
Latest Textile | Tasnim Parvin Toma
টেক্সটাইল এর সাথে সুতা ওতোপ্রোতো ভাবেই জড়িত তা আমরা সবাই কম বেশি জানি। কিন্তু সকল সুতার মধ্যে উলের সুতার বন্ধুত্ব টেক্সটাইল এর সাথে একটু বিশেষ ভাবে বলার মতো, বিশেষ করে বাংলাদেশের টেক্সটাইল বিভাগের ক্ষেত্রে।
আমি আজ বাংলাদেশের টেক্সটাইল এর সাথে উলের সুতার বিশেষ বন্ধুত্ব কিভাবে শুরু হল তাই আলোচনা করতে চলেছি।
আশির দশকের আগে অন্য সব এলাকার মতো এসব গ্রামের তাঁতিও সুতা কিনে গামছা-লুঙ্গি বানাতেন। দিন গড়ায়, সুতার দাম বাড়ে। আবার সুতার সংকটে বেকারও থাকতে হয় অনেক সময়। এ অবস্থায় সুতা কিনে কাপড় বুনে মুনাফা ঘরে তোলা কঠিন হয়ে পড়ে। সব মিলে দিন দিন বাড়তে থাকে ওই এলাকার তাঁতিদের জীবিকার যুদ্ধও। তারা চেষ্টা করতে থাকেন নতুন কিছু করার। সেই একই সময় গ্রামের অনেক নারী বিদেশ থেকে আসা পুরোনো উলের সোয়েটার থেকে সুতা খুলে কারুকাজ করতেন। পরে তারা কারুকাজ করা সুতা দিয়ে হাতে বুনানো বাচ্চাদের টুপি ও সোয়েটার তৈরি শুরু করেন। সুতার বিকল্প জোগান হিসেবে এ পদ্ধতি অনুসরণ করতে শুরু করেন এলাকার অনেক তাঁতি। তখন থেকে শুরু হয় শীতের কাপড় বোনা।
বিদেশি উলের কাপড় অনেক দুষ্প্রাপ্য ছিল তখন। আশার আলো আসে দেশের গার্মেন্ট শিল্প বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে। গার্মেন্টগুলোয় উলের কাপড় তৈরি শুরু হলে তাঁতিরা ছুটে আসেন ঝুটকাপড়ের টুকরো নিতে। ঝুটকাপড় সংগ্রহ করে নিয়ে যান নিজের এলাকায়। কাপড় থেকে সুতা ছাড়িয়ে রিসাইকেল করে সুতায় মনমতো রঙ দেওয়া শুরু করেন।রিসাইকেল শুরু হয় তাঁতবাড়িতেও। মেশিনের জন্য সুতা নাটাই করে নতুন কিছু তৈরি করতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন তাঁতিরা। বুনন শুরু হয় মোটা চাদরের। মুলত এভাবেই রিসাইকেল প্রক্রিয়ায় উলের সুতা ব্যবহার করে বাংলাদেশের টেক্সটাইল আজ অনেকটাই সমৃদ্ব।
Writer
Tasnim Toma
SKTEC-AE
Executive Ambassador




0 মন্তব্যসমূহ