
Latest Textile | Md. Ahasan Habib Uddin
ডেনিম বিশ্বের অন্যতম আইকনিক ফেব্রিক। ডেনিম একটি টেকসই ওভেন ফেব্রিক যা ১০০% কটন টুইল দ্বারা গঠিত।
এক বা একাধিক সেটের টানা বা ওয়ার্প ও পড়েন বা ওয়েফট সুতার সমবন্ধনির মাধ্যমে যে কাপড় বোনা হয় তা ই ওভেন ফেব্রিক। টানা বা ওয়ার্প সুতা পড়েন বা ওয়েফট সুতার চেয়ে মোটা থাকে এবং মাঝে মাঝে কাপড়ের ডিজাইন অনুযায়ী ভিন্ন হয়।
সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত ডেনিম হলো ইন্ডিগো বা ব্লু ডেনিম (Blue Denim Fabric)। ইন্ডিগো ডেনিমে নীল সুতাগুলো টানায় বা ওয়ার্প বরাবর থাকে এবং সাদা সুতাগুলো পড়েনে বা ওয়েফট বরাবর থাকে। ফেব্রিকে সুতার ডায়াগোনাল বা কোণাকুণি সারি তৈরি হয়।
অন্যদিকে সাধারণ ডেনিম থেকে তৈরি পোশাক কে বলা হয় জিন্স। তবে বর্তমানে জিন্স প্যন্টের পাশাপাশি শার্ট, জ্যাকেট, স্কার্ট, জুতা, বেল্ট ইত্যাদি তৈরি করা হচ্ছে।
▶️ ডেনিমের ইতিহাসঃ
'জিন্স' শব্দটি এসেছে ইতালির সমুদ্রবন্দর জেনোয়ার নাবিকদের কাছ থেকে। জেনোয়া শহরের নাবিকদের বলা হতো 'জিন' বা 'দৈত্য'। এ অঞ্চলের তাঁতিরা সার্জ নামক এক ধরনের মোটা সুতির কাপড় তৈরি করতো। ১৭ শতকে উত্তর ইতালিতে এই মোটা কাপড় শ্রমিকদের পোশাক হিসেবে ব্যবহার হতো। এই মোটা কাপড় দিয়ে বানানো পোশাক জেনোয়ার নাবিকেরাও ব্যবহার করতো।
১৮০৫ সালে জেনোয়া শহরে ফরাসি কনসুলেটের একটি বিভাগ ছিল এতে ফ্রান্সের সাথে জেনোয়ার ভালো যোগাযোগ ছিলো। ফ্রান্সের নিমস শহরের তাঁতিদেরও মোটা কাপড় তৈরির ঐতিহ্য ছিল। কিন্তু তা ছিল মধ্যম মানের অর্থাৎ জেনোয়ার তাঁতিদের তৈরি সুতির মোটা কাপড়ের চাইতে গুণগতমানে কিছুটা নিম্নমানের। নিমস শহরের তাঁতিরা জেনোয়ার তাঁতিদের অনুকরণে কিছুটা উন্নত কাপড় তৈরি করতে চেষ্টা করে সে সময়। এই অনুকরণ করতে গিয়েই তৈরি হয় ‘সার্জ ডি নিমস’। এর অর্থ ‘নিম শহরের সার্জ’। একে সংক্ষিপ্ত করে বলা হয় ‘ডি নিম’ বা ‘ডেনিম’।
![]() |
| First Jeans |
ডেনিম বা জিন্স কে আমেরিকায় জনপ্রিয় করেন লেভি স্ট্রস। ১৮২৯ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারি জার্মানির বাভারিয়ান প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন। ১৮৪৬ সালে লেভি স্ট্রস ভাগ্যের অন্বেষণে জার্মানি থেকে নিউইয়র্কে পাড়ি জমিয়েছিলেন। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে আমেরিকায় গোল্ড রাশ চলছিলো। ১৮৫৩ সালে লেভি স্ট্রস সান ফ্রান্সিসকো চলে আসেন এবং শুকনো দ্রব্যাদির ব্যবসা শুরু করেন। সেখানে তিনি অন্যান্য জিনিসের পাশাপাশি সুতি কাপড় বিক্রি শুরু করেছিলেন। তার একজন গ্রাহক ছিলেন জ্যাকব ডেভিস যিনি পেশায় একজন দর্জি এবং তিনি আমেরিকার নেভাদা অঙ্গরাজ্যের রেনো শহরে বসবাস করতেন। ডেভিস তাঁবু, ঘোড়ার কম্বল ও মালগাড়ির পর্দা তৈরি করতেন।
একদিন ডেভিসের একজন গ্রাহক একজোড়া প্যান্ট বানানোর অর্ডার দিয়েছিলেন যাতে প্যান্ট অনেক টেকসই হয়। তিনি প্যান্ট তৈরি করেছিলেন ডেনিম ফেব্রিক দিয়ে এবং এই ডেনিম ফেব্রিক কিনেছিলেন লেভি স্ট্রসের কাছ থেকে। প্যান্টের যেসব জায়গা বেশি ছিড়ে যায় এমন জায়গাগুলোতে তামার পাত বা রিভেট লাগান এতে করে প্যান্ট অনেক টেকসই হয়।
এই প্যান্টের পেটেন্ট নেওয়ার জন্য ডেভিস আবেদন করলে তার একজন অংশীদারের প্রয়োজন হয়। ডেভিসের মনে পড়ে লেভি স্ট্রসের কথা। তিনি তাকে চিঠি লিখে নিজের ব্যবসার অংশীদার হওয়ার কথা জানালে স্ট্রস সাথে সাথে রাজি হয়ে যায়। এর পর থেকে লেভি স্ট্রস ও জ্যাকব ডেভিস যৌথভাবে খনির শ্রমিকদের জন্য তামার পাত বা রিভেটযুক্ত মোটা কাপড়ের প্যান্ট তৈরি করতে থাকেন। এভাবেই প্রতিষ্ঠা হয় পৃথিবীর বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ‘লেভি স্ট্রস অ্যান্ড কোম্পানি’।
▶️ ডেনিম ফেব্রিকের কিছু বৈশিষ্ট্যঃ
ii. ডেনিম ফেব্রিকে সহজে ক্রিজ পড়ে না।
iii. সাধারণত ওয়ার্প বা টানা সুতাগুলো রঙিন এবং
iv. ওয়েফট বা পড়েন সুতাগুলো সাদা হয়।
v. পরিধানের সময় শক্ত সুরক্ষা দেয়।
vi. ডেনিম ওয়ার্প ফেইসড টুইল, রঙিন সুতাগুলো ফেইস বা সম্মুখে থাকে এবং সাদা সুতাগুলো ব্যাক বা পিছনে থাকে।
▶️ ডেনিমের প্রকারভেদঃ
বিভিন্ন ধরণের ডেনিম ফেব্রিক রয়েছে। সেগুলি নীচে দেওয়া হল:
i. Raw Denim.
ii. Sanforized Denim.
iii. Stretch Denim.
iv. Crushed Denim.
v. Selvedge Denim.
vi. Acid Wash Denim.
vii. Poly Denim.
viii. Ring Spun Denim.
ix. Ring Denim.
x. Reverse Denim.
xi. Printed Denim.
xii. Over Twisted Denim.
xiii. Cotton Serge Denim.
xiv. Natural Denim.
▶️ বিশ্বের সেরা ১০টি ডেনিম ব্র্যান্ডঃ
I. Levi’s.
ii. Wrangler.
iii. Diesel.
iv. Lee Jeans.
v. Pepe Jeans.
vi. True Religion.
vii. Calvin Klein.
viii. Armani Jeans.
ix. Guess Jeans.
x. Gucci Jeans.
▶️ আধুনিক ফ্যাশন জগতের একক অধিপতি বলা যায় ডেনিম জিন্সকে। পরতে আরাম, দীর্ঘ টেকসই ও সারাবছর ব্যবহার করার সুবিধায় ডেনিমের চাহিদা বিশ্বব্যাপী। পরিষ্কার করার ঝামেলা কম, এ কারণে সব বয়স ও শ্রেণির কাছে ডেনিম জনপ্রিয়। বর্তমানে ডেনিম ছাড়া আর ফ্যাশন হয় না বললেই চলে।একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, পশ্চিমা বিশ্বের প্রতি তিনজনে একজন ডেনিম পরিধান করেন। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের নিত্য ফ্যাশনে তামার রিভেটের ডেনিম অপরিহার্য অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে ডেনিম জিন্সের পাশাপাশি শার্ট, জ্যাকেট, হেলমেট, স্কার্ফ, গ্লাবস, সানগ্লাসের ফ্রেম,ডেনিম মুখ মাস্ক, ব্যাগ, জুতা সহ আরো অনেক পণ্য তৈরি হচ্ছে।
Writer
Md. Ahasan Habib Uddin
Assistant Committee ManagerDepartment of Textile Engineering
Ahsanullah University of Science and Technology (AUST)






0 মন্তব্যসমূহ