত থাকে। কচি পাতার কিনার ধরে অনেকগুলো দাঁতের মত থাকে, কিন্তু পরিপক্ক হলে এগুলো হারিয়ে যায়। একটি সিসল উদ্ভিদ ৭-১০ বছরের জীবন লাভ করে এবং সাধারণত বাণিজ্যিকভাবে ২০০-২৫০ পাতার উৎপাদন করে। প্রতিটি গাছের পাতা থেকে প্রায় ১০০০-১২০০ তন্তু পাওয়া যায়। সিসল গাছের উৎপাদন ২৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ভাল হয়।

💠বৈশ্বিক উৎপাদন ও বানিজ্যের পরিমাণ
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফাইবার টি উৎপাদিত হলেও মূলত ব্রাজিল, চায়না, তানজানিয়া এবং কেনিয়া হচ্ছে প্রধান উৎপাদনকারী এবং রফতানিকারক দেশ।


২০০৭ সালে গ্লোবাল প্রকাশনায় সিসাল ফাইবার উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে ব্রাজিলকে বৃহত্তম উৎপাদক দেশ হিসেবে ঘোষণা করা হয় কারণ ব্রাজিলে সর্বোচ্চ ১১৩,০০০ টন উৎপাদিত হয় । তানজানিয়ায় ২৭.৬০০ টন উৎপাদিত হয়, কেনিয়ায় প্রায় ৩৭,০০০ টন, ভেনিজুয়েলাতে ১০,৫০০ টন এবং মাদাগাস্কারে ৯,০০০ টন উৎপাদিত হয়। চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মোজাম্বিক, হাইতি, এবং কিউবা দেশগুলোর মোট উৎপাদনের পরিমাণ ৪০,০০০ টন। সিসল গাছের তন্তু বিশ্বের প্রকাশনায় ২% প্রতিনিধিত্বমূলক এবং ফাইবার গাছগুলোর মধ্যে ৬ষ্ঠ স্থান দখল করে আছে। তাই বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক তন্তু হিসাবে সিসলকে গণ্য করা হয়।

💠ব্যবহার
সিসাল ফাইবার কে সিল্ক ফাইবারের প্রতিস্থাপক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। ঐতিহ্যগতভাবে সিসাল ফাইবার সাধারণত রত্ন ও দড়ি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এটি বিশেষ কাগজ, ফিল্টার, জিও টেক্সটাইল, গদি, গালিচা, প্রাচীরের আচ্ছাদন তৈরি এবং আসবাবপত্রের শক্তিবৃদ্ধি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনগুলির জন্য সিসালের ব্যবহার তার গ্রেড অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।

আরও পড়ুন

Writer:
G.M. Abir Hossain
Committee Manager - Latest Textile
Shyamoli Textile Engineering College (STEC)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ