Latest Textile | Habibur Rahman
আমরা যখন সুইং লাইন, ডায়িং মেশিন, প্রিন্টিং ফ্যাক্টরী গুলোতে একটা স্টাইল থেকে আর একটা স্টাইলে, কালার থেকে অন্য কালার, একটা ডিজাইন থেকে নতুন ডিজাইনে প্রোডাকশন শুরু করতে চাই, আমাদের দেশের গৎ বাধা নিয়ম অনুসারে ৬ ঘণ্টা থেকে ১০ দিন পর্যন্ত (১০০ ঘণ্টা) সময় নষ্ট হয়।
আর আমরা এটাকেই স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নিতে ও শুরু করেছি। কেননা বিগত ত্রিশ বছর ধরে একই ঘটনা দেখেও আসছি এবং অভ্যস্ত হয়ে গেছি। পোশাক শিল্প ছাড়াও অন্যান্য সকল উৎপাদন মুখী শিল্পে কিন্তু একই অবস্থা।
▶️ আমাদের মানসিকতা ও অজুহাত গুলো নিম্ন রূপ:
১। আরে ভাই, এই ভাবেই তো কোটি কোটি টাকা ইনকাম হচ্ছে।
২। দেখেন যদি ঠিক করতে পারেন, করে দেন!
৩। আমরা চেষ্টা তো কম করলাম না, এর বেশি সম্ভব না।
৪। আগে তো অবস্থা এর চেয়ে বেশি খারাপ ছিল।
৫। প্রেজেন্টেশনে এই সব অনেক কিছু বলা যায়, ফিল্ডে আসেন, দেখেন কেন আমরা পারিনা।
৬। আমাদের সাপ্লাই চেইন ঠিক মত মালামাল এনে দিলে আমরা আরো বেশি প্রোডাকশন দিতে পারতাম।
৭। আমাদের তো আই/ই টিম আছে তারা ও তো কিছু করতে পারছেনা।
এই অবস্থা থেকে পরিত্রান এর উপায় হল এসএমইডি(SMED) ব্যবস্থাপনা শিক্ষা করা। দ্রুত পরিবর্তন নিশ্চিত করতে এই পদ্ধতির জুড়ি নেই। সিঙ্গেল মিনিট এক্সচেঞ্জ অফ ডাই এর সংক্ষিপ্ত রূপ হল এসএমইডি ব্যবস্থাপনা। যে কোন কাজের কুইক চেঞ্জওভার কিভাবে সিঙ্গেল ডিজিট মিনিটে নিশ্চিত করা যায় তার প্রচেষ্টা থেকে এই পদ্ধতির অবতারণা করেন টয়োটার কনসাল্টেন্ট মিঃ সিজিও সিংগো ১৯৫০ সালের দিকে।
যে সকল কারখানার মালিক ও কর্মকর্তা গণ মনে করেন যে আপনাদের কোন প্রসেস এ, সময় বেশি লাগছে এবং অপব্যয় ও অপচয় বাড়ছে তাদের জন্য এই টুল কার্যকরী হবে। লীন মেথডে অপব্যয় / অপচয় রোধে অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি হল এসএমইডি বা কুইক চেঞ্জওভার:
১। শুরু করতে হবে ফাইভ এস দিয়ে (লীন এর আর একটা টুল)
২। কোন প্রসেস নিয়ে কাজ টা শুরু করতে চান তা নির্ধারণ করুন।
৩। লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। আপনি কি ফলাফল পর্যন্ত পৌঁছুতে চান।
৪। টিম সিলেকশন করুন। এই বিষয় টা সবচেয়ে জরুরী।
৫। এই প্রসেস এর সাথে জড়িত সকল কার্যাবলীর তালিকা প্রস্তুত করুন, এবং দরকার হলে প্রসেস গুলোর ভিডিও ধারণ করুন।
৬। প্রত্যেকটা পদক্ষেপের পর্যালোচনা, বিচার, বিশ্লেষণ একটা "কুইক চেঞ্জওভার শিট" এ লিপিবদ্ধ করুন। অভ্যন্তরীণ কাজ সমূহ এবং বাহ্যিক কার্যক্রম সমূহঃ অবশ্যই আলাদা করে লিপিবদ্ধ করবেন।
৭। এই পর্যায়ে কয়েকটা ধাঁপ, যে কোন একটা একশন বেছে নিবেন:
- এক্সটার্নালাইজ করা: কিছু কাজ আছে, (যেমন প্রি-সেটআপ এক্টিভিটিজ) সে গুলো আগেই করে ফেলার ব্যবস্থা করা।
- পরিহার করা: কিছু কাজ আছে যে গুলো আমরা অযথা করে থাকি , সে গুলো কিভাবে অপসারিত করতে পারি তার ব্যাবস্থা করা।
- একত্রিত করণ: কিছু কিছু কাজ আছে যেগুলো দুই জায়গায় আলাদভাবে সবাই করে , লিস্ট খুঁজে দেখুন এবং এই ধরণের কাজ গুলো কিভাবে একত্রে করা যায় তার ব্যবস্থা করলে। কাজ কমে যাবে।
- পুনর্বিন্যস্ত করা বা বিন্যাস করা: কিছু কাজ পুনরায় বিন্যাস করলে দেখা যাবে , বেশ কিছু প্রসেস সহজ হয়ে যাবে।
- সহজতর করা: কিছু সহজসাধ্য কাজ আছে, আমরা জটিল ভাবে করেই অভ্যস্ত, একটু পর্যালোচনা করলেই পেয়ে যাবেন, এবং এই কাজটাই সময়ের পরিক্রমায় আরো সহজ সাধ্য ভাবে করা সম্ভব।
- পরিবর্তনের দরকার নাই: একটা মূল্যবান কথা আছে “Best kaizen is no kaizen”. যদি খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি হয়ে যায় তাহলে আপাততঃ যে ভাবে চলছে সেভাবেই থাকুক। তবে কিছুদিন পর পর যাচাই বাছাই করে দেখতে হবে।
৮। সবগুলো কাজের যেহেতু একটা ছক আমরা আঁকতে পেরেছি, এইবার কাজগুলোর মধ্যে সব চেয়ে জরুরী কোনটা বেঁচে নেব তা নির্ধারণ করতে হবে। সবগুলো নিয়ে কাজ একসাথে চিন্তায় করা যাবেনা।
৯। এর পর মূল কাজ শুরু। যাই করবো তা যেন টেকসই হয়, সহজতর হয়, সকলের বোধগম্য হয় এই ব্যাপারটা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে কাজের সুফল পাওয়া যাবে। আর তা না হলে প্রজেক্ট শেষ, আবার পুরোনো পদ্ধতি তে সকলেই ফেরত যাবে।
▶️ কেন আমাদের এই পদ্ধতি দ্রুত রপ্ত করতে হবে?
১। দিন দিন আমাদের অর্ডার কোয়ান্টিটি আরো ছোট হতে থাকবে।
২। প্রডাক্ট ভ্যারাইটি বাড়তে থাকবে।
৩। কম সময়ে বেশি উৎপাদন না করতে পারলে , প্রতিযোগী দেশ গুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় পেরে উঠবোনা।
৪। কাঁচামালের ইনভেন্টরি কম রাখতে পারবো।
৫। প্রোডাকশন ও শিপমেন্টের লিডটাইম নিঃসন্দেহে কমে যাবে।
৬। কাস্টমার স্যাটিস্ফেকশন বাড়বে।
৭। জাষ্ট ইন টাইম ম্যানুফ্যাকচারিং কালচার প্রতিষ্ঠা করবে।
৮। নতুন কোন প্রকার ইনভেস্টমেন্ট ছাড়া ইনকাম বাড়বে।
বাস্তব জীবনে আমরা প্রতি নিয়ত এই পদ্ধতির উদহারণ দেখতে পারি।
গাড়ির টায়ার পাংচার ঠিক করার পুরো ব্যাপার টা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপ গুলো খেয়াল করে দেখবেন বিগত দুই দশকে আপনার চোখের সামনেই কতগুলো উৎকর্ষ সাধন হয়ে গেছে।
কোন রেস্তোরা যদি তিন বেলা খাবার এর ভিন্ন মেন্যু প্রদান করে। তাদের কতগুলো খাবার কত দ্রুত প্রস্তুত করতে হয়। আবার কোন রেস্তোরা ১১ টার দিকে সিঙ্গারা, সমুচা, পিয়াঁজু এবং বিকেল ৪ টার ডালপুরি, মোগলাই পরোটা সহ হালকা নাস্তা প্রস্তুত করে। সব মিলিয়ে পাঁচ বেলার ভিন্ন মেন্যু অফার করে। পুরো সাইকেল টাই একটা প্রপার ম্যানেজমেন্ট।
এতক্ষনে আমরা নিশ্চয়ই বুঝেছি এই প্রপার ম্যানেজমেন্ট টা আমাদের প্রোডাকশনে যদি প্রতিফলন ঘটাতে পারি তাহলে আমাদের কারখানার উৎপাদন এবং দেশের রপ্তানী নিঃসন্দেহে বাড়বে।
প্রস্তাবনা: ১ থেকে শেষ পর্যন্ত
WriterHabibur RahmanSmart Factory 4.0 Consultant for Textile Apparel Industries;County Head, Quantity Improvement Solutions;Founder, Jobs For U.





0 মন্তব্যসমূহ