প্রা‌‌‌‌ণোদনা শেষ, গার্মেন্টস মালিকদের আরো বরাদ্দ লাগবে


Latest Textile | নিজস্ব প্রতিবেদক

মালিকেরা এত শ্রমিক ছাঁটাই করার পরও যেন চালাতেই পারছেন না গার্মেন্টস কারখানা। গত সোমবার (২২ জুন) তিন মাসের মজুরির জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে পোশাক শিল্প মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএর (BGMEA) সভাপতি রুবানা হক ও বিকেএমইএর (BKMEA) সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান যৌথভাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে একটি চিঠি দেন।

চিঠিতে দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি পোশাক রপ্তানির সক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে শ্রমিক-কর্মচারীর আগামী জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বরের বেতন – ভাতা পরিশোধের জন্য আগের মতো সহজ শর্তে অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার জন্য অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন তারা।(খবর অর্থসূচকের)

সূত্র মতে, তহবিল থেকে ঋণ পেতে বিজিএমইএর সদস্য ১ হাজার ৩৭০টি কারখানা, বিকেএমইএর সদস্য ৫১৯টি কারখানা আবেদন করেছিল। তবে নানা কারণে বিকেএমইএর ৯৯ সদস্য কারখানার আবেদন বাতিল হয়ে যায়। এরপরও পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণােদনা প্যাকেজের সিংহভাগ অর্থই ঋণ হিসেবে পেয়েছেন পােশাকশিল্পের মালিকেরা। ফলে দুই মাস ধরে পােশাকশ্রমিকদের একটি বড় অংশের মজুরি হচ্ছে প্রণােদনার টাকায়। তাহলে শ্রমিকরা পরিশ্রম করে কোনো টাকাই উপার্জন করছেন না?

এ বিষয়ে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ সভাপতি বলেছেন, প্রতিনিয়ত বিদেশি ব্র্যান্ড ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠান বর্তমান ক্রয়াদেশ স্থগিত বা বাতিল করছে। এখন পর্যন্ত ৩০০ কোটি ডলারের রপ্তানি আদেশ বাতিল বা স্থগিত হয়েছে, যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। চলতি ক্রয়াদেশের অর্থ পেতেও ছয় থেকে আট মাস সময় লেগে যেতে পারে। তা ছাড়া বর্তমানে যে ক্রয়াদেশ পাওয়া যাচ্ছে, তা সম্পন্ন করতে কারখানাগুলাে চালু রাখতে হবে। এ জন্য শ্রমিক – কর্মচারীদের বেতন – ভাতা সময়মতাে পরিশােধ করে কাজে নিয়ােজিত রাখতে হবে। কিন্তু ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ বাতিল বা স্থগিত ও নির্দিষ্ট সময়ে পেমেন্ট না পাওয়ার কারণে পােশাক খাত নিদারুণ আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছে!

বিকেএমইএর প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, তিন-চার মাস পর কারখানায় যেসব পোশাক আমরা তৈরি করব, তার ক্রয়াদেশ বর্তমানে আসার কথা। কিন্তু আসছে না। আসার কোনো লক্ষণও দেখছি না।

করোনা ভাইরাসের কারণে গত মার্চের শুরুর দিকে ৩১৮ কোটি ডলারের পোশাকের ক্রয়াদেশ বাতিল বা স্থগিত হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী গত ২৫ মার্চ জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের মজুরি দেওয়ার জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। পরে অর্থ মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দিলে বাংলাদেশ ব্যাংক ২ এপ্রিল নীতিমালা জারি করে।

সেখানে বলা হয়, সচল কারখানা শ্রমিকের তিন মাসের (এপ্রিল, মে ও জুন) মজুরি দিতে তহবিল থেকে ঋণ পাবে। ঋণের জন্য কোনো সুদ নেই, তবে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলো ২ শতাংশ পর্যন্ত মাশুল নিতে পারবে। ঋণের টাকা বাংলাদেশ ব্যাংককে দুই বছরের মধ্যে শোধ করবে ব্যাংকগুলো।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ