Latest Textile | আবুল হোসেন
বেতন-ভাতা বকেয়া রেখে ঈদের ছুটিতে শ্রমিক-কর্মচারীদের ছাঁটাই করে একটি গার্মেন্টস পালানোর চেষ্টায় মেশিনপত্র সরানোর সময় শ্রমিকরা কয়েকটি ট্রাক আটকে দিয়েছে।
গতকাল (২ আগস্ট) গাজীপুর নগরের বাদে কলমেশ্বর এলাকায় প্যান্ডোরা ফ্যাশন লিমিটেড কারখানায় এ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ ও শ্রমিকরা জানিয়েছেন।
শুক্রবার (৩১ আগস্ট) রাতে কারখানা ফটকে টানানো কারখানার পরিচালক স্বাক্ষরিত ছাঁটাই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কারখানায় কোনো কার্যাদেশ না থাকায় সকল শ্রমিক-কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হলো।
কারখানার শ্রমিক আল আমিন বলেন, গত বৃহস্পতিবার জুলাই মাসের অর্ধেক বেতন পরিশোধ করে কারখানায় ঈদের ছুটি ঘোষণা করা হয়। ছুটি পেয়ে অধিকাংশ শ্রমিক গ্রামের বাড়ি চলে যান।
“এই সুযোগে শুক্রবার রাতে কারখানা গেটে নোটিশ টানিয়ে দেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ। শনিবার রাতে কারখানার মেশিনপত্র কয়েকটি ট্রাকে তুলে সরিয়ে নেওয়ার সময় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় শ্রমিকরা ট্রাকগুলোকে আটকে কারখানায় ফেরত নিয়ে যায়।”
কারখানার ভবন মালিকও খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান বলে আল আমিন জানান।
কারখানায় কী পরিমাণ সম্পদ আছে তা জানার জন্য ফোন করে মলিকপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। তাই এ বিষয়ে শ্রমিক আল আমিনকে প্রশ্ন করা হয়।
আল আমিন বলেন, কারখানায় ২০০টি জ্যাকার্ড মেশিনসহ বিভিন্ন ধরনের আরও বেশকিছু মেশিনসহ নানা ধরনের যন্ত্রপাতি রয়েছে। তবে সেসবের মূল্য সম্পর্কে তার তেমন কোনো ধারণা নেই।
ভবন মালিক খায়রুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে তার চার তলা ভবনের চারটি ফ্লোর প্যান্ডোরা ফ্যাশন কর্তৃপক্ষের কাছে মাসিক সাড়ে ৬ লাখ টাকায় ভাড়া দেন।
বর্তমানে বকেয়া ভাড়া বাবদ প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকা তিনি প্যান্ডোরা ফ্যাশন কর্তৃপক্ষের কাছে পাবেন এবং ভবনের আরও প্রায় ৬০ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
প্যান্ডোরা ফ্যাশন কারখানার মালামাল নিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকটি ট্রাক আটকে দেয় শ্রমিকরা
প্যান্ডোরা ফ্যাশন কারখানার মালামাল নিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকটি ট্রাক আটকে দেয় শ্রমিকরা
তিনি আরও বলেন, “কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে বকেয়া ভাড়া চাইলে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো। এ নিয়ে অনেক দেন-দরবার হয়েছে। বকেয়া ভাড়ার টাকা চাওয়ায় সম্প্রতি কারখানার পরিচালক আব্দুর রজ্জাক আমাকে গুলি করারও হুমকি দিয়েছেন।”
এ ব্যাপারে কারখানার পরিচালক আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন ধরেননি।
পরে প্যান্ডোরা ফ্যাশন লিমিটেডের ম্যানেজার (এডমিন) আইয়ুব আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বলেন, “আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না। মালিকপক্ষই ভালো বলতে পারবেন।”
কারখানার আরেক শ্রমিক আব্দুর রহমান বলেন, “ঈদের ছুটির সময়ও কারখানা বন্ধের বিষয়টি আমাদের জানানো হয়নি। চলতি পাওনা পরিশোধ না করেই কারখানা কর্তৃপক্ষ মেশিনপত্র ট্রাকে তুলে নিয়ে পালিয়ে যেতে চেয়েছিল। রোববার ভোরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা কারখানার গেটে ছুটে যাই। পরে ট্রাকগুলো আটকে ফেরত নিয়ে আসি।”
শ্রমিক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কারখানাটি বর্তমান ভবনে আসার আগেই তিনি ২০০০ সালের ২০ জুন থেকে কারখানাটিতে নিয়মিত চাকরি করে আসছেন। প্রচলিত শ্রম আইন অনুযায়ী তাদের যাবতীয় পাওনা পরিশোধ করে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করলে কোনো আপত্তি থাকবে না।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পরিদর্শক রেজ্জাকুল হায়দার জানান, শুক্রবার বন্ধের দিনে কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রম আইন অনুযায়ী কারখানা ফটকে ছাঁটাইয়ের নোটিশ টানিয়ে দেয়। পরে কিছু মেশিন অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সময় শ্রমিকরা আটকে দেয়।
“শ্রমিকদের দাবি যদি কর্তৃপক্ষ শ্রমিক ছাঁটাই করেন কিংবা কারখানা স্থানান্তর করেন তবে শ্রম আইন অনুযায়ী তাদের যাবতীয় পাওনাদি পরিশোধ করতে হবে।”
পরিদর্শক রেজ্জাকুল বলেন, শ্রমিকদের বাধার মুখে পুলিশ ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মধ্যস্থতায় ভবন মালিক, শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আগামী শনিবার বৈঠক হবে। সেখানে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্ত জানাবেন।
তিনি জানান, অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় কারখানা ফটকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ না করে মেশিনপত্র যাতে স্থানান্তর করতে না পারে সেজন্য পুলিশ সদস্যরা কারখানায় অবস্থান করছেন।
লেখক
আবুল হোসেন,
গাজীপুর প্রতিনিধি,
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম





0 মন্তব্যসমূহ