Latest Textile | Mohammad Imtiaz Khan
তৈরী পোশাক শিল্পের (RMG) সাথে ওয়াশিং, ডাইং, প্রিন্টিং ও প্যাকেজিং বা ফিনিশিং শব্দ গুলো অতপ্রত ভাবে জড়িত।
পোশাক তৈরী করে রপ্তানিতে, হয় প্রত্যেক গার্মেন্টস কারখানার ওয়াশিং, ডাইং, প্রিন্টিং ইউনিট লাগবে, যা সব রকম জায়গা ও সকল গার্মেন্টসের পক্ষে সম্ভব নয়। না হয় অন্য কোন ওয়াশিং শিল্পকারখানায় একাজ করিয়ে নিতে হবে। নতুবা পোশাক রপ্তানি সম্ভব না।
এখন এই টেক্সটাইল ওয়াশিং, ডাইং, প্রিন্টিং কারখানা গুলো কোথায় সম্ভব?
মুলত, ওয়াশিং, ডাইং, প্রিন্টিং এই ধরনের কারখানা গুলো সব থেকে বেশি টেক্সটাইল বর্জ্য তৈরী করে, সবচেয়ে বেশি পানি ব্যবহার করে অন্য সব টেক্সটাইল কারখানার (যেমন: স্পিনিং মিল, গার্মেন্টস ইত্যাদি) তুলনায়। এই জন্যই এই কারখানা গুলোকে Wet Processing এর মধ্যে ধরা হয়।
![]() |
| River Pollution |
এখন, এমন কারখানা গুলোকে অবশ্যই আবাসিক এলাকা থেকে দুরে, নদীর ধারে, ইটিপি (Effluent Treatment Plant) ও স্যুয়ারেজ লাইন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্থাপন করা উচিত। তা না হলে, নদী মাতৃক দেশের মাকেই মেরে ফেলা হবে ও হচ্ছে, সাথে সাথে নিজেদের পরিবেশকেও।
এমনি প্রায় ৮১টি কারখানা রয়েছে ঢাকার কেরানীগঞ্জের। যার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত প্রায় তিন লাখ শ্রমিকের জীবন ও জীবিকা। জানা গেছে, সারাদেশের গার্মেন্টস পণ্যের ৮০% এই এলাকার ওয়াশিং কারখানাগুলো থেকে ধোয়া হয়।
এই কারখানাগুলো আবাসিক এলাকার সাধারন বাসাবাড়িতে নিরাপত্তাহীন প্রযুক্তিতে ওয়াশিং করার পর তরল বর্জ্য কোন রকম পরিশোধন ছাড়াই ফেলছে বুড়িগঙ্গায়। যা খাবার পানিকেও করছে দূষিত।
শিল্পকারখানা গুলো বাসাবাড়ি থেকে শিল্প পার্কে স্থানান্তরের নামে মাত্র প্রচেষ্টা চলছে গত কয়েকবছর। ২০১৮ সালে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অধীনে 'কেরানীগঞ্জ শিল্প পার্ক' প্রজেক্টের জন্য বিসিক শিল্প এলাকার পাশে প্রায় ৫০০ কাঠা জমি কিনে সেখানে শিল্প পার্ক নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয়, যা এখনও শেষ হয়নি।
ফলাফল: কারখানা গুলো বন্ধ করতে কয়েক দফা অভিযান চালানোর পর প্রতিবারই অভিযান শেষে পরিবেশ অধিদফতর ও উপজেলা প্রশাসন কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পরপরই সিলগালা করা বন্ধ কারখানা আবারও চালু করছে মালিকরা। এ যেন নিজেদের ভবিষ্যতের সাথে চোর পুলিশ খেলা।
![]() |
| সিলগালা |
এভাবে ওয়াশিং কারখানার সঙ্গে নানা ভাবে জড়িত তিন লাখ শ্রমিক ও তাদের পরিবারগুলোকে মানবেতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, কেরানীগঞ্জ শিল্প পার্ক প্রকল্পের মাটি ভরাট করে প্লট করার কাজ চলছে। লে-আউট প্ল্যান, ইটিপি নকশা এবং সিইটিপির প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ অবস্থানগত ছাড়পত্রের ফাইল পরিবেশ অধিদপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে মুল বিষয় গুলোই নেই। পার্কটিতে এখনও বিদ্যুৎ, গ্যাস, ইটিপি স্যুয়ারেজ লাইন ইত্যাদি সরকারের আওতাভুক্ত কাজ গুলো শুরুই হয়নি।
![]() |
| collected from somokal |
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, আসলে বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে সব কাজেই একটু ধীরগতি দেখা দিয়েছিল। তবে বর্তমানে কেরানীগঞ্জ শিল্প পার্কের কাজ পুরোদমে চলছে। আমি নিজেই সবকিছু তদারক করছি।
কেরানীগঞ্জ ওয়াশিং ফ্যাক্টরি মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি কাজী আবু সোহেল কাজল জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছেন তারা। পাশাপাশি শিল্প পার্কে স্থানান্তরের আগ পর্যন্ত ওয়াশিং কারখানাগুলো যেন বর্তমান অবস্থানে থেকেই বিনা বাধায় ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ পায়, সেটাও নিশ্চিত করতে সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।
এদিকে কিছু ওয়াশিং কারখানা সরকারের নির্দেশনায় দীর্ঘদিন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে পড়েছে হাজারো কর্মী।
![]() |
| collected |
বন্ধ কারখানা গুলো খুলে দেওয়ার দাবিতে গত বুধবার (২৭ জানুয়ারি) কেরানীগঞ্জের কদমতলীর বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম চত্বর এলাকায় মানববন্ধন করেছে ওয়াশিং কারখানা মালিক- শ্রমিকরা। সকাল সাড়ে ১১টায় "ওয়াশিং কারখানা মালিক সমবায় সমিতির" ৫ দফা দাবিতে এ মানববন্ধন কর্মসূচিতে হাজার হাজার মালিক-শ্রমিক অংশগ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন
উক্ত সমাবেশে পশ্চিম আগানগর গার্মেন্টস মালিক সমিতির সহসভাপতি মো. আবু সালাম বলেন, ওয়াশিং কারখানার সঙ্গে আমাদের গার্মেন্ট ব্যবসায়ীরা জড়িত। আমরা প্যান্ট তৈরি করে যদি ওয়াস করতে না পারি তাহলে আমাদের মাল তৈরি করে কোনো লাভ হবে না। ওয়াস ছাড়া একটি প্যান্টও বিক্রি করা যাবে না। এই ওয়াস কারখানাগুলোর সঙ্গে কেরানীগঞ্জে গার্মেন্ট পল্লী খ্যাত সকল ব্যবসায়ী ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমাদের এই শিল্পটিকে না মেরে বাঁচিয়ে রাখার অনুরোধ করছি কর্তৃপক্ষের কাছে।
#TextileWashing #KeraniGanjIndustries









0 মন্তব্যসমূহ