Latest Textile | নিজস্ব প্রতিবেদক
সুইজারল্যান্ডের বিখ্যাত পিয়ার রিভিউড জার্নাল এমডিপিআই (MDPI) বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকদের চোখ নিয়ে গবেষণা করে অত্যন্ত দুঃখজনক তথ্য দিয়েছে।
অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, অনুপযুক্ত কাজের পরিবেশ এবং হতাশাসহ নানা সমস্যার কারণে বাংলাদেশের অনেক গার্মেন্টস শ্রমিকের চোখের পানির গুণগত মানের পরিবর্তন (Dry Eye) হচ্ছে। যদি দ্রুত এর চিকিৎসা না করা হয় তাহলে চোখের আলো হারানোসহ মারাত্মক বিপদ হতে পারে।
বাংলাদেশি গবেষক ডা. একেএম মামুনুর রশীদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মোট পাঁচ জন বিশেষজ্ঞ এ গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তারা হলেন সিঙ্গাপুরের ক্যালেস্তা হুই ই তেও, হোন শিং অং, লুই টং ও বাংলাদেশের সুমাইয়া মামুন।
গত ২৬ আগস্টে প্রকাশিত গবেষণার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গাজীপুরের ১ হাজার ৫০ জন শ্রমিকের মধ্যে ৬৪.২ শতাংশেরই ড্রাই আই সমস্যা আছে। এর মধ্যে ৫৩.৮ শতাংশই নারী।
গবেষক ডা. একেএম মামুনুর রশীদ এ বিষয়ে বলেন,
আমরা একটি অঞ্চলের, একটি পরিবেশের ডেটা সংগ্রহ করেছি। অন্য পরিবেশে ভিন্ন ফলাফল পাওয়া যেতে পারে। যে পরিবেশে শ্রমিকেরা কাজ করছেন, সেটি চোখের পানির গুণগত মান পরিবর্তনে প্রভাব ফেলছে। ১২ ঘণ্টা কাজ করতে হয় অনেকের, ঘুম কম হয়। এরপর তারা আবার সেলাইয়ের কাজ করছেন। তাতে চোখের ওপর মারাত্মক চাপ পড়ে।
‘ড্রাই আই’ নিয়ে চিকিৎসকদের মন্তব্য:
চোখের ওপর চোখের পানির একটা পাতলা আস্তরণ থাকে। এই পানি তৈরি হয় জল, তেল, পিচ্ছিল মিউকাস আর জীবাণুরোধী অ্যান্টিবডি দিয়ে। চোখের গ্রন্থি থেকে কোনো কারণে এই পানি নিঃসরণ কম হলে চোখ শুষ্ক হয়ে পড়ে যাকে বলে ড্রাই আই (Dry Eye)।
লক্ষণ:
কারও এই সমস্যা হলে চোখ শুকিয়ে খটখটে হয়ে যায়। মনে হয় কিছু একটা চোখে পড়েছে। চোখ তখন মারাত্মক চুলকায়। কারো কারো ক্ষেত্রে আলো লাগলে আরও বেশি জ্বালাপোড়া করে।
পরামর্শ:
কিছু বিষয় মেনে চললেই এই সমস্যার সমাধান করা যায়। যেমন: আলোতে দীর্ঘ সময় চোখ না রেখে মাঝে মাঝে বিরতি নিতে হবে। ঘরে হিটার বা এসি ব্যবহার করলে আর্দ্রতা রক্ষা করার চেষ্টা করতে হবে। রাতে বেশি শুকিয়ে গেলে চোখ বন্ধ রাখতে হবে। পাশাপাশি স্নায়ু রোগের চিকিৎসাসহ চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শে কৃত্রিম চোখের পানি বা অন্য কোনো ড্রপ দেয়া যেতে পারে।





0 মন্তব্যসমূহ