করোনা পরবর্তী প্রস্তাবনা-১৮, জাপানীজ পদ্ধতিতে ভুল সংশোধন

Latest Textile | Habibur Rahman

আমরা জানি মানুষ মাত্রই ভুল। কিন্তু একই ভুলের পুনরাবৃত্তি আর ঘটবেনা এমন যদি একটা ব্যাবস্থা করা যেত। একটু ইতিহাস ঘেটে দেখুন ১৯৮০ সালের আগে প্রায়ই বিমান দুর্ঘটনা ঘটতো। কিন্তু একটা একটা করে ভুলের চেকলিস্ট করে, প্রতিটা ভুলের পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে তার ব্যাবস্থা নেয়ার ফলে আর বিমান দুর্ঘটনা ঘটছেনা বললেই চলে। সংশোধন যোগ্য ভুলের যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে তার একটা দুর্দান্ত জাপানীজ পদ্ধতি আছে। 

আজকে আমরা সেই জাপানীজ মেথড টা শিখবো, এর নাম পোকা ইয়কে পদ্ধতি - বাংলায় বলা যায় ভুল শুদ্ধ-করণ পদ্ধতি।  

এটা হল একটা প্রসেস এনালাইসিস টুল। বারংবার যা ভুল করছি তাকে কিভাবে দ্বিতীয়বার ভুল না করে করা যায় তার একটা ব্যবস্থা করা। 


▶️ আমরা চশমাতে সুন্দর একটা রশি লাগিয়ে গলায় ঝুলিয়ে রাখি যাতে বার বার চশমা হারিয়ে না যায়। এবং আসলেই চশমা আর কিন্তু হারায় না। 


আমরা প্রায়ই চাবি ভিতরে রেখে তালা দিয়ে দেই, কিন্তু ইদানীং কালে কিছু তালা, চাবি ছাড়া আর খুলেও না, বন্ধ ও হয় না। এই সকল তালায় আর ভিতরে চাবি রেখে বন্ধ করে দেয়ার মত ভুল করার সুযোগ আর নাই। 


ওয়াশিং মেশিনের ঢাকনা না লাগালে ওয়াশিং মেশিন চালুই হয়না। আগের দিনে কাঁচের ঔষধের বোতলে এলুমিনিয়ামের ছিপি দিয়ে ঔষধ বের হয়ে যেত মনে আছে। এখন কোন বোতলের মুখ দিয়ে ঔষধ গড়িয়ে পড়েনা। শুধু মাত্র ছিপির ভিতরে একটা রাবারের ওয়াশার লাগিয়ে দেয়ার কারণে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এই রকম অনেক উদহারণ দেখতে পারবো।   


একটু উদার ভাবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিন (নিজের কাছেই) দেখবেন আমাদের ইন্ডাষ্ট্রিতে বছরের পর বছর আমরা একই প্রকার ভুল করেই আসছি। কিছু ভুল করি জানিনা বলে, কিছু ভুল অভ্যাসে পরিণত হয়ে গিয়েছে। কিছু ভুল করলেও টাকা ইনকাম তো আর বন্ধ হয়নি তাই করেই যেতে থাকছি। 


✅১। ভুল লেবেল লাগিয়ে ফেলেছি। 


✅২। জিপার সাইজ মিসটেক।  


✅৩। ভুল কার্টুনে মাল চলে গেছে। 


✅৪। ভুল পার্ট প্রিন্ট করা শেষ। আবার কাটিং করতে হবে কিন্তু ফ্যাব্রিক তো নাই। 


✅৫। কাটিংয়ে হালকা একটু ভুল এর কারণে এই অবস্থা। 


✅৬। ডায়িং এ কেমিক্যাল ভুল ছিল মনে হচ্ছে। 


✅৭। এমব্রয়ডারি মেজারমেন্ট, প্লেসমেন্ট ভুল। 


✅৮। ওয়াশিং রেসিপিটা চেক করে দেখছি , কেন এমন হল !


✅৯। ফিনিশিং ম্যাটেরিয়াল ভুল অর্ডার করা হয়েছে , শিপমেন্ট আজকে যাবেনা।  




কখন বুঝবো আমাদের ভুল শুদ্ধ-করণ পদ্ধতির দ্বারস্থ হতে হবে। 


✅১। ছোট্ট যে ভুলগুলো দেখতে খুব ছোট, কিন্তু মাশুল দিতে হয় অনেক বড়। 


✅২। পূর্বের প্রসেস এর জের ধরে পরের প্রসেস এ যে ভোগান্তির স্বীকার হই। 


✅৩। প্রথম দিকে নজরে ছিল কিন্তু সমাধান করা হয় নাই বলে এখন আর সমাধানের পথ নেই, আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। 




পোকা ইয়কে পদ্ধতি পরিচালনা বা ভুলের পুনরাবৃত্তি না ঘটালে আমরা কি কি ভাল ফলাফল আশা করতে পারি !


✅১। যে কোন কিছু সেট আপ করার সময় যে ভুল গুলো হয় তা থেকে পরিত্রান পেতে পারি। 


✅২। সেট-আপ করার সময় কমে আসবে নিঃসন্দেহে।  


✅৩। কাজের কোয়ালিটি উন্নত হবেই। 


✅৪। প্রোডাকশন এর সময় বেঁচে যাবে। 


✅৫। সময় বাঁচলে খরচ ও কম হবে। কর্মক্ষেত্রে খরচ কমানো এক প্রকার চ্যালেঞ্জ। লীন পদ্ধতিতে খরচ কমানোর জন্য পোকা ইয়কের কোন জুড়ি নেই।  


✅৬। জিনিস পত্র সংরক্ষণ করা সহজতর হবে। 


✅৭। নিরাপদ কর্মক্ষেত্র , কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত হবে। 


✅৮। স্বল্প দক্ষতা সম্পন্ন মানুষ কে দিয়ে ভালোভাবে কাজ করানো যাবে। 


✅৯। প্রোডাকশন সুচারু ভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। 


✅১০। উদ্যোক্তা ও কর্মচারী সকলের মনোবল দৃঢ় হবে এবং সকলে কাজে মনোনিবেশ করবে।  


▶️ কাইজেন এবং পোকা ইয়কের মধ্যে পার্থক্য কি ?


কাইজেন হল একটা ক্রমাগত ও ধারাবাহিক উন্নয়নের পদ্ধতি বা দর্শন। নিঃসন্দেহে সময় সাপেক্ষ ও বটে। পক্ষান্তরে পোকা ইয়কে অনেকটাই মানুষ কর্মক্ষেত্রে যে ভুল গুলো বারংবার করেই যাচ্ছে তার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে তা প্রতিহত করার পদ্ধতি। পোকা ইয়কের সাফল্য গুলো আপনার প্রতিষ্ঠানকে কাইজেন বা ক্রমাগত ও ধারাবাহিক উন্নয়নের দিকে ধাবিত করবে। 


সকল আলোচনা শেষে আমরা অবশ্যই বলতে পারি যে, উপরোক্ত ভুল গুলোর মত একই ভুলের পুনরাবৃত্তি যদি না ঘটে। আমাদের ডেলিভারী স্পিড আরো বেড়ে যাবে। 


মনে রাখবেন আমরা গড়ে একদিনে মোটামুটি ১০০ মিলিয়ন ডলারের মত রপ্তানী করে থাকি। একদিন বেশি রপ্তানী আমাদের দেশের জন্য, ইন্ডাস্ট্রির জন্য কতখানি সুফল বয়ে আনে তা সহজেই অনুমেয়।


প্রস্তাবনা: ১ থেকে শেষ পর্যন্ত


Writer:

Habibur Rahman

Smart Factory 4.0 Consultant for Textile Apparel Industries;

County Head, Quantity Improvement Solutions;

Founder, Jobs For U.


LinkedIn Profile

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ