
বিদ্যাপীঠ পর্যালোচনা 😍
বিদ্যাপীঠ: টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, জোরারগঞ্জ, চট্টগ্রাম (CTEC)
▶️"বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়" এর অধিভূক্ত একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ যা চট্টগ্রাম জেলার ভিতর অবস্থিত। চট্টগ্রাম টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজটি জোরারগঞ্জ বাজারের মধ্য দিয়ে অতিক্রমকারী পুরাতন ঢাকা ট্র্যাঙ্ক রোড এর পাশে অবস্থিত। এটি প্রথমে ১৯১১ সালে পেরি প্যাটেটিক বুনন স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। যা ব্রিটিশ রাজত্বকালে স্বদেশী আন্দোলনের ফসল ছিল। একে তারপর ১৯৬০ সালে দেওয়ানপুরের নিকটে অবস্থিত মহুরী প্রোজেক্ট রোডে স্থানান্তরিত করা হয়। ১৯৮০ সালে পেরি প্যাটেটিক বুনন স্কুলে টেক্সটাইল প্রযুক্তিতে ২ বছর মেয়াদী সার্টিফিকেট কোর্স চালু করা হয়। তখন একে বিভাগীয় টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট বলা হত। সময়ের চাহিদা মেটানোর তাগিদে ১৯৯৩ সালে এই ইনস্টিটিউটে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এর অধীনে তিন বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা কোর্স চালু করা হয়। ২০০১ সাল থেকে একে চার বছর মেয়াদী করা হয়। টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের উচ্চ চাহিদার কথা বিবেচনা করে ২০০৬-২০০৭ সেশনে টেক্সটাইল ডিপ্লোমা কোর্স বাতিল করে টেক্সটাইল প্রকৌশলে চার বছর মেয়াদী
বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স চালু করে।
কোর্স সমূহ:
🍁বর্তমানে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এই কলেজটিতে যেসব বিষয়ে চার বছর মেয়াদী বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স চালু রয়েছেঃ-
১)বি.এসসি. ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং(ইয়ার্ন)
2)বি.এসসি. ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং(ফেব্রিক)
3)বি.এসসি. ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং(ওয়েট প্রসেস)
4)বি.এসসি. ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং (অ্যাপারেল)
🌼বাংলাদেশে বর্তমানে শুধুমাত্র ১টি টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় আছে এবং তা হলো বুটেক্স।বাংলাদেশে এরপরে টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার যোগ্য দাবিদার হলো সিটেক এবং টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার প্রসেসিং চলতেছে।
🌲আবাসনের পরিপ্রেক্ষিতে ছেলেদের জন্য দুটি এবং মেয়েদের জন্য একটি হোস্টেল রয়েছে। এ ছাড়াও হোস্টেল গুলোয় পরস্পরের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান।
🌼এখন একটু সংক্ষেপে আলোচনা করা যাক সে সমস্ত বিষয়ে যা ক্যাম্পাসটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপদানে সম্যক ভূমিকা রাখে।
ল্যাবসমূহ :
@ কটন স্পিনিং ল্যাব
@ জুট স্পিনিং ল্যাব
@ নিটিং ল্যাব
@ ওয়েট প্রসেসিং ল্যাব
@ উইভিং ল্যাব
@ এপারেল ল্যাব
@ টেস্টিং ল্যাব
@ কম্পিউটার ল্যাব
@ মেকানিক্যাল ল্যাব
@ ফিজিক্স ল্যাব
@ কেমিস্ট্রি ল্যাব
@ মেশিন সপ ল্যাব
ইত্যাদি ইত্যাদি.....
ভবনসমূহ:-
@ ওয়ার্কশপ ভবন
@ জুট শেড ভবন
@ একাডেমিক ভবন
@ অডিটরিয়াম ভবন
@ লাইব্রেরী ভবন
@ প্রশাসনিক ভবন
@ মসজিদ
@অফিসার্স কোয়ার্টার,স্টাফ কোয়ার্টার ,কন্ফারেন্স রুম,খেলার মাঠ।
তাছাড়া লাইব্রেরী ভবনটি শিক্ষার্থীদের জন্য ঊন্মুক্ত।
ক্যাম্পাসের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ক্লাব এবং সংগঠনসমূহ যা শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগীকরন এবং মানসিক বিকাশে যথেষ্ট সহায়ক ।
ক্লাব এবং সংগঠনসমূহ:-
১. অনির্বাণ :
রক্তদান, বস্ত্রবিতরন , বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণসহ নানা কার্যক্রম সম্পাদন করে অনির্বাণ। মানবতার নানা কাজে এবং সহযোগীতায় জোরারগঞ্জে অনির্বাণ একটি ভালবাসা ও আস্থার নাম।
২. সিটেক স্পোর্টস ক্লাব: টেক্সটাইল ফুটবল লিগ, টেক্সটাইল প্রিমিয়ার লিগ,ভলিবল, ব্যাডমিন্টন, ইনডোর গেমস সহ নানাবিদ আয়োজনে সারাবছর ব্যস্ত থাকে ক্লাবটি।
৩. সিটেক কালচারাল ক্লাব:
নাটক,নাচ, গান, সহ যাবতীয় বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান কালচারাল ক্লাব আয়োজন করে থাকে।
৪. ঘাসফড়িং: সৃজনশীলতার বিকাশে ছাত্রছাত্রীদের সাহিত্যপাতা সম্পাদন, চারুকলা, ফটোগ্রাফী এবং নানাবিধ কাজ করে থাকে ঘাসফড়িঙ।
৫. সিটেক ডিবেট ক্লাব: সফলভাবে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।
৬. সিটেক ইংলিশ ক্লাব: বহির্বিশ্বে উচ্চশিক্ষার জন্য নানা ধরনের কর্মশালা ও কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করে আসছে।
৭. সিটেক ক্যারিয়ার এন্ড বিসিএস ক্লাব:
টেক্সটাইল জব এবং বিসিএস এ আগ্রহীদের জন্য প্রয়োজনীয় আলোচনার কেন্দ্র, সাপোর্ট ও কর্মশালার আয়োজন করার নিমিত্তে প্রতিষ্ঠিত।
৮. সিটেক সাহিত্য ক্লাব:
সাহিত্য প্রেমিদের একটি ক্লাব।
ক্যাম্পাসের বিস্তারিত বর্ণনা দিতে গেলে হয়তো ছোট্ট একটা এন্সাইক্লোপিডিয়া হয়ে যায়।
সিটেকে আপনি অনেক কিছু পাবেন আবার কিছু কিছু না ও পেতে পারেন।
হ্যাঁ আপনি যদি রাজনীতি প্রেমী হন ,তাহলে আপনি সত্যি সত্যিই এর অভাব অনুভব করবেন।
কারণ সিটেক সম্পূর্ণটাই পলিটিক্যাল ফ্রি এরিয়া।
Written By,
Tasfiqur Alam
Campus Ambassador - Latest Textile
Textile Engineering College, Chittagong (CTEC)
Department of Apparel Engineering




0 মন্তব্যসমূহ