গার্মেন্টসের বাতিল অর্ডার ফিরছে, কিন্তু শ্রমিকদের চাকরি?


Latest Textile | নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনার কালো থাবা হয়তো ধীরে ধীরে উঠে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানির উৎস গার্মেন্টস টেক্সটাইল থেকে! বিজিএমইএ সূত্র জানিয়েছে, এরই মধ্যে বাতিল হওয়া রপ্তানি আদেশের ৮০ শতাংশই ফিরেছে৷

বিজিএমইএ (BGMEA) সভাপতি ড. রুবানা হকও সম্প্রতি স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন৷

বিজিএমইএ'র সহ-সভাপতি মশিউল আজম সজল বলেন, ‘‘আমরা এখনো বলতে পারছি না যে আসলে পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে৷ তবে কিছুটা ইতিবাচক হলো আমাদের কাছে যে কাপড়গুলো রেডি ছিলো সেগুলো এখন তারা নিচ্ছে৷ খুব যে বেশি নতুন অর্ডার আসছে তা নয়৷ ফলে সামনের সময়ে অর্ডার কেমন আসে সেটা দেখতে হবে৷’’

বিজিএমইএর পক্ষ থেকে ক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনা ও মধ্যস্থতা করা হচ্ছে৷ অবশ্য ক্রয়াদেশ ফিরলেও বিদেশী ক্রেতারা অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে শর্ত জুড়ে দিচ্ছেন বলে জানা গেছে৷ অনেক ক্ষেত্রেই ছয় মাস কিংবা এক বছরের মতো লম্বা সময় নিচ্ছেন তারা৷ আবার কেউ কেউ দামে ছাড় দিতে বাধ্য করছেন৷

গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার বলেন, ‘‘আমাদের সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী করোনার পরিস্থিতে ১ লাখ ১০ হাজার শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন৷ বহু শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করেননি মালিকরা৷ দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে কেউ কেউ পাওনা পেলেও অনেককেই পাওনার জন্য লড়ে যেতে হচ্ছে৷ তবে শুধু যে চাকরি হারিয়েছে, বিষয়টা এমন নয়৷ আবার নতুন চাকরিও পেয়েছেন অনেকে৷ আসলে মালিকরা দীর্ঘদিনের পুরাতন শ্রমিককে বাদ দিয়ে নতুন শ্রমিক নিচ্ছেন৷ কারণ একজন শ্রমিক দীর্ঘদিন এক প্রতিষ্ঠানে থাকলে তার বেতন বেড়ে যায়৷ আর নতুন শ্রমিক নিলে তার বেতনও কম, পাওনাও থাকে না৷ করোনা পরিস্থিতিতে এই সুযোগটাই নিয়েছেন গার্মেন্টস মালিকরা৷ তবে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ওই শ্রমিকরা অন্য কোথাও কম বেতনে হলেও চাকরি পেয়ে গেছেন৷ ফলে খুব বেশি শ্রমিক এখন বেকার নেই৷ তারপরও ২৫-৩০ হাজার শ্রমিক এখনো বেকার৷’’ (সুত্র: ডয়চে ভেল)

সদ্য সমাপ্ত ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে ৬৮৬ কোটি ডলার (প্রায় ৫৮ হাজার কোটি টাকা)৷ স্বাধীনতার পর আর কখনও রপ্তানিতে এত বড় ধস নামেনি৷

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ