
Latest Textile | উমর ইবনে সাজ্জাদ
১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশ ছিল দরিদ্রতম দেশগুলোর অন্যতম। রাজনৈতিক বৈষম্যের কারণেই স্বাধীনতাত্তোরকালে আমাদের দেশে কোনো গুরুত্বপূর্ণ শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সুযোগ পায়নি। ফলে আমাদের অর্থনীতির ভিত্তিও ছিল খুবই দুর্বল। তাই সীমিত সম্পদ দিয়ে সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত একটি দেশের পুনর্গঠন নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দেয়। আর সে শুণ্যস্থান পূরণে সহায়ক হয় আমাদের দেশের তৈরি পোশাক শিল্প। এখন আমাদের অর্থনীতির প্রধানতম চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছে এই শিল্প এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে এর অবদানও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস ও লক্ষ্য লক্ষ্য মানুষের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। যা আমাদের জাতীয় অর্থনীতির চাকাকে গতিশীল রাখতে সহায়ক হয়েছে।
সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে শীর্ষ ১০এ স্থান পাওয়া বিশ্বের ২৫টি পরিবেশবান্ধব শিল্প স্থাপনার মধ্যে আছে বাংলাদেশের সাতটি। সব কটিই তৈরি পোশাক কারখানা। এর বাইরে রপ্তানি খাতে নতুন সম্ভাবনার নাম ডেনিম বা জিন্স পোশাক। ইতোমধ্যে ডেনিম পোশাক রপ্তানিতে বিরাট সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। সারা বিশ্বে এই পোশাক তৈরিতে বাংলাদেশ শীর্ষ তিন দেশের একটি। ইউরোপের বিশাল বাজারে জিন্স রপ্তানিতে বাংলাদেশই শীর্ষে। বিশ্ববাজারে এই পোশাক রপ্তানিতে চীনকে টপকে এক নম্বর হওয়ার পথে বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে অনেকটা।
বাংলাদেশের অর্থনীতির যে চমকপ্রদ উত্থানটি আজ ঘটেছে তার মূল চালিকা শক্তি হিসাবে কাজ করছে পোশাক শিল্প। আশি দশকের শেষ ভাগে বাংলাদেশে প্রসার ঘটে পোশাক শিল্পের। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার আয়ের বড় একটি অংশ আসে পোশাক রপ্তানির মাধ্যমে। বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাকের প্রথম চালানটি রপ্তানি হয় ১৯৭৮ সালে। এই চালানটিতে ছিল শুধু মাত্র ওভেন শার্ট। এরপর পরই বিদেশি ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের পোশাকের কদর বাড়তে থাকে আর রপ্তানির চাহিদা বেড়ে যায়।
বাংলাদেশে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত কাঁচা পাট ও পাটজাত দ্রব্য মোট রপ্তানির ৫০ শতাংশ ছিল যা সেই সময়ের সকল পণ্য রপ্তানির শীর্ষে ছিল পাটের অবদান। তবে আশির দশকের শেষার্ধে পোশাক শিল্পের রপ্তানির গতি বৃদ্ধি পায়। এবং পোশাক শিল্প রপ্তানি খাতের শীর্ষে চলে আসে। ১৯৯৯ সালে এই শিল্পের ব্যাপক উত্থান ঘটে। ওই সময় পোশাক শিল্প খাতে সরাসরি কর্মসংস্থান হয় ১.৪ মিলিয়নের বেশি মানুষের। এই কর্মজীবী শ্রমশক্তির ৮০ শতাংশই নারী।
২০১৫-১৬ অর্থ বছরের রপ্তানি পণ্যগুলোর মধ্যে তুলনা করলে দেখা যায়, তৈরি পোশাক থেকে আয় হয়েছে সর্বাধিক। এই অর্থ বছরে পোশাক শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধির পরিমাণ ছিল ১০.১৪ শতাংশ। একটি পরিসংখ্যন থেকে জানা যায়, ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে দেশের পণ্য রপ্তানির আয় ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। ২০১১-১২ অর্থ বছরে মোট রপ্তানি আয় ছিল প্রায় ২ হাজার ৪২৯ কোটি ডলার। ২০১২-১৩ অর্থ বছরে এই আয় বৃদ্ধি পেয়ে তা হয় ২ হাজার ৭০৩ কোটি ডলার, ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরে তা আরো বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৩ হাজার ১২১ কোটি ডলার, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে সকল রেকর্ড ভেঙ্গে তা বৃদ্ধি পায় ৩ হাজার ৪২৪ কোটি ডলার। এই রপ্তানি আয়ের বড় যোগানদার পোশাক শিল্প।
পোশাক শিল্পকে ঘিরে তৈরি হয়েছে কিছু নতুন নতুন ব্যবসা বাণিজ্য। যেমন- পোশাক শিল্পের জন্য গড়ে উঠেছে বন্ত্র, সুতা, প্যাকেটজাতকরণের উপকরণ এতদজাতীয় শিল্প এর পাশাপাশি বিকাশ ঘটেছে পরিবহন, ব্যাকিং, শিপিং এবং ইনসুরেন্স এর মত আর্থিক খাতের। পোশাক শিল্পের বাইরে এই জাতীয় খাত গুলিতে পরোক্ষভাবে প্রায় দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেছে পোশাক শিল্পকে অবলম্বন করে গড়ে ওঠা শিল্পগুলিতে।





0 মন্তব্যসমূহ