টেক্সটাইলে "ফ্যাশন ও স্টাইল" কি ও কেন?

Latest Textile | Golam Sarwer Mithun

ফ্যাশন ও স্টাইল এ শব্দ দুটির যেন এক আকর্ষণীয় ক্ষমতা আছে। যা আমাদের কল্পনার জগতকে রাঙিয়ে তোলে। ইতিহাসের প্রতিটি ধাপেরই রয়েছে নিজস্ব স্টাইল ও ফ্যাশন যা একটি নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক পরিচয় বহন করে।

সৃষ্টির আদিকাল থেকে আজ পর্যন্ত ফ্যাশন ও স্টাইলের বিবর্তন ও ক্রমবিকাশের মাঝে লুকিয়ে আছে মানব সভ্যতার জন্মলগ্ন থেকে তার চলার গতি শুরু করেছে। যা অতীতের সিঁড়ি বেয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রূপে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলছে। ফ্যাশন আসবে, ফ্যাশন হারিয়ে যাবে। হয়তো দেখা যাবে আগের ফ্যাশনগুলো ঘুরে ফিরে আবার আসছে।ডিজাইন ছাড়া কোন ফ্যাশন বা স্টাইল ভাবা যায়না। পোশাকের রং,আকার,রেখার সঠিক মিলনে পোশাকের সৌন্দর্য ও আকর্ষন তুলে ধরাই হলো ডিজাইন।

▶️ফ্যাশন এবং স্টাইল (Fashion and Style)

মানব জীবনে পোশাকের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। আর এ পোশাকেই সৃষ্টির আদিকাল থেকেই আজ পর্যন্ত স্টাইল ও ফ্যাশনের বিবর্তনে ও ক্রমবিকাশের মাঝে লুকিয়ে আছে মানবসভ্যতার ইতিহাস। পোশাকে ফ্যাশন ও স্টাইল সম্বন্ধে জানতে হলে আমাদের আগে জানতে হবে পোশাকের ব্যবহার আমরা কখন কীভাবে অনুভব করেছি।সভ্যতার আগে থেকেই অর্থাৎ সেই প্রস্তর যুগেও মানুষ সৌন্দর্য প্রিয় ছিল তার প্রমান ইতিহাসে পাই। আবার মানুষ জন্মগতভাবে কিছুটা সৌন্দর্য প্রিয়। মূলত বস্ত্র ও পরিচ্ছেদের প্রথম উৎপত্তি মানুষের সৌন্দর্য পিপাসা থেকে।

স্টাইল একজন ব্যক্তির মধ্যে শ্রেণিভুক্ত থাকে। কিন্তু যখন ঐ স্টাইলকে সবাই গ্রহন করে তখন তা হয় ফ্যাশন। যেমন: মুজিব কোট, জিন্নাহ টুপি, সুচিত্রা ব্লাউজ ইত্যাদি বিভিন্ন ব্যক্তির স্টাইল থেকে পরিবর্তিত হয়ে ফ্যাশন রূপান্তরিত হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফ্যাশন ও স্টাইলকে খুব সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। উনার মতে,

স্টাইল হচ্ছে ব্যক্তির স্বাতন্ত্র আর ফ্যাশন হচ্ছে গড্ডালিকা প্রবাহ।
ফ্যাশনের উৎপওি স্টাইল থেকে আর স্টাইলের পূর্ণ প্রকাশ হয় ফ্যাশনের মাধ্যমে। ফ্যাশন তৈরি হয় কারখানায় আর স্টাইল বনেদী কারুশিল্প।ফ্যাশন রবং স্টাইল একটি ছাড়া অন্যটি অর্থহীন।

▶️ফ্যাশন (Fashion):

ফ্যাশন হচ্ছে এমন এক ধারা, যা গৃহীত হয়; কিন্তু অবহেলিত হয় না। একজন শিল্পীর বিভিন্ন শৈল্পিক ক্রিয়াকলাপের উপর ভিওি করে ফ্যাশন উদ্ভব হয়। পোশাকের ব্যবহারের ভিন্নতা থেকে ফ্যাশন ও স্টাইল কথাটির উৎপওি। ফ্যাশন হচ্ছে যুগধর্মী স্টাইল প্রচলিত ধারায় স্থানে যা গ্রহণযোগ্য হয় অর্থাৎ প্রচলিত কোনো স্টাইলের ব্যাপক ব্যবহারই হচ্ছে ফ্যাশন। একটি নির্দিষ্ট সময়ে অথবা নির্দিষ্ট স্থানে যে প্রবণতা প্রশংসিত হয় এবং একে অন্যকে তা অনুকরণ ও অনুসরণ করে তাই ফ্যাশন।হাল ফ্যাশন, লেটেস্ট ডিজাইন এসব শব্দের সাথে সবাই কম বেশি পরিচিত। এক কথায় ফ্যাশন নিয়ে সারা পৃথিবী এখন মাতোয়ারা।

▶️ফ্যাশনের বৈশিষ্ট্য :

১। যদিও ফ্যাশন দীর্ঘস্থায়ী হয়না তবে কোনো সময় স্থায়িত্ব লক্ষ্য করা যায়।
২।ফ্যাশন চক্রকারে পরিবর্তন হয়।
৩।ফ্যাশন নিজস্ব সমাজ থেকে উত্থান হতে পারে অথবা অন্য সমাজ বা সংস্কৃতি থেকে আসতে পারে।
৪।ফ্যাশনে সৌন্দর্যের চেয়ে চাহিদার গুরুত্ব বেশি।
৫।ফ্যাশন সমাজ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
৬। ফ্যাশন দ্বারা মানুষ প্রভাবিত হয় এবং ফ্যাশনের উৎস হচ্ছে স্টাইল।

▶️স্টাইল (Style) :

সৌন্দর্য বিকাশের গুপ্ত রহস্য হলো স্টাইল। স্টাইল হচ্ছে ব্যক্তির নিজস্ব চিন্তা শক্তি ও সৃজনশীলতার বহিঃপ্রাকশ। ব্যক্তির নিজস্ব বৈশিষ্ট্য মণ্ডিত নক্সাই (Design) হচ্ছে স্টাইল। প্রত্যেকেরই পোশাক পরিধান করার নিজস্ব কৌশল আছে। সে কৌশলকে স্টাইল বলে।
কিছু কিছু স্টাইল মানুষের মাঝে একাধিকবার ফ্যাশন হয়ে ফিরে আসতে পারে।মানুষ তার এক ঘেয়েমি পরিবর্তনের জন্য একই স্টাইল শুধুমাত্র রং কিংবা রেখা বৈচিত্ত্যর মাধ্যমে নতুনত্বে ফিরে আসে।

▶️স্টাইলের বৈশিষ্ট্য :

১। স্টাইল হলো ব্যক্তির সম্পূর্ণ নিজস্ব চিন্তা-চেতনা ও কলাকৌশল।
২।স্টাইলের মাধ্যমে ব্যক্তিত্বের প্রকাশ পায়।
৩।স্টাইল হলো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সৃজনশীলতা ও প্রতিভার ফল।
৪।স্টাইল দীর্ঘস্থায়ী।
৫। অপসংস্কৃতির সাথে স্টাইলের কোন সম্পর্ক নেই।

আরও পড়ুন

Writer:
Golam Sarwer Mithun
Executive Ambassador - Latest Textile
Shyamoli Textile Engineering College (STEC)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ