Latest Textile | নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ টেক্সটাইল শিল্পের জন্য বিশ্ব দরবারে অতি পরিচিত একটি নাম। যে কয়েকটি কারণে বাংলাদেশের নাম সারা বিশ্বে পরিচিত তার মধ্য পোষাক শিল্প অন্যতম। পোষাক রপ্তানীর মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদিশিক মুদ্রা আয় করে। বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ পরিবারের জীবন নির্ভর করে এই গার্মেন্টস শিল্পের উপর।
তবে বর্তমানের মহামারীর প্রভাবে লিড টাইম (কারখানা থেকে পণ্য জাহাজীকরণের সময়) এবং বন্দর থেকে পণ্য খালাসে জটিলতায় প্রতিযোগী দেশ গুলো থেকে পিছিয়ে পড়ছে। যার ফলে বিশ্ববাজারে আরএমজি রপ্তানিতে দ্বিতীয় অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছে বাংলাদেশে।
এ বিষয়ে উদ্যোগতারা ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ জানান, অবকাঠামো সমস্যার পাশাপাশি কাস্টমস-বন্দর জটিলতায় অন্য দেশের তুলনায় পিছিয়ে পড়েছে দেশের পোশাকশিল্প। এ জন্য কাস্টমস এবং বন্দর জটিলতা দূর করে দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদ দিচ্ছেন তাঁরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উদ্যোক্তা জানান, "গত কোরবানির ঈদের আগে একটি পোশাক তৈরির মেশিন আনা হয় চীন থেকে। নিয়ম অনুযায়ী বস্ত্র অধিদপ্তর থেকে প্রত্যয়নপত্র নিলে মেশিন ছাড় করবে কাস্টমস। কিন্তু ওই অধিদপ্তরে গেলে কর্মকর্তারা জানান, আগের আইন গত বাজেটে পরিবর্তন হয়েছে। তাই ছাড়পত্র নিতে হবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে।
এদিকে এনবিআরের ভ্যাট কার্যালয়ে গেলে কর্মকর্তারা বলেন, আপনাদের প্রতিষ্ঠান নতুন, এখনো চালু করেন নাই। দুই বছরের ভ্যাট বকেয়া, ছাড়পত্র নিতে হলে সেটা দিতে হবে। তখন উদ্যোক্তা জানান, আমি কারখানাই শুরু করতে পারি নাই। এখনই কিভাবে ভ্যাট হিসাব করছেন। এর পরও নয়-ছয় করে এক বছরের ভ্যাট দিতে হয়েছে। একই সঙ্গে বিবিধ খরচ। ফলে বন্দর থেকে ওই মেশিন ছাড়াতে সময় লাগে এক মাস। এর মধ্যে বন্দরে ডেমারেজ দিতে হয় এক মাসের।"
এভাবেই কাস্টমস এবং ভ্যাট কর্মকর্তাদের নাজেহালের শিকার হতে হয় সাধারণ উদ্যোক্তাদের। কিন্তু বড় বড় কম্পানি গুলোও যে খুব একটা ছাড় পান তা নয়!
বিকেএমইএর সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান বলেন, "দেশের কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব অংশীদারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য একক সংস্থা গঠন, বন্দরগুলোতে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়ার অটোমেশন, বন্দরের সঙ্গে সড়ক, রেল ও নদীপথের যোগাযোগ উন্নয়নসহ উন্নত দেশগুলোর মতো অবকাঠামো উন্নয়নসহ কর্মকর্তাদের মানসিক জটিলতা দূর করতে হবে।"
বিজিএমইএ পরিচালক শহীদুল হক মুকুল বলেন, ‘বন্ড, কাস্টমস ভ্যাট ও বন্দরকে সমন্বয় করা না গেলে বাংলাদেশকে ধীরে ধীরে আরো পিছিয়ে পড়তে হবে। কাস্টমস কর্মকর্তাদের মাথায় রাখতে হবে রপ্তানিকারকদের সমস্যা কী। অন্যথায় চীন থেকে বের হয়ে আসা বিনিয়োগকারীদের সম্ভাব্য বিনিয়োগ হারাতে হবে।’
রেডি-মেড গার্মেন্টস বা তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে এখনও দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। স্বাভাবিক হিসেবে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক কম, তবুও এর বিরূপ প্রভাব এড়ানো অতটা সহজও নয়।
চীনের মত বানিজ্য দৈত্য টেক্সটাইল সেক্টরে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, সাথে ভিয়েতনামতো আছেই। কাজেই এই মহামারির কারণে বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টর যে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এতসব সমস্যা কীভাবে কাটিয়ে উঠে টেক্সটাইলকে এগিয়ে নেয়া যায়, সেই পদক্ষেপগুলোই নেয়া দরকার এখন আমাদের। তা না হলে হয়তো ‘Made in Bangladesh’ ট্যাগের গর্ব হারিয়ে যেতে পারে অচিরেই।





0 মন্তব্যসমূহ