
ফেব্রিক এর সমার্থক শব্দ কাপড় বলা যেতে পারে। কাপড় বা ফেব্রিক হচ্ছে একটি নমনীয় উপাদান যা প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম সুতা বা তন্তু দিয়ে তৈরী হয়।
আজ বলবো ফেব্রিক এর প্রকারভেদ নিয়ে!
▶️ ফেব্রিক প্রধানত দুই প্রকার
✔️১/ ওভেন ফেব্রিক
✔️২/ নীট ফেব্রিক
প্রথমত এই দুই প্রকারের সংজ্ঞা বিশ্লেষন করার চেষ্টা করলাম।
▶️ ওভেন ফেব্রিকঃ
দুই সারি সূতা তাঁত এর সাহায্যে পরস্পর সমকোণ বন্ধনীর মাধ্যমে যে কাপড় বা ফেব্রিক তৈরী করে তাকে, ওভেন ফেব্রিক বলা হয়।শার্ট,ট্রাউজার,শাড়ী,কম্বল,তোয়ালে,চাদর এগুলো ওভেন ফেব্রিক হিসেবে ধরা হয়
▶️ নীট ফেব্রিকঃ
যে প্রক্রিয়ায় বিশেষ ধরনের নিডেলের সাহায্যে লুপ তৈরি করে সেই লুপগুলোকে বিশেষ নিয়মে পরস্পরের সাথে লম্বালম্বি বা সমান্তরালভাবে সংযোজিত করে কাপড় তৈরি করা হয়, তাকে নিট ফেব্রিক বলে। শার্ট,আন্ডার গার্মেন্টস,পায়জামা,মোজা ইত্যাদি পোশাক নিট ফেব্রিক হিসেবে ধরা হয়।
▶️ এছাড়াও রয়েছে নন ওভেন ফেব্রিকঃ প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম আঁশের বন্ধন অথবা ইন্টারলকিং অথবা উভরের মাধ্যমে তৈরি ছিদ্রযুক্ত টেক্সটাইল স্ট্রাকচার যা যান্ত্রিক, রাসায়নিক, তাপীয় অথবা দ্রাবক পদার্থের সাহায্যে অথবা উভয়ের সম্মিলনের মাধ্যমে তৈরি কাপড় কে নন-ওভেন কাপড় বলে।
উদাহরণ হিসেবে আমরা বলতে পারি এপ্রোন,টেবিল ক্লথ, ওয়াশ ক্লথ,ইন্টার-লাইনিং,প্যাকেজিং,কোটেড ফেব্রিকস,মিলিটারি ক্লদিং,বুক কভার,ম্যাপস,টেপস,টি ব্যাগ,কফি ব্যাগ,স্কাওয়ারিং প্যাড,ক্লথ ইত্যাদি।
▶️ ওভেন ফেব্রিক কে আবার তিন ভাগে ভাগ করা হয়:
✔️প্লেইন ফেব্রিকঃ
এই কাপড় গুলো সাধারণত একদম প্লেইন হয়ে থাকে,যা দিয়ে প্লেইন শার্ট তৈরি করতে পারি।
✔️টুইন ফেব্রিকঃ
এই কাপড় সাধারণত মোটা হয়। জিন্স পেন্ট তৈরির কাজে এই কাপড় ব্যবহার করা হয়,এবং কিছু শার্ট এর ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয়।
✔️সাটিন ফেব্রিকঃ
এই ধরনের কাপড় সাধারণত কৃত্তিম সুতা দ্বারা তৈরী হয়,তাই এগুলো পিচ্ছিল হয়ে থাকে যদি উদাহরণ হিসেবে ধরা হয় তাহলে সিল্ক ফেব্রিক,রেশম ফেব্রিক সহ আরো কিছু ফেব্রিক কে ধরতে পারি।
✔️এছাড়াও ফেঞ্চি, স্ট্রাইপ, ম্যাট, চেক, রিব, ডবি, জ্যাকার্ড উল্লেখযোগ্য কিছু ওভেন ফেব্রিক রয়েছে।
▶️ নীট ফেব্রিক
বর্তমান সময়ে বহুল ব্যবহৃত ফেব্রিক হচ্ছে নীট ফেব্রিক । যা কিনা ওভেন ফেব্রিকের চেয়েও তিনগুন বেশি হারে ব্যবহার করা হচ্ছে । আর শীতের মৌসুমে এর ব্যবহার আরও বেড়ে যায়।
▶️ নীট ফেব্রিক কে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়
✔️ওয়ার্প নীট ফেব্রিকঃ
কাপড়ের দৈর্ঘ্য বরাবর সুতাকে বলা হয়ে থাকে ওয়ার্প নীট ফেব্রিক।
✔️ওয়েফট নীট ফেব্রিকঃ
আড়া আড়ি সুতাকে বলা হয় ওয়েফট নীট ফেব্রিক।
▶️ ওভেন ফেব্রিকের চেয়ে নিট ফেব্রিক এর দ্রুত প্রসারের অন্যান্য কারনগুলো হল, এর প্রাথমিক বিনিয়োগ কম, উৎপাদন বেশি, দ্রুত ও সহজেই তৈরি করা যায়, এই কাপড় তৈরিতে শ্রম ও মজুরি কম লাগে, নীট ফেব্রিক আরামদায়ক ও সময়োপযোগী ইত্যাদি
তথ্যঃ উইকিপিডিয়া।
লেখক: আকাশ চন্দ্র দাশ
এপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং (১ম ব্যাচ)
ড.এম এ ওয়াজেদ মিয়া টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ।
পীরগঞ্জ,রংপুর। (DWMTEC)




0 মন্তব্যসমূহ