Latest Textile | Mohammad Imtiaz Khan
বন্ধ, ছাঁটাই, বেতনহীন নয়তো জীবন যাওয়ার আশঙ্কা, চতুর্মুখী সংকটে গার্মেন্টস কর্মীরা!
বেপারটা এমন যে আপনার কারখানা হয়তো বন্ধ হয়ে গিয়েছে, না হলে আপনাকে ছাঁটাই করা হয়েছে, না হলে আপনি কাজ করছেন কিন্তু বেতন আর পাচ্ছেন নাহ্, তা নাহলে করোনা ভাইরাসের জীবন যাওয়ার আশঙ্কা আপনাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে!
যেখানে করোনা, বাজেটে দামের উর্ধমুখীর দাপটে ঢাকা মহানগরীতে বেতন পেয়েই টিকে থাকা কষ্ট সাধ্য, সেখানে মে মাসেরই বেতন হয়নি অনেক কারখানায়। এদিকে জুলাই মাস হতে বাকি আছে মাত্র তিনদিন! তার উপরতো বিনা নোটিশে কারখানা বন্ধ, ছাঁটাই নাটক অহরহ!
দেশে করোনাভাইরাস সংকট শুরুর পর বিজিএমই (BGMEA) এর সদস্যভুক্ত ৩৪৮টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। করোনাভাইরাসের সূচনাকালে বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত পোশাক কারখানার সংখ্যা ছিল দুই হাজার ২৭৪টি। বর্তমানে সচল কারখানার সংখ্যা এক হাজার ৯২৬টিতে।
পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর দেওয়া সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, সারা দেশে শ্রমিকদের মে মাসের বেতন পরিশোধ করেছে এক হাজার ৮৫৫টি পোশাক কারখানা। অন্যদিকে বেতন পরিশোধ করেনি ৭১টি কারখানা। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীর রয়েছে ১৯টি। এই ৭১টি কারখানায় গত এপ্রিল মাসেও শতভাগ বেতন পরিশোধ করা হয়নি।
বেশিরভাগ পোশাক কারখানাই এপ্রিলের পর মে মাসের বেতনও সরকারের দেওয়া ৫ হাজার কোটি টাকার স্বল্প সুদের ঋণ তহবিল থেকে দিয়েছে। জুন মাসের বেতনও একইভাবে দেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার জন্যই আবার সহজ শর্তে ঋণ চেয়েছে মালিকেরা!
বিজিএমইএর তালিকা অনুসারে ঢাকা মহানগরীর ৩৩৩টি পোশাক কারখানার মধ্যে ৩১৪টি ইতোমধ্যে বেতন পরিশোধ করেছে, বাকি রয়েছে আরও ১৯টি। গাজীপুর অঞ্চলে ৭১৩টি কারখানার মধ্যে ৬৯৩টি বেতন দিয়েছে, বাকি রয়েছে ২০টি। সাভার-আশুলিয়া এলাকার ৪১২টি কারখানার মধ্যে ৩৯৭টি বেতন পরিশোধ করেছে, বাকি রয়েছে আরও ১৫টি। চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিজিএমইএভুক্ত ২৫২টি কারখানার মধ্যে ২৪০টিতেই বেতন পরিশোধ করা হয়েছে, বাকি আছে আরও ১২টি। নারায়ণগঞ্জ এলাকায় ১৯৮টি কারখানার মধ্যে ১৯৬টিতে বেতন দেওয়া হয়েছে, বাকি রয়েছে আরও দুটি। এছাড়া অন্যান্য প্রত্যন্ত অঞ্চলের ১৮টি কারখানার মধ্যে ১৫টিতে বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। (সূত্র: BGMEA)
![]() |
এদিকে করোনাভাইরাসের কারণে ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিত হওয়ার জের ধরে শ্রমিক ছাঁটাই বাড়ছে। কেবল চলতি মাসের প্রথম তিন সপ্তাহে ৪৬ পোশাক কারখানার ১০ হাজার ৯০৯ জন শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছেন। তাতে প্রতিদিন গড়ে ৫১৯ জন শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। বস্ত্র খাতের ছাঁটাই ধরলে সংখ্যাটি দিনে ৫৩১-এ দাঁড়ায়। (সূত্র: শিল্প পুলিশ)
বয়স্ক ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদেরও ছাঁটাই করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটির (বিসিডব্লিউএস) নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আক্তার বলেন, ‘করোনার শুরুর দিকে চাকরির বয়স ১ বছরের কম, এমন শ্রমিকদের ছাঁটাই করার কথা বলেছিলেন মালিকেরা। তবে বর্তমানে ৫-৬ বছরের পুরোনোদের ছাঁটাই করা হচ্ছে। সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে। শ্রমিকেরা আইন অনুযায়ী যে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কথা, তার চেয়ে কম দেওয়া হচ্ছে।’ (সূত্র: প্রথম আলো)
এমত অবস্থায় টেক্সটাইল সেক্টরের ভবিষ্যত নিয়ে একটু বেশি চিন্তা ভাবনা করার অনুরোধ রইলো দেশের মস্তিষ্কদের প্রতি! তা নাহলে দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি পোশাক রপ্তানির সক্ষমতা আমরা হারিয়ে ফেলবে অচিরেই!






0 মন্তব্যসমূহ