Latest Textile | নিজস্ব প্রতিবেদক
গার্মেন্টস কর্মীদের জন্য চালু হতে যাচ্ছে স্বাস্থ্য বীমা যা আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দেবে।
গত বৃহস্পতিবার (২৫ শে মার্চ) ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) এর বিশেষজ্ঞরা বলেছেন,
তিন থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি এই কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হওয়ার পর সব পোশাক কারখানায় এটি চালু হবে। যাতে আনুমানিক খরচ হবে বছরে ৭.৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৬৩ কোটি টাকা)।
বাংলাদেশ সরকার ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সহায়তায় এই বীমা প্রকল্প চালু হতে যাচ্ছে।
তথ্য সূত্রে, দেশের প্রায় সাড়ে চার হাজার পোশাক কারখানায় বর্তমানে আনুমানিক ৪০ লাখ কর্মী নিয়োজিত আছেন। যদিও সম্প্রতি গার্মেন্টস খাতে শ্রমিকদের অধিকার সম্পর্কিত বেশকিছু বিষয়ে বেশ ভালো উন্নয়ন হয়েছে। তবুও এখনো এই খাতে আরও অনেক উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে।
বীমা প্রকল্পটি দুটি ট্রায়াল ধাপে সংগঠন করার প্রস্তাব দিয়েছেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, সাথে সাথে যৌথভাবে কাজ করবে আন্তর্জাতিক সংস্থা ডয়েচে গেসেলশ্যাফট ফুর ইন্টারন্যাশনাল জুসামমেনারবেইত (GIZ)।
প্রথম ধাপে এই বীমা সুবিধা পাবেন প্রায় ১০০টি কারখানার দেড় লক্ষ পোশাক কর্মী। আগামী এপ্রিল মাস থেকে শুরু হচ্ছে এই কার্যক্রম।
দ্বিতীয় পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা সহ সকল গার্মেন্টস শ্রমিকরা এ সুবিধা পাবেন বলে জানা গিয়েছে।
শ্রম মন্ত্রণালয় সুত্রে জানা গিয়েছে, শ্রমিকদের বীমা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন হলে ব্যয় হবে রপ্তানির ০.০১৯ শতাংশ বা প্রতি ১০০ টাকায় প্রায় দুই পয়সা। আর দেশে বর্তমানে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা রপ্তানি মূল্যের ওপর ০.০৩ শতাংশ হারে সরকারের কেন্দ্রীয় তহবিলে টাকা জমা দিচ্ছেন। ইআইআই নামে চালু হওয়া বীমার প্রাথমিক অর্থ ব্র্যান্ড ও বায়ারদের কাছ থেকে আসবে। পুরোদমে চালুর পর এটির দায়িত্ব কারখানা মালিকদের নিতে হবে।
আইএলও ও সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পোশাক শ্রমিকদের বীমার আওতায় আনতে সরকারের সঙ্গে খুবই তাড়াতাড়ি একটি চুক্তি হবে।
চুক্তিটির লক্ষ্য হলো কেন্দ্রীয়ভাবে তহবিল সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দুর্ঘটনায় শ্রমিকের মৃত্যু বা আহত হওয়ার ক্ষেত্রে বীমা ব্যবস্থা থেকে তাদের কিংবা পরিবারের সদস্যদের সাহায্য করা।
দেশের শ্রম আইন অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রে নিহত হলে শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ দুই লাখ এবং কর্মহীন হওয়ার মতো আহত হলে আড়াই লাখ টাকা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করা হয়। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা অনুযায়ী এ টাকার পরিমাণ অতি নগন্য। এমনকি শীর্ষ ২০টি তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে বাংলাদেশই একমাত্র যার শ্রমিকদের EII ও কোন প্রকার সামাজিক বীমার সুবিধা নেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় এসেছে, শতকরা ৪৩ জন পোশাক কর্মী বছরে নানা অসুখে ভোগেন। আর ৪০ ভাগ শ্রমিকরাই উচ্চমূল্যের জন্য যথাযথ সময়ে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারেন না।
অন্যদিকে স্বাস্থ্য বীমার সুবিধায় আছেন মাত্র ৩৫টি কারখানার ৫৮ হাজার ২৬১ জন শ্রমিক।
আরও পড়ুন
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিক লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি বলেন,
প্রত্যেক শ্রমিকেরই স্বাস্থ্য বীমা থাকা জরুরি। আমরা দীর্ঘদিন ধরে বীমা সুবিধা কার্যকর করতে দাবি করে আসছি। বীমার অর্থায়নের ব্যাপারে কারখানা মালিকের পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকেও বায়ারদের পক্ষ থেকে এগিয়ে আসা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।
#EmploymentInjuryInsurance #Garments #RMG






0 মন্তব্যসমূহ