আধুনিক তাঁতকল বৃত্তান্ত - Modern Loom


Latest Textile | Md. Rabin Hossain

দিকাল থেকেই মানুষ পোশাকের প্রতি যত্নশীল। কিভাবে কাপড় গুলা আরও মানসম্মত হয়, আরামদায়ক হয় সে জন্য টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারগন সব সময় কাজ করে যাচ্ছে।
পূর্বে কাপড় তৈরি করা হত একভাবে এখন করা হয় আধুনিক ভাবে। সকল সেক্টরে যেমন আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে ঠিক তেমন ভাবে আমাদের লুম গুলা ও আধুনিক হয়েছে। আজ আমি আপনাদের সামনে আধুনিক লুম নিয়ে কথা বলব।

Modern Loom কি?

➡আধুনিক তাঁতকল(মর্ডান লুম):
লুম বা তাঁতকল একধরনের মেশিন বা যন্ত্র যার সাহায্যে ওয়ার্প ইয়ার্ন ও ওয়েফর্টেড ইয়ার্ন বুননের মাধ্যমে ওভেন ফেব্রিক প্রস্তুত করা হয়। সাধারণ হ্যান্ড লুমে শাটোল ব্যবহার করা হলেও মর্ডান লুমে শাটোল ব্যাবহার করা হয় না। বিংশ শতাব্দীতে মর্ডান লুমের উন্নতি সাধন করা হয়। 

মর্ডান লুমের বৈশিষ্ট্য:

➡এই তাঁতকল জামদানী কাপড় বুননের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
➡আধুনিক লুমে প্রায় ১২ রঙের ওয়েফর্টেড ইয়ার্ন ব্যাবহার করা হয়। 
➡অন্যান্য লুমের তুলনায় মডার্ন লুমের উৎপাদন হার অনেক বেশি। 
➡মর্ডান লুম বৈদ্যুতিক ভাবে চলনা করা হয় যার ফলে ইন্ডাস্ট্রির কাপড় উৎপাদনের পরিমান বাড়ছে। 

প্রকারভেদ:

বিভিন্ন প্রকারের মর্ডান লুমঃ

➡রেপিয়ার লুম (Rapier Loom):
 ১৮৪৪ সালের দিকে যাত্রা শুরু হলেও ১৯৬০ সালের দিকে এই লুমের বানিজ্যিক যাত্রা শুরু হয়। ওয়েফর্ট প্যাটার্নিং এর কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যাবহার করা হয়। এই লুমের উৎপাদনার হার ২০০-২৬০পিপিএম। আদর্শ রেপিয়ারের দৈর্ঘ্য ১৯০সেমি হয়ে থাকে । এই ধরনের লুমের নয়েজ লেভেলে কিছুটা প্রোজেক্টাইল লুমের মতো হয়ে থাকে।

➡এ্যায়ার জেট লুম (Air Jet Loom):
বিংশ শতাব্দীতে চেকোস্লোভাকিয়া প্রথম এই আধুনিক তাঁতকল ব্যবহার করে। এই ধরনের লুমের সাহায্যে অনেক জটিল ডিজাইনের কাপড় প্রস্তুত করা হয়। ফাইনার কাউন্টের ওয়েফর্ট ইয়ার্ন ব্যাবহার করে ফেনসি কোয়ালিটির ফেব্রিক প্রস্তুত করতে এটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়। এই ধরনের লুমের ওয়েফর্ট সন্নিবেশে ৮ প্রকার ইয়ার্ন ব্যাবহার করা হয় । সাধারণ ও উজ্জ্বল লাইট কাপড় বুননের কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়। উৎপাদন হা ৬০০ পিপিএম। 

➡ওয়াটার জেট লুম (Water Jet Loom):
 ১৯৬০ সালের দিকে জাপান বানিজ্যিক ভাবে এই লুম প্রথম ব্যবহার করে । তবে এশিয়ায় এই লুমের প্রচলন সবচেয়ে বেশি অন্যান্য মর্ডান লুমের তুলনায়। এই লুমে সিনথেটিক ফিলামেন্ট যেমন; পলিস্টার, নাইলন, গ্লাস, কার্বন, টেসলন ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। প্রোডাকশন হার ৬০০ পিপিএম। এই লুমে ওয়েফট ইয়ার্নে ব্যাবহৃত প্যাকেজের ওজন ৩.৬-৪ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এই লুমের নয়েজ লেভেল রেপিয়ার লুমের তুলনায় অনেক কম হয়ে থাকে।

প্রজেক্টাইল লুম (Projectile Loom):
 ফ্যাশান যুক্ত ফেব্রিক প্রস্তুত করতে বহুল পরিমাণে প্রচলিত। এটি চলনার জন্য ৩ kw- hr বৈদ্যুতিক শক্তির প্রয়োজন । এটি চালনার জন্যে ১১ থেকে ১৭ টি প্রজেক্টাইল ব্যবহার করা হয়। এর নয়েজ লেভেল তুলনামূলক ভাবে অন্যান্য মর্ডান লুমের তুলনায় অনেক কম । 

আরও পড়ুন


আধুনিক তাঁতকল (Modern Loom) এর কিছু পরিচিতি মূলক নাম (Brand Name) ও আবিষ্কৃত দেশের নামসমূহঃ
 ➡সুলজার(Sulzer)- সুইজারল্যান্ড 
➡পিকানল(Picanol)-বেলজিয়াম 
➡টয়োডা( Toyoda)- জাপান
➡এইচবি(HB)- চীন
➡ভামাটেক্স(Vamatex)- ইতালি

Writer:
Md. Rabin Hossain
Executive Ambassador - Latest Textile
Sheikh Kamal Textile Engineering College (SKTEC)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ