অ্যাবাকা (Abacá), এক বিশেষ টেক্সটাইল ফাইবার


Latest Textile | Tahmina Akter Mina

অ্যাবাকা "কলা"‌ পরিবারের অন্তর্গত একটি শণ জাতীয় উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে "Musa textilis."
অ্যাবাকা Musaceae পরিবারের একটি প্রজাতি। এই উদ্ভিদের পাতার ডাটা কিংবা মধ্যশিরা থেকে এই তন্তু (Fiber) পাওয়া যায়। এই গাছটা দেখতে অনেকটা কলা গাছের মত কিন্তু অনেকটা ছোট ও চিকন। এই গাছে অনেক ছোট ছোট ফল পাওয়া যায়। এসব ফল খাওয়ার অযোগ্য। 

✓ উৎপত্তিস্থল:

অ্যাবাকা উদ্ভিদ সাধারণত দক্ষিণ ফিলিপাইনে দেখতে পাওয়া যায়। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে অ্যাবাকা চাষের অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কোনো প্রচেষ্টাই সফল হয়নি। পৃথিবীতে উৎপাদিত মোট অ্যাবাকার ৮৫% ভাগই আসে ফিলিপাইন থেকে,বাকী ১৫% এর যোগানদাতা হল ইকুয়েডর।

✓ বাণিজ্যিক নাম:

Manila
অ্যাবাকার বাণিজ্যিক নাম হলো ম্যানিলা হেম্প (Manila Hemp)। হেম্প শব্দের অর্থ শণ। শণ জাতীয় উদ্ভিদের আঁশকে ম্যানিলা হেম্প বলে।

✓ চাষ পদ্ধতি:

ফিলিপাইনে অ্যাবাকা গাছ আপনার আপনি জন্মে এবং তেমন কোনো যত্নের প্রয়োজন হয় না। কলা গাছের ন্যায় অ্যাবাকা গাছ অনেকগুলি খোল সদৃশ পাতার গোড়ার অংশ নিয়ে গঠিত। প্রতিটি খোল এর বাহিরের অংশে আঁশ এর একটি পাতলা আবরণ থাকে এবং ভিতরে থাকে আঁশহীন জলীয় অংশ।‌

Abacá

দেড় থেকে দুই বছর বয়স হলেই কিছু গাছে ফুল আস্তে শুরু করে। আঁশ সংগ্রহের জন্য এটাই উপযুক্ত সময়। এসময় গাছ ৫-১২ ইঞ্চি মোটা হয় এবং ১০-১৩টি পাতার গোড়ার অংশ গাছে বিদ্যমান। গাছে অবস্হানের উপর ভিত্তি করে এগুলির পরিপক্কতা ভিন্ন হয়ে থাকে। ফিলিপাইনে আঁশ সংগ্রহের জন্য পুরো গাছটাই কেটে ফেলা হয়। তবে ইকেয়েডরে পুরো গাছ কাটার পূর্বে কয়েক বার বাইরের খোলগুলি কেটে আঁশ সংগ্রহ করা হয়।

✓ আঁশ সংগ্রহ:

প্রথমে সংগ্রহকৃত খোলগুলি থেকে ফিতার ন্যায় আঁশগুলি আলাদা করা হয়। এরপর ভোঁতা ধাতব ছুড়ি দিয়ে চেঁছে এ ফিতার জলীয় অংশ আঁশ থেকে সম্পূর্ণ রূপে মুক্ত করার পর আঁশ গুলো যত দ্রুত সম্ভব রোদে‌ শুকানো হয়।

✓ আঁশের বৈশিষ্ট্য:

অ্যাবাকা আঁশের ভালো প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা বিদ্যমান। ভালো আঁশের রং প্রায় সাদা, যেখানে নিম্নমানের আঁশের রং প্রায় কালো হয়ে থাকে। অ্যাবাকা শক্তিশালী, নমনীয় এবং প্রায় স্থিতিস্থাপকতাহীন একটি আঁশ। অ্যাবাকা সেলুলোজিক তন্তু। সেলুলোজের পরিমাণ ৭৭% এবং লিগনিন ৯% । জলীয় দ্রবণে সিদ্ধ করলে আঁশসমূহ আলাদা হয়ে যায়।

Collecting

✓ ব্যবহার:

  • ১/ বেশীরভাগ অ্যাবাকা ব্যবহৃত হয় উন্নতমানের এবং শক্তিশালী কাগজ তৈরিতে, যেমন: টি-ব্যাগ, টিস্যু, স্টেনসিল, মাংসের মোড়ক ইত্যাদি।
  • ২/ তবে কিছু অ্যাবাকা এখনও দড়ি বা কাছি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
  • ৩/ রশি বা জাহাজের জন্য মোটা দড়ি তৈরিতেও অ্যাবাকার ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।
  • ৪/ পাওয়ার ট্রান্সমিশন রশি, কুপ খননের রশি, মাছ ধরার জাল, বরশির সুতা ইত্যাদিতেও এটি ব্যবহৃত হয়।
  • ৫/ কিছু ভালো মানের সরু আঁশ সরাসরি কাপড় তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
  • ৬/ টুপি, জুতা, কার্পেট, টেবিল ক্লথ তৈরিতে অ্যাবাকার ব্যবহার রয়েছে।

Writer
Tahmina Akter Mina
Committee Manager - Latest Textile
Department of Clothing & Textile,
Bangladesh Home Economics College (BHEC)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ