Latest Textile | Habibur Rahman
আমি মনে করি সুক্ষ বিচার বিশ্লেষণ না করে ৫০% কর্মচারী ছাটাই আপনার নিজের প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই বড় ধরণের ক্ষতির মুখে ফেলবে! এবং অনেকে এটা করছেন না বলে কিছু সুসংবাদ ও আছে। তারা কেন করছেনা খোঁজ নেন।
১। চরম দুঃসময়ে আপনি পঞ্চাশ শতাংশ কৃচ্ছতা সাধন করছেন, নিজের বিবেকের কাছে শুধু প্রশ্ন করুন, আপনার লাইফস্টাইলে কি তাই করেছেন!
২। দেশি/বিদেশী উচ্চ পদস্থদের সুযোগ সুবিধা সাময়িক রহিতকরণ। ওনারা আজ বড় অসহায় তাই মেনে ও নিবেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের কাছে গাইডলাইন এবং প্রতিটা পদক্ষেপের টাইম লাইন বেঁধে নিন। কাজ না হলে উনি নিজেই চলে যাবেন। উত্তরাধিকারী প্রস্তুত রাখুন।
৩। দ্বিতীয় লেভেল অনেকের কাছে প্রযুক্তি, ইনোভেশন, অটোমেশন অত্যন্ত হাস্যরসের বিষয় ছিল। কোন এক অজানা কারণে আপনিও তাদের কাছে কেন যেন জিম্মি ছিলেন। আমি মনে করি এখন তাকে আপনি যে কোন প্রকার নতুন দিনের ঝান্ডা ওড়াতে পারবেন। যে কোন সিস্টেমেটিক এপ্রোচ , নতুন সিস্টেম ইমপ্লিমেন্টেশন এই পরিস্থিতিতে আপনাকে দারুন সহযোগিতা করতে পারবে।
৪। তৃতীয় লেভেলে থাকা অকর্মণ্যের ঢেকি গুলোর গোপন তালিকা প্রস্তুত করে তাদের হাতে নিজেদের ইমপ্রুভমেন্ট গোল লিখে নিয়ে টাইমলাইন বেঁধে দিন। তা না হলে গ্রামে গিয়ে কৃষি বিপ্লবে সামিল হতে বলুন।
৫। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় লেভেলে কে কে দুর্নীতিতে জড়িত, তাদের স্বাধীনতা দিয়ে বিদায় করে দিন। ওরা সিঁধ কাটা ইঁদুর নিজের ব্যাবসা কাঁধে নিয়ে দেখুক কতটা কষ্ট আপনাকে করতে হয়েছে। আর যারা কোন কিছু করেনি শুধুই টাকার কুমিরে রূপান্তরিত হয়েছে তাদের ঝেটিয়ে বিদায় করলেও তাদের কিছুই হবেনা , একটা ফ্ল্যাট বিক্রি করলে অনেক বছর বসে খেতে পারবে।
৬। ট্রাভেল, মিটিং, হোটেল বিল, পাঁচ তারকায় মিটিং সমস্ত কিছুকেই ডিজিটালে রূপান্তরিত করুন। শুধু ভিডিও কনফারেন্স আর জুম মিটিং মানেই কিন্তু ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন না। আরো অনেক গুলো টুলস, সল্যুশন, সিস্টেম আছে। সকল কিছু একসাথে লাগবে এমন টা নয় , কিন্তু আপনাকে বুঝে শুনে একটা একটা করে সেট আপ করে নিতে হবে। এই মুহূর্তে যদি না পারেন, তাহলে আর কোন দিনই পারবেন না অবশ্যই।
৭। ছোট কারখানায় ২৫% - ৩০% আর বড় কারখানায় ১৫% - ২০% প্রোডাকশন কোয়ান্টিটি বাড়ানোর জন্য ৫০ ধরণের মেথড দরকার হয়। এবং কারখানা ভেদে এই মেথড আগে পিছে করা, কিছু কিছু বাদ দিয়ে পরের টা তে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত টা অত্যন্ত বিচক্ষণতা ও গুরুত্বের সাথে পদক্ষেপ নিতে হয়। আমরা ৫০ টা মেথডের শিক্ষা প্রদানের জন্য ১০০ টা ক্লাসের ব্যাবস্থা করে থাকি। প্রতিটা ক্লাস সকালে চার ঘন্টার জন্য করতে হয়। আর বিকালে চার ঘণ্টা পুর্বের কাজের বিচার বিশ্লেষণ, রেজাল্ট, কেপিআই ইত্যাদি নিয়ে কাজ করতে হয়। সিদ্ধান্ত আপনার হাতে কর্মচারী ও কর্মীবাহিনী ছাটাই করবেন না কি তাদের প্রশিক্ষিত ও দক্ষ করে বেশি রেভিনিউ আয় করবেন!
৮। তুরস্কে একটা অপারেটর ১৫ টা থেকে ২০ টা অপারেশনের কাজ জানে। তারা বিগত পাঁচ বছর এই প্রশিক্ষণের জন্য এক্সট্রা খরচ করেছে। প্রতিটা অপারেটর কে প্রশিক্ষিত করে তুলেছে দেশের জন্য, ইন্ডাস্ট্রির জন্য ভিয়েতনামে এই প্রশিক্ষণ গত বছর থেকে চালু করেছে আগামী চার বছর এই প্রশিক্ষণ চলবে। অপারেটর রা যদি দ্বিগুন অপারেশনের কাজ জানে, তার বেতন ও বাড়বে আপনার কারখানার উৎপাদন ২০% বাড়বে। আমাদের প্রশিক্ষণ হয়তো ২০২৫ সালে আমরা শুরু করবো। কারণ ততদিনে হয়তো আমাদের টনক নড়বে।
৯। আমরা ২৬ দিন অনবরত সকল লাইনে প্রোডাকশন চালাইতে পারিনা, খুব ছোট ছোট সমস্যার কারণে। সকলে মিলে এই দুর্গত অবস্থা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য শুধু এই একটা বিষয়ের উপর জোর দিলে প্রোডাকশন বাড়বেই। এবং আমাদের কর্মচারী ছাটাইয়ের মত ভুল সিদ্ধান্ত নিতে হবেনা।
১০। আমরা প্ল্যান করে কাজ করিনা, বা করে উঠতে পারিনা এইটা বিগত দুই দশকে প্রমাণিত সত্য। আমরা পরিস্থিতির উপর ঝটপট শর্ট গোল ডিসিশন দিয়ে ফেলি। তাই প্ল্যান করা শিখুন, প্ল্যান কে বাস্তবে রূপান্তরিত করতে শিখুন। আমি নিশ্চিত ভাবে বলে দিতে পারি, ভালো প্ল্যান করতে পারলে আমাদের কর্মী বাহিনী দিয়ে আরো ২০% বেশি প্রোডাকশন কোয়ান্টিটি আপনার কারখানাতেই উৎপাদন করানো সম্ভব। দরকার আপনার বুঝার ক্ষমতা ও মেনে নেয়ার মানসিকতা।
১১। ইন্ডাস্ট্রি রেভোলুশন ২.০ শেষ হয়ে গেছে ১৯৬৯ সালে , ইন্ডাস্ট্রি রেভোলুশন ৩.০ তার পর থেকে অদ্যাবধি চলছে। উন্নত বিশ্বে ইন্ডাস্ট্রি রেভোলুশন ৪.০ শুরু হয়ে গেছে। আপনি কি জানেন আমাদের কারখানার লেভেল দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লব লেভেলে রয়ে গেছে। এবং আমরা স্যাপ, ওরাকল সফটওয়্যার কিনলেই নিজেদের অনেক কিছু ভেবে বসে থাকি। একটা ইআরপি কেনা মানেই আপনি অনেক মর্ডার্ন কারখানার মালিক , এইটা পরিপূর্ণ ভুল ধারণা। সঠিক এবং সময়োচিত পদক্ষেপ গ্রহণ এই মুহূর্তে আবশ্যক।
১২। শুধুমাত্র স্যাম্পল প্রসেস কে থ্রীডি ভার্চুয়াল স্যাম্পলে রূপান্তরিত করণ আপনার টাকা, সময়, নিগোসিয়েশন স্কিল, প্রতিযোগিতা কে অন্য মাত্রায় নিয়ে যাবে। আমার জানা মতে বড় সকল কারখানায় এই ফ্যাসিলিটি ক্রয় করা আছে কিন্তু সময়ের অভাবে , মানসিকতার অভাবে , পর্যাপ্ত ট্রেনিংয়ের অভাবে এবং প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট স্কিল এর অভাবে সকল টুল শুধুই শোভা বর্ধন করে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় বা উৎপাদনশীল খাতে কাজে লাগাতে পারছিনা। ছোট কারখানা উদ্যোক্তাদের কিন্তু লেটেষ্ট মডেলের গাড়ি আছে , কিন্তু লেটেস্ট মডেলের সল্যুশন কেনার মানসিকতা হয়নি অথবা প্রয়োজনই পড়েনি।
আমার লিখা সকল কিছুই যে আপনার জন্য সকল সমস্যার সমাধান এনে দিবে, এমন টা কখনোই নয়। আমি অনেক গুলো ফ্যাক্টরিতে আপনাদের কাছে থেকে আপনাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম দেখার সুযোগ পেয়েছি। আমি মনে করি আপনাদের ভুলে যেতে হবে আপনি সব কিছুই জানেন , সব কিছুই আপনি বুঝেন। আমি মনে করি আমরা মালিক, কর্মচারী ও শ্রমিক সকলেই আজকের এই উদ্ভুত পরিস্থিতির জন্য সমান ভাবে দায়ী। আজকে করোনা এসেছে বলে আমরা আমাদের আয়নায় নিজেদের দেখতে পারছি। তাই এইবার যদি আমরা নিজেদের পরিবর্তন না করতে পারি আর কোনদিন হয়তো করার আর প্রয়োজনই পড়বেনা।
ধন্যবাদ সকলকে
আমাদের একটা কথা মনে রাখতে হবে " LEARN TO UNLEARN"
Writer:
Habibur Rahman
Smart Factory 4.0 Consultant for Textile Apparel Industries;
County Head, Quantity Improvement Solutions;
Founder, Jobs For U.







0 মন্তব্যসমূহ