জিও টেক্সটাইল কী এবং কেনো: পার্ট-২


Latest Textile | J I Jahid Chowdhury


এখন জানবেন,
জিও টেক্সটাইল এর প্রকারভেদ:

1. According to Time of Use:

🔹1st Generation: (প্রথম প্রজন্ম)

জিও টেক্স (GeoTextile) যেটি গালিচা জাতীয় দ্রব্য তৈরির জন্য নির্মিত হতো, কিন্তু পরে জিও কারিগরির উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়, এটি প্রথম প্রজন্মের জিও টেক্স হিসাবে পরিচিত।

🔹2nd Generation: (২য় প্রজন্ম)

আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার না করেই যা Geo Technical এর উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছিল।

🔹3rd Generation: (৩য় প্রজন্ম)

জিওটেক্সটাইল যেটি নির্দিষ্ট কিছু ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত, ডিজাইন এবং উৎপাদিত হয়েছিল। এটা ছিলো প্রকৃত Geo-Textile.

2. According to Method of production :

🔹Woven :
এটা মূলত বিভিন্ন লুমের সাহায্যে উৎপাদন করা হতো। এইগুলি লাইটার জিও টেক্সটাইল এবং ভারী জিও টেক্সটাইল হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে।

🔹Heat Bonded Non-woven :
অবিচ্ছিন্ন ফিলামেন্টের সুক্ষ্ম ফাইবার যা একটি চলমান বেল্টের উপর এলোমেলোভাবে স্থাপন করা হয় এবং উত্তপ্ত রোলার সিস্টেমের মাধ্যমে পাস করা হলে টেক্সটাইলের পাতলা শীট পাওয়া যায়।

🔹Knitted Geo-textiles:
Knitted Geo textile শুধু Warp knitting এর ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকে।


🔷জিও টেক্সটাইল প্রডাক্ট উৎপাদনকারী কোম্পানি (বাংলাদেশ):

1. Udara Lanka Coir Exp.(pvt) Ltd
2. Janata Jute Mills Ltd.

বাংলাদেশে এই ২ টি কোম্পানি বানিজ্যিকভাবে জিও টেক্সটাইল উৎপাদন করে।


🔷ডিমান্ড:

গ্র্যান্ড ভিউ রিসার্চ, ইনকর্পোরেটেডের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মধ্যে গ্লোবাল জিওটেক্সটাইল বাজারে 8.18 বিলিয়ন মার্কিন ডলার পৌঁছানোর আশা করা যাচ্ছে অন্যান্য উপকরণের তুলনায় দীর্ঘ জীবনকাল, এবং ক্রমবর্ধমান পরিবেশগত উদ্বেগ পরবর্তী সাত বছর ধরে শিল্পের উপর ইতিবাচক প্রভাব আশা করা হয়।


🔷আসুন জেনে নেয়া যাক আমাদের দেশে জিও টেক্সটাইল এর ব্যাবহার এবং উৎপাদন সংক্রান্ত কিছু তথ্যঃ 

১. বর্তমানে দেশের আভ্যন্তরীন বাজারে ১২ কোটি ৬৯ লাখ বর্গমিটার জুট জিও টেক্সটাইলের চাহিদা রয়েছে। যার আনুমানিক মুল্য প্রায় ৬৬৫ কোটি টাকা। বর্তমানে এই চাহিদা সিনথেটিক জিও টেক্সটাইলের মাধ্যমে পূরণ হচ্ছে। সিনথেটিকের পরিবর্তে জুট জিও-টেক্সটাইলের ব্যবহার শুরু হলে দেশে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং জুট মিলগুলোর উৎপাদনেও কর্মচাঞ্চল্য বৃদ্ধি পাবে।

২. ‘পানি উন্নয়ন বোর্ড, এলজিইডি, সড়ক যোগাযোগ ও সেতু বিভাগ, রেলওয়ে এবং সেনাবাহিনীর স্পেশাল ওয়ার্কার্স অর্গানাইজেশন নির্মিত গ্রামীণ রাস্তা ও রেলপথ নির্মাণ, নদীর পাড় সংরক্ষণ ও পাহাড় ধ্বংসরোধসহ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে পাটের জিও-টেক্সটাইলসের ব্যবহার বাধ্যতামূলক।

৩. পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল সংস্থা ও সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের প্রতিনিধিরা বলেন, বর্তমানে নদীর পাড় রক্ষা, পাহাড় ধস বন্ধ ও সড়ক নির্মানে সিনথেটিক জিও টেক্সটাইল ব্যবহার করা হচ্ছে। দেশে উৎপাদিত জিও টেক্সটাইলের মান ভাল হলে এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন করলে আমরা এই জিও টেক্সটাইল ব্যবহার করতে পারব। তবে চাহিদা মতো জুট জিও টেক্সটাইল পাওয়া যাবে কিনা সে বিষয়ে তারা প্রশ্ন তোলেন।

৪. বর্তমানে বিজেএমসির লতিফ বাওয়ানি জুট মিল, করিম জুট মিল, ইউএমসি জুট মিল এবং বেসরকারি খাতের জনতা জুট মিল পাটের জিও টেক্সটাইল উৎপাদন করে দেশের চাহিদা পূরণ ও বিদেশে রফতানি করছে। দেশে এর চাহিদা বাড়লে মিলগুলোর তা সরবরাহ করতে সক্ষম। বিদ্যমান জুট মিলগুলোর সে ক্ষমতা আছে।

৫. দেশে উৎপাদিত জুট জিও টেক্সটাইলের মান সম্পর্কে বুয়েটের গবেষকরা জানান, কমন ফান্ড ফর কমোডিটিজের অর্থায়নে পরিচালিত এক মাল্টি-কান্ট্রি গবেষণা প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশে মোট ১৪টি ফিল্ড ট্রায়াল বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এগুলোর ফল ভাল। এতে বুঝা যায়, দেশে উৎপাদিত জিও-টেক্সটাইলের মান ভাল। ইতোমধ্যে মান নির্ধারনের জন্য বিএসটিআইয়ের কাছে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন


৬. বুয়েটের গবেষকরা পাটের জিও টেক্সটাইল ব্যবহার বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা বলেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত পাটের জিও টেক্সটাইল উন্নত মানের। অথচ প্রতি বর্গমিটার জিও টেক্সটাইলের দাম পড়ে ৫৬ থেকে ৫৮ টাকা এবং ৭০ থেকে ৮০ টাকা। অথচ এক বর্গমিটার সিনথেটিক জিও-টেক্সটাইলের দাম পড়ে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। সিনথেটিকের সমস্যা হলো এটি পরিবেশ বান্ধব নয় এবং একশ বছরেও এটি মাটির সঙ্গে মিশে না। অথচ জুট জিও-টেক্সটাইল খুব দ্রুত পাচে মাটির সঙ্গে মিশে যায়। যা পরিবেশ বান্ধবন। এটি ব্যবহার করলে পাঁচ বছরের মধ্যেই তা মাটির স্তর তৈরি করে ফেলে। সিনথেটিরেক চেয়ে এর দক্ষতা কোন অংশে কম নয়।

৭. বুয়েটের বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ৭ হাজার টন জুট জিও টেক্সটাইল বিদেশে রফতানি হচ্ছে। অথচ দেশে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এর ব্যবহার এখনো শুরু হয়নি।

৮. জুট-জিও-টেক্সটাইল পণ্যটি সম্পূর্ণ পাট দ্বারা তৈরি এক ধরনের কাপড়। পরিবেশবান্ধব এই কাপড় রাস্তা ও বাঁধ নির্মাণ, নদীর পাড় ভাঙ্গন এবং পাহাড় ধস রোধে ব্যবহার করা হয়।

Writer
J I Jahid Chowdhury 
Shyamoli Textile Engineering College (STEC-TE)
Executive Ambassador - Latest Textile

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ