
বিদ্যাপীঠ পর্যালোচনা 😍
বিদ্যাপীঠ: বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ।
আমি এই মুহূর্তে যে ক্যাম্পাসটির সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিবো তা খুব কম মানুষই চিনেন। আর যারা চিনেন তাদের মধ্যে অনেকেরই ধারণা এখানে মেয়েদের রান্না বান্না, হাতের কাজ, সেলাই, ঘর গুছানো, শিশু পালন ইত্যাদি এ জাতীয় কাজই শুধু শেখানো হয়। আজ এই লেখাটি পড়ার পর নিশ্চয়ই আপনাদের সেই ধারণাটি বদলে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।
▶️ যে ক্যাম্পাসটির কথা বলবো সেটি হচ্ছে "বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ"। অনেকের কাছে হয়তো নামটি নতুন লাগতে পারে। আবার অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে এর সাথে Latest Textile পরিবারের সম্পর্ক কি? চলুন আপনাদের সেই কৌতুহল ভাঙানো যাক।
বাংলাদেশের বর্তমান আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে মেয়েদের উচ্চ শিক্ষা প্রসারের ক্ষেত্রে গার্হস্থ্য অর্থনীতি শিক্ষার গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে ১৯৯৬ সালে “বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ” প্রতিষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাদানকল্প এই কলেজটি বেসরকারি হলেও ব্যক্তি মালিকানাধীন নয়। কলেজটি সরকারি অনুদান প্রাপ্ত (এম.পি.ও. ভুক্ত)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গঠিত গভর্নিং বডি দ্বারা কলেজটি পরিচালিত। এর সাততলা বিশিষ্ট ভবন ঢাকার গ্রীনরোড এলাকায় অবস্থিত। রায়ের বাজারে শিকদার মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন নিজস্ব জমিতে কলেজের আধুনিক ২য় ভবন নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত এই কলেজে গার্হস্থ্য অর্থনীতিতে বিএসসি (সম্মান) ৪ বছর মেয়াদি, বিএসসি (পাস) ৩ বছর মেয়াদি, এমএসসি (প্রিলি) ১ বছর মেয়াদি এবং এম.এস (ফাইনাল) ১ বছর মেয়াদি কোর্স রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে “বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ” এর সিলেবাস প্রণয়ন এবং শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এই কলেজের ছাত্রীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ইস্যুকৃত সনদপত্র প্রদান করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তনের মাধ্যমে ছাত্রীরা সনদপত্র গ্রহণ করে থাকে। এই প্রতিষ্ঠানের দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে ডাঃ হারুন কাদের ও মোঃ ইউসুফ শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করা হয়। প্রতিবছর মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীদের “চেয়ারম্যানস অ্যাওয়ার্ড” দেয়া হয়।
▶️ এই কলেজে পাঁচটি বিভাগ রয়েছে, এগুলো হলঃ খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান, গৃহ ব্যবস্থাপনা ও গৃহায়ন, শিশু বিকাশ ও সামাজিক সম্পর্ক, ব্যবহারিক শিল্পকলা, বস্ত্র পরিচ্ছদ ও বয়ন শিল্প। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট হতে ফরম পূরন করে গার্হস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এই কলেজে ভর্তি হতে হয়।
বস্ত্র পরিচ্ছদ ও বয়ন শিল্প (Clothing and Textile) বিভাগ হচ্ছে এমন একটি বিভাগ যেখানে পোশাক, পোশাক এর আনুষাঙ্গিক জিনিস এবং পোশাক উৎপাদনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকল পদ্ধতির বর্ণনা তুলে ধরা হয়। এর ফলে শিক্ষার্থীরা টেক্সটাইল সম্পর্কিত বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানতে পারে এবং নিজ-দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারে।
▶️ চার বছর মেয়াদি বিএসসি (অনার্স) এর ক্ষেত্রে এখানে নিম্নলিখিত কোর্সগুলো রয়েছেঃ
১.পারিবারিক পোশাক পরিচ্ছদের মূলনীতি
২.টেক্সটাইল শিল্পের কাঁচামাল
৩. ইয়ার্ন মেনুফ্যাকচারিং টেকনোলজি
৪. ফেব্রিক মেনুফ্যাকচারিং টেকনোলজী
৫. বেসিক ডিজাইন কনসেপ্ট
৬. ঐতিহাসিক পোশাক
৭. ফেব্রিক এর গঠন ও নকশা
৮.ফ্যাশন ডিজাইনিং
৯. গার্মেন্ট মেনুফ্যাকচারিং টেকনোলজি-১
১০. গার্মেন্ট মার্চেন্ডাইজিং
১১. গার্মেন্টস মেনুফ্যাকচারিং টেকনোলজি-২
১২. টেক্সটাইল টেষ্টিং ও কোয়ালিটি কন্ট্রোল
১৩. টেক্সটাইল ডাইং, প্রিন্টিং ও ফিনিশিং
১৪. এডভান্স ফ্যাশন ডিজাইনিং
১৫. টেক্সটাইল ও ফ্যাশন মার্কেটিং
১৬. ইন্ডাষ্ট্রিয়াল ম্যানেজম্যান্ট
১৭. পরিসংখ্যান ও প্রণালী বিজ্ঞান।
▶️ এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স কোর্স এর বিষয় গুলো হচ্ছেঃ
১. টেক্সটাইল ও কনজিওমার ইকোনমিক্স
২. কোয়ালিটি কন্ট্রোল ও এ্যাপারেল গার্মেন্টস টেকনোলজি
৩. গার্মেন্টসের মেইনটেনেন্স ও সেফটি
৪. ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা
৫. মানব সম্পদ পরিচালনা ইত্যাদি।
'ক্লদিং এন্ড টেক্সটাইল' গার্হস্থ্য অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই বিষয়ে উত্তীর্ণ একজন শিক্ষার্থী শৈল্পিক এবং প্রযুক্তিগত উভয় দক্ষতাই অর্জন করতে পারেন। এই বিষয় হতে পড়াশুনা শেষ করার পর শিক্ষার্থীদের যেমন রয়েছে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, তেমনি রয়েছে সরকারি বেসরকারি নানা কর্মক্ষেত্র। বস্ত্র পরিচ্ছদ ও বয়নশিল্প বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের কোর্স শেষে টেক্সটাইলের বিভিন্ন সেক্টরে কাজের সুযোগ পেয়ে থাকে। যেমন-টেক্সটাইল গবেষণা কেন্দ্র, ফ্যাশন ডিজাইনিং সেক্টর, কোয়ালিটি কন্ট্রোল সেক্টর, প্যাটার্ন ডিজাইনিং, স্পিনিং মিল, ডাইং ও প্রিন্টিং মিল, পণ্য উৎপাদন সেক্টর, রেডিমেড গার্মেন্টস সেক্টর, ফ্যাশন মার্কেটিং সেক্টর, টেক্সটাইল এডমিনিস্ট্রেশন সেক্টর ইত্যাদি।
তাছাড়া কেউ চাইলে তার ব্যবহারিক শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে নিজেই হয়ে উঠতে পারে একজন সফল উদ্যোক্তা বা ফ্যাশন ডিজাইনার।
মজার বিষয় হলো অন্যান্য টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীরা টেক্সটাইল এর যেকোনো একটি অংশ নিয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ পেলেও আমাদের বস্ত্র পরিচ্ছদ ও বয়নশিল্প বিভাগের শিক্ষার্থীদের শুধু একটি বিষয়ে সীমাবদ্ধ থাকার সুযোগ নেই। তাই আমাদের টেক্সটাইলের প্রত্যেকটি সেক্টর সম্পর্কে পড়াশুনা করার ও জানার সুযোগ রয়েছে ।
পরিশেষে বলতে পারি টেক্সটাইলের কাঁচামাল থেকে শুরু করে ফ্যাশন ডিজাইনিং বা বস্ত্র নকশাকরণ কোন ক্ষেত্রেই আমরা পিছিয়ে নেই।
Writer:
Chaity Deb Nath
Campus Ambassador - Latest Textile
Bangladesh Home Economics College




0 মন্তব্যসমূহ