আপনি বিগত তিন দশকে আপনার মেধায়, যোগ্যতায়, ত্যাগে, একনিষ্ঠতায় আপনার প্রতিষ্ঠানকে একটা সম্মানজনক অবস্থানে অবশ্যই নিয়ে গেছেন! কিন্তু কোথায় যেন আজ সেই প্রতিষ্ঠান থমকে দাঁড়িয়েছে! এই কথা তে যদি আপনি একমত হন তাহলে এখন আপনাকে একজন সুন্দর পিচাই কে খুঁজে বের করতে হবে। একজন যোগ্য উত্তরসূরী সিইও আপনার সাফল্যকে আরো উচ্চতায় নিয়ে যাবে গ্যারান্টি দিতে পারবো। দেশের রপ্তানী বাড়াতে হলে আপনাদের উদার মনে এগিয়ে আসতে হবে।
You Need to Learn to Unlearn now.
সোজাসুজি বাংলায় যদি বলি আপনাকে এমডি, চেয়ারম্যান এর খোলস থেকে বেরিয়ে এসে লিডার হতে হবে।
সারা বিশ্বের নামকরা ফরচুন ৫০০ কোম্পানীর মধ্যে হাতে গোনা কয়েকজন মালিক নিজেই সিইও (Chief Executive Officer) হয়ে এখনো বসে আছেন, তাদের আপনারা নাম জানেন মার্ক জুকারবার্গ, জেফ বেজোস এর মত বাঘা কয়েকজন আছেন এই দলে। আর বাকি সকল কোম্পানি চলছে সত্য নাদেলা, সুন্দর পিচাই, ড্যানিয়েল ঝ্যাং, ওমর ইশরাক এর মত ঝানু সিইও দিয়ে, সকলেই বিলিয়ন ডলার ব্যবসা সামলাচ্ছেন। ব্যাবসা বাড়াচ্ছেন, ফাউন্ডারের চাইতেও বেশি ভালো করছেন।
![]() |
| Brands |
আমার প্রশ্ন হল আমাদের দেশের উদ্যোক্তা গণ এই একটা জায়গায় কেন গত তিন দশকে যোগ্য সিইও খুঁজে নিয়ে তার হাতে সমস্ত কিছুর দায়দায়িত্ব দিতে পারলেন না। অথচ এই মানুষটাই কিন্তু শূন্য হাতে গুঁটি গুঁটি পায়ে আজকে মিলিয়ন ডলার ব্যাবসা করছেন অত্যন্ত স্বিদ্ধহস্তে। তিলে তিলে পাচ থেকে পঁচিশ হাজার মানুষের কর্ম সংস্থান করছেন দারুন ভাবে। আমাদের দেশকে একটা উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। এই রকম হাজার পাঁচেক বাংলাদেশী উদ্যোক্তা গণ। কিন্তু এই মাত্র একটা ক্ষেত্রে তাদের অপারগতা বোধগম্য নয়।
হাতে গোনা বিশটা কোম্পানিতে পাওয়ারফুল সিইও আছেন কিন্তু তাদের প্রতি নিয়ত মালিকের সাথে কিছু কিছু বিষয়ে গৃহপালিত নীতি মেনে চলতে হয়।
কয়েকজন সিইও অবশ্য কয়েক বছর পরে নিজেই মিলিয়ন ডলার কোম্পানী খুলে বসেছেন , সেই উদহারণ ও আপনাদের জানা আছে। কিন্তু এইজন্য আমি যথোপযুক্ত একজন সিইও খুঁজে বের করতে পারবোনা এইটা মেনে নিতে বড়ই কষ্ট হয়।
জ্যাক মা বলেছিলেন,
আমি সঠিক লোক টাকে সঠিক জায়গায় নিয়োগ দেয়ার বিদ্যাটা ভালো ভাবে অর্জন করেছিলাম তাই আমার ব্যবসার এত বড় হয়েছে।
আমি অবশ্যই বলবো আপনাদের উদারতার, বিচক্ষণতার, মেনে নেয়ার মানসিকতার ঘাটতি রয়েই গেছে।
বাংলাদেশেই ইয়াংওয়ানের চেয়ারম্যান সাহেব গত ত্রিশ বছর প্রথম দিকে কোরিয়ান টপ ম্যানেজম্যান্ট দিয়ে অপারেশন চালিয়েছেন, এখন পুরো দস্তুর বাংলাদেশী ভাইদের দিয়ে বিলিয়ন ডলার রপ্তানি সামলাচ্ছেন। আমার পরিচিত বাংলাদেশী পুরাতন কলিগরা ভিয়েতনামে ও সুনামের সাথে ব্যাবসা দেখাশুনা করে যাচ্ছে। কিহাক সাং সাহেব যদি বিদেশ থেকে এসে বাংলাদেশিদের খুঁজে বের করে তাদের হাতে দায়িত্ব ন্যাস্ত করতে পারে আমাদের সমস্যা কোথায় তা নিশ্চয়ই খতিয়ে দেখতে হবে।
আমরা কেন যেন প্রতিটা কোম্পানীকে ফ্যামিলী বিজনেস এ রূপান্তরিত করে ফেলছি।
কিছু কোম্পানিতে বিদেশী সিইও, সিওও নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে থাকেন দুই, তিন বছরের জন্য। পরবর্তীতে হঠাৎ চাকুরী হারানো অথবা নত মুখে বিদায় নেয়ার মত ঘটনা প্রায় শুনি।
নিচের তিনটা বিষয় যদি গুরুত্ত্বের সাথে বিবেচনা করে আমরা যদি একটা স্তর পার করতে পারি, তাহলে হয়তো আমরা কিছু সিইওর মুখ দেখতে পারবো।
* Comprehensive knowledge.
* Moral authority.
* Unwavering commitment in the long term.
আর একটা গুরুত্ত্বপুর্ণ বিষয় হল , লবণের একটা দ্রাব্যতা মাত্রা আছে , এক গ্লাস পানিতে কয়েক চামচ লবন গুলানো যাবে, কিন্তু বেশি লবন দিয়ে দেখবেন নিদৃষ্ট সময় পরে আর লবন দ্রবীভূত হচ্ছেনা। সেই রকম প্রতিটা মানুষের একটা লিমিটেশন আছে। আপনি কিন্তু আপনার মেধা মননে আপনার সর্বোচ্চ তা দিয়েছেন আপনার এই প্রতিষ্ঠানকে। কিন্তু কালের পরিক্রমায়, ডিজিটাইজেশনের যুগে , নতুন নতুন ধারা পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়ার জন্য আসলেই আপনার চিন্তা ধারা , ব্যবসায়িক নীতিতে নতুনত্বের ছোঁয়া দেয়ার জন্য নতুন বুদ্ধিমত্তার প্রয়োজন।
আর একটা ভ্রান্ত ধারণা আমাদের মধ্যে বিরাজ করছে, যে মলিকের ছেলে/ মেয়ে বিদেশ থেকে পড়াশুনা করে এসেছে বলেই তিনি যে কোন সিইওর চেয়ে অধিকতর যোগ্যতাসম্পন্ন হবেন! পদাধিকার বলেই তিনি ডিরেক্টর হিসেবে জয়েন করবেন। আপনাকে একটা চিন্তা করতে হবে আপনি যে স্ট্রাগল করে আজকে এই সমৃদ্ধির মুখ দেখছেন তার বিন্দুমাত্র আপনার সন্তান মোকাবিলা করেননি। আর সিইও সাহেবকে ও তার মন জুগিয়ে চলতে জানতে হবে তা না হলে চাকরী থাকবেনা।
বাংলাদেশের দুই একটা কোম্পানীতে অবশ্য বিচক্ষণ বাবারা জুনিয়র এক্সিকিউটিভ পদে ছেলেদের জয়েন করিয়েছেন। নরমাল অফিসের আবহাওয়ায় কাজ করার অভিজ্ঞতা নিতে বাধ্য করেছেন। তাদের প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা ও সম্মান এবং দোয়া অটোমেটিক চলে আসে।
আমি অনেক গুলো ডাইরেক্টর স্যার দের চিনি, মালিকের ছেলে মেয়ে কে চিনি, যাদের মধ্যে হাতে গোনা কুড়ি জনের নাম বলতে পারবো, যারা সত্যিই যোগ্যতা সম্পন্ন এবং বাবার অবর্তমানে হয়তো ভালোই করবেন। আর বাকিরা শুরুতেই প্রমান করে দিয়েছেন যে উনি সোনার চামুচ মুখ নিয়ে জন্মেছেন। তার বাবা যে ১৯৮০ সালে মুগদাপাড়ায় একটা চিলেকোঠায় ভাড়া থাকতেন সেই ইতিহাস কিন্তু তিনি আবার টেড টকে বলে প্রশংসা কুড়ান।
▶️ সকল সফল উদ্দোক্তাগণের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখে, অনুরোধ করবো , আপনাদের ছেলে/ মেয়ের মাঝে যদি নিম্নোক্ত দশটা প্রশ্নের উত্তর পজিটিভ পেয়ে যান তাহলে সেই আপনার প্রতিষ্ঠানের যোগ্য উত্তরসূরী এবং ভবিষ্যৎ সফলতা ধরে রাখার মত একজন সিইও।
1. Ability to learn from the past
2. Strong communication skills
3. Building relationships
4. Realistic optimism
5. Understanding
6. Listening skills
7. Willingness to take calculated risks
8. Reading people and adapting to necessary management styles
9. Coaching employees effectively
10. Thinking outside the box.
আর যদি উত্তর গুলো নেতিবাচক হয় তাহলে আপনাকে সুন্দর পিচাই এর খোঁজ করতে হবে। আর সুন্দর পিচাই রা একটু তো ব্যায়বহুল হবেই। যদিও তার বেতন এখন আপনাদের অনেকেরই রপ্তানী মানের চেয়ে বেশি। ২০২০ সালে সুন্দর পিচাই এর বার্ষিক বেতন $২৪২ মিলিয়ন ডলার।
আমাদের এই বাধা পেরোতেই হবে। দেশের জন্য, ইন্ডাস্ট্রিটাকে টিকিয়ে রাখার জন্য। চলুন এই একটা সমস্যার সমাধান করি। সারা বিশ্বের সমস্ত বড় কোম্পানীর নীতি কিছুটা অনুসরণ করি।
প্রস্তাবনা: ১ থেকে শেষ পর্যন্ত
Writer:LinkedIn Profile:
Habibur Rahman
Smart Factory 4.0 Consultant for Textile Apparel Industries;
County Head, Quantity Improvement Solutions;
Founder, Jobs For U.






0 মন্তব্যসমূহ