Latest Textile | নিজস্ব প্রতিবেদক
সারা দেশে গত কয়েক দিন ধরেই সরকারের নানা তথ্য সূত্র থেকে বলা হচ্ছিল একটি 'সর্বাত্মক লকডাউনের' দাওয়ার কথা। সেখানে বলা হচ্ছিল গার্মেন্টস সহ কোন ধরনের শিল্প কারখানা খোলা রাখা হবে না এবার।
সেই জন্য গত রবিবার (১১ই এপ্রিল) পোশাক শিল্পের মালিক সংগঠনগুলো দাবি জানিয়েছিল,
স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানা খোলা রাখার কথা।
তারই ধারাবাহিকতায় আজ (১২ই এপ্রিল) নতুনভাবে বিধিনিষেধ জানিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
তবে এই প্রজ্ঞাপনেও লকডাউন বা সাধারণ ছুটি শব্দ ব্যবহার করা হয়নি।
১৪ই এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে ২১শে এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত নতুন এইবিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে বলে বলা হয়েছে।
১৩টি নির্দেশনা নিয়ে এই প্রজ্ঞাপনে সরকারি, বেসরকারি অফিস এবং স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট পুরোপুরি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গার্মেন্টস শিল্প-কারখানা খোলা রাখা যাবে।
এই সময়ে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। সড়ক, নৌ, রেল, অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট-সব ধরনের পরিবহন বন্ধ থাকবে।
তবে টিকা গ্রহণের প্রয়োজনে টিকার কার্ড দেখিয়ে বের হওয়া যাবে। এছাড়া ঔষধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কেনা, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন বা সৎকার- ইত্যাদি প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া যাবে। পণ্যবাহী যানবাহন ও জরুরি সেবার ক্ষেত্রে কোন বিধিনিষেধ রাখা হয়নি।
কিন্তু সাধারণ পরিবহণ বন্ধ থাকলে গার্মেন্টস কর্মীরা কীভাবে যাতায়াত করবে তানিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
অন্যদিকে খাবারের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁয় দুপুর বারটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত এবং রাতে বারটা থেকে ভোর ছ'টা পর্যন্ত খাবার বিক্রয় এবং সরবরাহ করা যাবে।
উন্মুক্ত জায়গায় কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কেনা বেচা করা যাবে সকাল নয়টা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত।
দেশের আদালত বা বিচার কার্যক্রম নিয়ে সুপ্রিমকোর্ট প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যবিধি মেনে জুম্মার নামাজ এবং তারাবীর নামাজ হবে। তবে এসব নামাজে জমায়েত কীভাবে করা যাবে- সে ব্যাপারে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্দেশনা জারির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
বোরো ধান কাটার জন্য জরুরি প্রয়োজনে কৃষি শ্রমিক এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারবেন। কৃষি শ্রমিক পরিবহনের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর প্রশাসনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সমন্বয় করার জন্য।
বিধি-নিষেধগুলো কার্যকর করতে সারাদেশে জেলা ও মাঠ প্রশাসন পদক্ষেপ নেবে এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের নিয়মিত টহল জোরদার করবে।
বাংলাদেশে গত বছরের ৮ই মার্চ করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর ২৬শে মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। তখন টানা দুইমাস পরিবহন, মার্কেট ও অফিস-আদালত বন্ধ থাকে।
এই বছরের মার্চ থেকে আবার সংক্রমণ বৃদ্ধির হার বেড়ে যাওয়ায় সরকার এপ্রিলের শুরুতে চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে।
আরও পড়ুন
তবে গত ৫ই এপ্রিল থেকে দেশে চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
নতুন এই প্রজ্ঞাপনও কতটুকু কার্যকর হবে সে বিষয়ে সন্দেহ আছে বিশেষজ্ঞদের।
#COVID19 #LockdownOrDrama #Garments





0 মন্তব্যসমূহ