করােনা পরবর্তী প্রস্তাবনা-২, উৎপাদন বৃদ্ধির পদ্ধতি


Latest Textile | Habibur Rahman


আজকের বিষয় টা অনেকদিনের একটা উপেক্ষিত বিষয়ের পর্যালোচনা। আমরা অনেকগুলো বিষয়ে কিন্তু চরমতম উদ্বিগ্ন, বিগত তিন দশক হল আমাদের আলোচ্য বিষয় সমূহের ভিতর প্রধান আলোচ্য বিষয় হল প্রোডাক্টিভিটি আর ইফিসিয়েন্সী।

নানান দেশের নানান বিজ্ঞ জনদের আমাদের দেশে আনাগোনা তিন দশক ধরেই, এবং তাদের গবেষণালব্ধ ভিন্ন ভিন্ন মেথডে আমাদের অবস্থা তথৈবচ। কিন্তু ইফিসিয়েন্সির ইমপ্রুভমেন্ট কোন এক অদৃশ্য কারসাজিতে একটা জায়গায় এসে যেন থমকে আছে। অধিক সন্ন্যাসী তে গাঁজন নষ্ট হওয়ার অবস্থা। প্রোডাক্টিভিটি এবং ইফিসিয়েন্সি নিয়ে একটা শুভঙ্করের ফাঁকি আছে। তাই আসুন এই জটিলতা বাদ দিয়ে সহজ সাধ্য একটা এরিয়া ফোকাস করি, তা হলো মাসের ২৬ দিন মোটামুটি আমরা কাজ করে থাকি এই ২৬ টা দিন প্রতিটা লাইনে কোন ডিস্টারবেন্স ছাড়া প্রোডাকশন করবো।

আমি ২০০৭ সালে বড় কয়েকটা কারখানায় অনবরত যাতায়াতের কারণে তাদের সকলের স্টাইল ভেদে লাইন প্রতি প্রডাকশন কোয়ান্টিটি ট্র্যাকিং করতাম। শুনে অবাক হয়ে যাবেন ২০২০ সালে এসেও সেই প্রোডাকশন কোয়ান্টিটি কিন্তু একই রয়ে গেছে । তাহলে ফলাফল দাড়ালো এক যুগ পার হয়েছে কিন্তু আমাদের প্রোডাকশন কোয়ান্টিটি তে উৎকর্ষতা সাধনের পথে আমরা এগিয়ে যেতে পারিনি। দুইশত / তিনশত লাইনের কারখানা হয়েছে তাই এক্সপোর্ট ভলিউম বেড়েছে। লাইন প্রতি ঘন্টা প্রতি স্টাইল ভেদে প্রোডাকশন কোয়ান্টিটি কিছু কিছু ক্ষেত্রে যৎসামান্য বেড়েছে।

বর্তমান সালের তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে আমরা দেখেছি যে, আমাদের নীট কারখানা গুলো সাধারণত গোলগলা টি-শার্ট লাইন প্রতি ২০০০ - ২৫০০ পিস্ পর্যন্ত দৈনিক প্রোডাকশন করে।

যদি ৩০ লাইনের কারখানা আর শুধুই টি-শার্টের অর্ডার করে। তাহলে ২৬ দিন X ২০০০ X ৩০ = ১৫৬০,০০০ পিস্ আউটপুট পাওয়ার কথা। কিন্তু আশ্চর্য জনক হলেও সত্যি ওই কারখানাতে ১০ লক্ষ থেকে ১২.৫০ লক্ষ পর্যন্ত প্রোডাকশন কোয়ান্টিটি পাওয়া যাচ্ছে ।

▶️ নিম্নোক্ত তিন ভাবে এই সর্বনাশ টা ঘটেই যাচ্ছে দুই দশক ধরে। এবং আমরা এই সমস্যার কোন সমাধান ও করছিনা।

✔️১। হয়তো ২০ দিনের সমতুল্য প্রোডাকশন পাচ্ছি।

✔️২। অথবা ২৬ দিনই কম কোয়ান্টিটি প্রোডাকশন করছি।

✔️৩। এবং ৫/৬ দিন নষ্ট করে ফেলছি স্টাইল চেঞ্জ, মেশিন নষ্ট, অপারেটর আসেনি, কাপড় আসেনি, এই স্টাইল টা বন্ধ করে ,পরের টা লাইনে তোলো, নতুন কমেন্ট আসছে। ইত্যাদি।

পরিশেষে ফলাফল। মাস শেষে কিন্তু একটা কারখানা থেকেই ৩ থেকে ৩.৫ লক্ষ পিস্ কম শিপমেন্ট হচ্ছে। দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

৩০০০ কারখানা থেকে স্টাইল ভেদে, এসএমভি পার্থক্য অনুযায়ী যদি নূন্যতম ১ লক্ষ পিস্ ও কম শিপমেন্ট হয় তাহলে ৩০ কোটি পিসের রেভিনিউ থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি।
এখানে ইফিসিয়েন্সি এবং প্রোডাক্টিভিটি নিয়ে কোন কথা বলা হচ্ছেনা। আপনার কারখানার বর্তমান অবস্থান থেকেই সব কিছু আগের মত রেখেই শুধু ২৬ দিন কিভাবে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে প্রোডাকশন করবো তার দিকে পরিপূর্ন মনোনিবেশ করুন। তার মানে পুরো মাস জুড়ে আগে প্রতি দিন , প্রতি লাইনে, প্রতি ঘন্টা একটানা মেশিনের চাকা সচল রাখার ব্যাবস্থা করুন তারপর ইফিসিয়েন্সি নিয়ে ভাবা যাবে। 

অন্তত ১ দিন থেকে ৫ দিন পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে বেশি প্রোডাকশন করানো কিন্তু খুব একটা কঠিন কোন কাজ নয়, সঠিক কয়েকটা পদ্ধতির অবতারণা সুষ্ঠ ভাবে করতে পারলেই এই কাজটা করা যাবে। আপনার কারখানায় কি এই সমস্যা আছে নাকি ! আমাদের এই পোস্ট সেই সকল কারখানার জন্য যারা আন্তরিকতার সাথে এই সমস্যার সমাধান করতে চান, ইনবক্স করুন। পুরো ২৬ দিন যে স্টাইল টা দরকার, নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে লাইনে ঢুকবে। ওয়াদা দিলাম।

এই পদ্ধতিতে ও ১৫% শিপমেন্ট বাড়িয়ে ৩৪ বিলিয়ন থেকে ৩৯ বিলিয়নে যাওয়া খুবই সম্ভব। দরকার আমাদের ১০ লক্ষ উজ্জ্বল মুখগুলোর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা।

প্রস্তাবনা: ১ থেকে শেষ পর্যন্ত

Writer:
Habibur Rahman
Smart Factory 4.0 Consultant for Textile Apparel Industries;
County Head, Quantity Improvement Solutions;
Founder, Jobs For U.

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ