Latest Textile | Habibur Rahman
(বাংলা ভাষায় লিন মেথড "কানবান" শিক্ষার একটা প্রয়াস আমার এই লিখা)
জাপানীজ "কানবান মেথড (Kanban Method)" সম্বন্ধে আমরা সকলে মােটামুটি এখন জানি। আজকের লিখা টা বাংলায় লীন মেথড "কানবান প্রব্লেম সলভিং" এর একটা ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা মাত্র।
▶️ কানবান হল একটা প্রব্লেম সলভিং বড় নোটিশ বোর্ড। আপনি আপনার সমস্যা গুলো লিখবেন, সমস্যা দূরীকরণের পদক্ষেপ গুলো লিখবেন। কতটুকু প্রগ্রেস করতে পারলেন, সেটা লিখে রাখবেন, পরীক্ষা নিরীক্ষা, রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট করতে হবে কিনা এই সমস্যা সমাধানে তাও লিখে রাখতে হবে। সর্বশেষে কাজটা সুচারুরূপে এবং সফলভাবে সম্পাদিত হলো কি না, ফলাফল লিখে রাখবেন।
▶️ কানবান আপনাকে লীন এর আর একটা উল্লেখযোগ্য মেথড "জাস্ট ইন টাইম ম্যানুফ্যাকচারিং" বা "সময়ের কাজ সময়ে সম্পাদন করা" কে খুব কার্যকরীভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করবে।
▶️ নিম্নে বর্ণিত পদক্ষেপ সমূহ একটু মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করলে দেখবেন অত্যন্ত সহজ ও স্বাভাবিক ভাবেই আপনার নিজের এবং আপনার প্রতিষ্ঠানের সমস্যা ও সমাধান সত্যিই সম্ভব।
✔️সকল ম্যানেজার কে একটা গুগল স্প্রেড শিট এ তাদের সকল প্রকার সমস্যা, পেরেশানি, অন্যান্য ডিপার্টমেন্টের অসহযোগিতা, বড় বড় স্যার দের চোখ রাঙানি, ইত্যাদি নানা প্রকার কষ্ট সমূহ মন প্রাণ উজাড় করে পরিপূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে লিখার সুযোগ দিন। আপনি যদি পূর্ণাঙ্গ ও গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা দিয়ে তাদের কাছ থেকে লিখিয়ে নিতে পারেন তাহলে আপনার প্রতিষ্ঠানের ৫০% সমস্যার সমাধান হয়েই গেলো আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি।
✔️সকল ম্যানেজারের কাছে তাদের পেরেশানির একটা লিষ্ট সংগ্রহ করতে পারলেই আপনি হতভম্ব হয়ে যাবেন, এতো শত সমস্যা লুকায়িত ছিল ? আর অনেকগুলোই খুবই নগন্য সমস্যা ! আগামী কালের মধ্যেই সমাধান যোগ্য। এতদিন কেউ যেন দেখার ছিলোনা !
✔️আপনার কারখানায় একটা বড় মিটিং রুমের দরকার বেশ কয়েক মাসের জন্য। প্রথমে রুম টা সিলগালা করে সুরক্ষিত করে নিবেন , অনেকেই আমরা হীনমন্যতায় ভুগতে পারি এত শত সমস্যা যদি আমার কাস্টমার দেখে ফেলে মানসম্মান থাকবেনা। আমি তো প্রতি বছর রপ্তানি ট্রফি পাওয়া কোম্পানি !
✔️আপনার কারখানায় একটা বড় মিটিং রুমের দেয়ালে পেরেশানি গুলো এক কথায় প্রকাশ করে, লাল রংয়ের কালী দিয়ে প্রিন্ট করে ফ্রেমে টানিয়ে রাখুন। চৈতে দেখুন আমি কিভাবে ফ্রেম করে টানিয়েছিলাম। এবং ভুলে ও প্রিন্টারের সাদা কাগজে প্রিন্ট করে দেয়ালে লেপ্টিয়ে দেবেন না , সমস্যা গুলোকে সম্মান করুন। ফ্রেমে বাধাই বাধ্যতামূলক !
✔️তাহলে আমরা পেরেশানির কানবান বোর্ড পেয়ে গেলাম। কারখানার সমস্ত সমস্যার একটা পূর্ণাঙ্গ লিস্ট ও পেয়ে গেলাম।
![]() |
| kanban |
✔️এইবার এক এক করে সমস্যা গুলো সিলেক্ট করেন, এবং প্রায়রিটি সেট করে নিতে হবে কোন সমস্যার সমাধান আগে করবো।
▶️নিম্নোক্ত কয়েকটা লিন টুল সুচিন্তিত ও সঠিক প্রয়োগ সমস্যা গুলোকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসবেই।
▶️DMAIC : Define, Measure, Analyse, Improve, Control.
✔️DEFINE : সমস্যা গুলো ডিফাইন হয়ে গেল, এরপর আমাদের কাজ করতে হবে মেজার করা,
✔️MEASURE : কোন টা নিয়ে কি কাজ করবো, আপাতত কতটুকু করবো ইত্যাদি বিষয় নির্ধারণ করে ফেলা। এবং অবশ্যই শুরুতে "Keep it Simple" এর নীতি মেনে চলা। এরপর আমাদের ROOT CAUSE ANALYSIS করতে হবে। এইটাও আর একটা লিন টুল। যে কোন সমস্যা ও সমস্যা সৃষ্টি কারীকে "5 why" প্রশ্ন করুন (এইটাও আর একটা লিন টুল।) দেখবেন তার কাছ থেকেই সমাধান বেরিয়ে আসছে।
✔️ANALYSE : এরপর আপনাদের POKA YOKE নিয়ে কাজ শুরু করতে হবে ( এইটাও আর একটা লিন টুল।) এই একই প্রকারের সমস্যা যাতে আবার না হয় , আবার যাতে আমাদের গাফিলতির জন্য কোম্পানি সাফার না করে তা নিশ্চিত করতে পারা টাই হল এই মেথডের কাজ।
✔️IMPROVE : প্রতিদিন ইমপ্রুভমেন্ট গুলো চেক করতে হবে, খুঁটিনাটি খেয়াল করতে হবে, লার্নিং কার্ভ গুলো সঠিকভাবে উঠছে কি না তা খেয়াল রাখাটা খুব জরুরি।
✔️CONTROL : সর্ব শেষ স্টেপ হল কন্ট্রোল , কিছু সমস্যা আছে দূর হবেনা , কিন্তু ডায়াবেটিস এর মত নিয়ন্ত্রণে রাখা তো যাবে ! এই কাজটা খুব গুরুত্বপূর্ণ সকল সমস্যার যে সমাধান অর্জন করলাম তা টিকিয়ে রাখা। স্বাধীনতা অর্জনের চাইতে স্বাধীনতা রক্ষা করার যে চ্যালেঞ্জ , ঠিক সেই রকম।
৬ মাস পরে দেখবেন কিছু সমস্যা একেবারে বিলীন হয়ে গিয়েছে , সেই সমস্যা গুলো সবুজ কালার করে ফেলুন, ওই ব্যক্তি বা বা ওই টিমটাকে পুরস্কৃত করুন।
![]() |
| Glass Board |
▶️ ৮ মাস পরে দেখবেন কিছু সমস্যা রয়েই যাচ্ছে , কোনো ভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছেনা। এটা তো মানেন যে কিছু সমস্যা আছে দূর হবেনা, কিন্তু ডায়াবেটিস এর মত নিয়ন্ত্রণে রাখা তো যাবে! মেইনটেইন করা শিখতে হবে। এই সমস্যা গুলোকে হলুদ রং করে ফেলুন। হলুদ রং করতে পারার জন্য ও টিম কে অবশ্যই পুরস্কৃত করতে ভুলবেন না।
কিছু সমস্যা কবে শেষ হবে বলতে পারবোনা আমি নিজেও। যেমন চট্টগ্রাম বন্দরে জট , ঢাকা এয়ারপোর্টে মাল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা, হরতাল আগামী বৃহস্পতিবার, সিনিয়র অপারেটর আসেনাই, একসিডেন্ট ইত্যাদির কথা বলছি।
এইভাবে একটু চেষ্টা করে দেখেন গ্যারান্টী দিলাম আপনার কারখানার ২০% এক্সপোর্ট কোয়ান্টিটি বেড়ে যাবে ইনশা আল্লাহ।
তিন দশকের সমস্যা সমাধানে একটু কষ্ট আছে বৈ কি, কিন্তু মেনে নিতে হবে। দেশের ২০% এক্সপোর্ট বাড়াতে একটু কষ্ট করি না চলুন !
আরো বিস্তারিত জানতে চাইলে অনলাইন মিটিংয়ে এই প্রজেক্ট শুরু করা সম্ভব, কয়েক জায়গায় ইতোমধ্যে কাজ করার সফলতাও আছে ইনশা আল্লাহ।
Writer:Habibur RahmanSmart Factory 4.0 Consultant for Textile Apparel Industries;County Head, Quantity Improvement Solutions;Founder, Jobs For U.






0 মন্তব্যসমূহ