Latest Textile | নিজস্ব প্রতিবেদক
রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধার অভাবের দোহায় দিয়ে একসময়ের বিমুখ উত্তরা, ইশ্বরদী ও মংলা ইপিজেড সহ দেশের প্রায় বেশিরভাগ ইপিজেড গুলোতে আবারও ফিরতে শুরু করেছে মোটা অঙ্কের বিনিয়োগ।
বিনিয়োগ বাড়লেও ইপিজেডে জনবল কমে গেছে।কিন্তু, বর্তমান সরকার শিল্পখাতের দ্রুত বিকাশের লক্ষ্যে দেশে রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) স্থাপনের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করাসহ শিল্পখাত বিকাশে সার্বিক সহযোগিতা করে আসছে।
কিন্তু, করোনা ভাইরাস জনিত সমস্যার কারণে ইপিজেডসহ টেক্সটাইল শিল্প মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে ইপিজেডগুলোতে মোট বিনিয়োগ করা হয়েছে ৪৮৮ দশমিক ৫ কোটি ডলার। ২০১৮ সালে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৪৬৮ দশমিক ১ কোটি ডলার।
একই সময়ে গার্মেন্টসে বিনিয়োগ হয়েছে ১৮০ দশমিক ০৮ কোটি ডলার, ২০১৮ সালে এর পরিমাণ ছিল ১৭২ কোটি ডলার। এর মধ্যে ১১৬ গার্মেন্টসে মোট জনবলের পরিমাণ ৩ লাখ ৫ হাজার ১৭৩। এর পরেই টেক্সটাইল শিল্পে ২৭ হাজার ৭০৯ জনবল রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
দেশে মোট কর্মরত জনবলের ৬০ ভাগ গার্মেন্টসে বাকি ৪০ ভাগ অন্য শিল্প প্রতিষ্ঠানে।বর্তমান, ইপিজেডে সর্বমোট শতকরা ২৫ শতাংশ গার্মেন্টস, ২০ ভাগ গার্মেন্টস আনুষঙ্গিক প্রতিষ্ঠান, ৮ ভাগ টেক্সটাইল, ৭ ভাগ নিটওয়্যার, ৬ ভাগ পাদুকা ও চামড়া এবং ১৯ ভাগ অন্য পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
বিনিয়োগ কিছু শিল্পগোষ্ঠীর মধ্যে পুঞ্জীভূত হয়ে আছে। বিনিয়োগ বড়দের মধ্যে পুঞ্জীভূত হওয়ার প্রমাণ বিভিন্ন সংস্থার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে পাওয়া যায়। যেমন ২০১১-১২ অর্থবছরে মেয়াদি ঋণের ৬২ শতাংশ ছিল বড় শিল্পে। সর্বশেষ অর্থবছরে সেটা ৭৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বিপরীতে এ ক্ষেত্রে মাঝারি শিল্পের হিস্যা ৩১ থেকে কমে ১৪ শতাংশে নেমেছে। বিবিএসের উৎপাদনমুখী শিল্প জরিপ বলছে, গত ছয় বছরে মাঝারি কারখানার সংখ্যা অর্ধেকে নেমেছে, ক্ষুদ্র শিল্প বেড়েছে।
বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অবকাঠামো ঘাটতি, বিকল্প অর্থায়নের অভাব, নিয়মনীতির অনিশ্চয়তা ইত্যাদি পুরোনো সমস্যাও রয়েছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সর্বশেষ প্রতিযোগিতা সক্ষমতা প্রতিবেদনে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে দুর্নীতি, অদক্ষ আমলাতন্ত্র ও অবকাঠামো ঘাটতিকে তিনটি শীর্ষ সমস্যা হিসেবে দায়ী করা হয়েছে।
বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ইপিজেডের ভূমিকা বেশি এবং এটাই গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল খাতে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ চলমান। গার্মেন্টস, টেক্সটাইল, এছাড়াও রয়েছে নিটওয়্যার, কৃষি ও সেবা সামগ্রী। যা বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশে রফতানি আয়ের সিংহভাগ আসে টেক্সটাইল গার্মেন্টস থেকে।
বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে রপ্তানি খাত। গার্মেন্টস সেক্টরে বিনিয়োগ সবচেয়ে বেশি ১৮০ কোটি ডলার, যা পূর্ববর্তী বছর থেকে ৫ শতাংশ বেশি। শিল্প প্রতিষ্ঠানে সরকারের বিনিয়োগে গার্মেন্টস খাত এগিয়ে। এছাড়া গার্মেন্টস আনুষঙ্গিকে ৬৬ দশমিক ৮, টেক্সটাইলে ৬৬ ও নিটওয়্যারে ৩১ দশমিক ৫ কোটি ডলার রপ্তানি আয় হয়েছে। শ্রমিক কমলেও বেড়েছে রপ্তানি আয়।
দেশে বর্তমান ইপিজেডগুলোতে ৩৯টি টেক্সটাইল, ৩১টি নিটওয়্যার, ২৮টি পাদুকা-চামড়া, ১৯টি ইলেকট্রনিকস, ১২টি তাওয়াল, ১১টি ধাতব, ১৩টি প্লাস্টিক, ১৪টি তাবু, ৬টি টুপি শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়াও কৃষিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান, সেবা, সার উৎপাদন, আসবাবপত্র, কাগজজাত, দড়ি, ক্রীড়া, মাছ ধরার রিল ও খেলনা উৎপাদন শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
বিগত, ২০০৫ সালে ইপিজেডের আওতায় ২২১টি শিল্প প্রতিষ্ঠান উৎপাদনরত ছিল যা বর্তমানে ৪৭০টি প্রতিষ্ঠান উৎপাদনরত প্রতিষ্ঠানে উন্নিত হয়েছে এবং ১০১ শিল্প প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। চট্টগ্রামে ১৬১, ঢাকায় ১০২, মোংলায় ৩০, ঈশ্বরদীতে ১৮, কুমিল্লায় ৪৭, নীলফামারিতে ১৮, আদমজিতে ৫২ এবং কর্ণফুলী ইপিজেডে ৪২টি শিল্প প্রতিষ্ঠান উৎপাদনরত রয়েছে।
কোভিড-১৯ এর মহামারীতে বস্ত্রশিল্পে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে এবং দক্ষ শ্রমিকদের একটি বিশেষ অংশ হয়েছে কর্মহীন এছাড়াও,অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠানে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অটোমেশন হচ্ছে, ফলে শ্রমিক কমছে। এ জন্য বেশি বেশি শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, বেকার হয়ে পড়া শ্রমিকের কাজ ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আরও দক্ষতা অর্জনের দিকে নজর দিতে বলছেন অর্থনীতিবিদরা।
ঢাকায় অবস্থিত বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন জানান, "বিনিয়োগ বাড়লে সাধারণত উৎপাদন বাড়ে। উৎপাদন বাড়লে কর্মসংস্থান বাড়ার কথা। সাধারণত অনেকে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তির দিকে ছুটছে। ফলে কর্মসংস্থান কমছে। কর্মসংস্থান কমলে সমাজে বৈষম্য বাড়ে। তাই সরকারের উচিত বেশি বেশি শিল্প প্রতিষ্ঠান বাড়ানো। এর পাশাপাশি দক্ষ ও প্রযুক্তি নির্ভর জনবল তৈরি করা যাতে করে বাইরে থেকে লোক ভাড়া করে না আনতে হয়।এ বিষয়ে সকলকে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান করেছেন।"
সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করছেন দেশীয় অর্থনীতিবিদগন ও সংশ্লিষ্টবৃন্দরা।
এস,এম/ড.





0 মন্তব্যসমূহ