চলছেই লক্ষ পোশাক কর্মী ছাঁটাই, অর্থহীন মানববন্ধন?


Latest Textile | নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনা মহামারীর অজুহাতে কারখানা মালিকদের গৃহীত খরচ কমানোর হৃদয়হীন পদক্ষেপের কারণে ঈদুল ফিতরের পর টেক্সটাইল ও রেডিমেড গার্মেন্টস সেক্টরের মোট ১৯,৪০৯ জন শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। 

তবে শ্রমিক নেতারা বলেছেন যে, ঈদের পর চাকরি হারানো শ্রমিকের সংখ্যা সরকারী তথ্যের চেয়ে অনেক অনেক বেশী হবে, কারণ কারখানায় কাজ কমে যাওয়া অজুহাতের ঘটনা কোন নোটিশ ছাড়াই ঘটছে।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে প্রায় ১৯,৪০৯ শ্রমিকদের মধ্যে প্রায় ১১,০০০ জন ছাঁটাই করে ফেলা হয়েছে।

মোট বরখাস্ত কৃত শ্রমিকদের মধ্যে ১৬,৮৫৩ জন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (BGMEA) ৮৬টি কারখানা থেকে, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (BKMEA) তালিকাভুক্ত ১৬টি কারখানার মধ্যে ২,২৯৮টি এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (BTMA) অধীনে চারটি মিলের ২৫৮টি কারখানা রয়েছে। (Source: NewAge)

শিল্প পুলিশের এখতিয়ারের বাইরে শত শত শিল্প ইউনিট আছে এবং ইউনিটের শ্রমিকদের তথ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না।

তথ্য বলছে, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথরিটির অধীনে ৮টি কারখানার ৫৬ জন শ্রমিক এবং ১৫টি নন-আরএমজি ইউনিটের ১,৮৬৬ জন শ্রমিককে ঈদের পর আটকে রাখা হয়েছে।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন যে, "যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আমরা প্রতিদিন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি"।

সোমলিটো গার্মেন্টস শ্রামিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার বলেন, যে সব শ্রমিক এক বছরের কম কাজ করছেন, তারা চাকরি ছাঁটাইয়ের সবচেয়ে বেশি শিকার, কারণ তারা আইন অনুযায়ী কোন ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী নন।

তথ্য দেখাচ্ছে যে ১৯,৪০৯ জন শ্রমিকের মধ্যে ১৩,৯৪২ জন শ্রমিকের কাজের মেয়াদ এক বছরের কম ছিল।

এদিকে বুধবার (১৭ জুন) ঢাকার উত্তরায় বেতন পরিশোধ না করে গার্মেন্টস বন্ধ করে দেয়ার প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের মতো মহাসড়ক অবরোধ করেছে শ্রমিকরা। (Source: SAtv) 

সকাল সাড়ে নয়টা থেকে পোশাক শ্রমিকরা উত্তরার আজমপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। শ্রমিকরা জানান, আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা শান্তা গার্মেন্টসের মালিক এখনও পরিশোধ করেননি।

এ বিষয়ে শ্রমিকরা মালিকের সঙ্গে গার্মেন্টসে আলোচনা করতে চাইলেও মালিক পক্ষ বসতে রাজি না হওয়ায় পাওনা টাকা আদায়ের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে তারা। এতে সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

পরে পুলিশ শ্রমিকদের ধাওয়া ও লাঠিপেটা করে এবং টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে দুপুর সাড়ে ১২টার পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

অন্য দিকে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে মানবন্ধন করেছে বরিশালের সোনারগাঁ টেক্সটাইল মিল এবং অলিম্পিক সিমেন্টের শ্রমিক-কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদ।

বুধবার (১৭ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় নগরের সদর রোডে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানবন্ধনে তারা বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি জানান। (তথ্য সুত্র: যুগান্তর)

তারা বলেন, "আমাদের মে ও এপ্রিল মাসের বেতন, ঈদ বোনাসসহ যাবতীয় পাওনা দাবি করা হলে তারা আমাদের ভয়-ভীতি ও হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯ প্রাণঘাতী করোনার মধ্যে মালিকপক্ষের স্বেচ্ছাচারীতায় মিল-করাখানা বন্ধ করে দেয়ার কারণে আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপাকে আছি"।

এছাড়াও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ৮টায় টঙ্গীর হোসেন মার্কেট বিএইচআইএস গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকরা কারখানা গেটে অবস্থান করে বিক্ষোভ মিছিল ও করেছে। (তথ্য সুত্র: জনকণ্ঠ) 

ভুক্তভোগী শ্রমিকরা বলেন, শ্রমিকরা যাতে বড় ধরনের আন্দোলনে যেতে না পারে এমন কৌশলে মালিক পক্ষ দু'একজন করে শ্রমিক প্রতিদিনই ছাঁটাই করে চলেছে। শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদ করতে গেলেই শ্রমিকদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দিয়ে হয়রানী করছে মালিক পক্ষ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ