পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক রঙিন তুলো, ভারতের সফলতা


Latest Textile | নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেশি ও প্রতিযোগী দেশ "ভারত" গত তিন দশকেরও বেশি গবেষণার পর প্রাকৃতিক ভাবে চাষ করা রঙিন তুলা বাণিজ্যিক ভাবে প্রকাশ করতে যাচ্ছে। ধারনা করা হচ্ছে যে তা আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাজারে চলে আসবে।
প্রাকৃতিক ভাবে রঙিন এই তুলো থেকে তৈরি সুতা (Cotton Yarn) গুলো আর রং করতে হবে না। এ পর্যন্ত ৪০ রকম রঙের তুলো তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে ভারতীয় গবেষকরা।
যদিও তুলো গুলো থেকে কাঙ্ক্ষিত মানের, সঠিক GSM (Grams per Square Meter) ও প্রয়োজনীয় কাউন্টের সুতা তৈরি করা সম্ভব কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে, তবে গবেষকরা আশা করছেন খুব শীঘ্রই তারা সফল হবেন।

প্রাকৃতিক ভাবে রঙিন তুলো নিয়ে এ পর্যন্ত অনেক দেশ গবেষণা করছে, যেমন: অস্ট্রেলীয়, চীন, আমেরিকা ইত্যাদি। সে ক্ষেত্রে টেক্সটাইল এ সারা বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানকারী বাংলাদেশ গবেষণার কোন ব্যবস্থাই নেই

বাংলাদেশের নদী গুলো ক্রমশই দূষিত থেকে অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার আসে পাশের নদী গুলোর পানি যে রং-বেরঙের রংধনু! ধীরে ধীরে বর্ষার আকাশের মত কালো হয়ে যায়।
আর এক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময়ই দায়ী হয়েছে টেক্সটাইল ডাইং কারখানা গুলো।
যেহেতু সুতা ও কাপড় রঙ করতে জলাশয় দূষিত এবং পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সে ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক ভাবে রঙিন এবং জৈব ভাবে চাষ করা তুলা আমাদের দেশের পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
Photo credit: University of Agricultural Sciences Dharwad


ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর এগ্রিকালচারাল রিসার্চ (ICAR) এর অল ইন্ডিয়া কো-অর্ডিনেটেড রিসার্চ প্রজেক্ট অন কটন-এর প্রকল্প সমন্বয়কারী এএইচ প্রকাশ জানিয়েছেন, আগামী বছরের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে আশা করা যায়, ২০২১ সালের এপ্রিলের মধ্যে শেষ হবে এবং কিছু সম্ভাবনাময় বীজ বাণিজ্যিক ভাবেও বাজারে ছাড়ার প্রস্তাব করবে তারা।

এখন কথা হচ্ছে যে, গবেষণার মত সহজ সরল কাজ, আমরা বাংলাদেশীরা পছন্দ করি নাহ, দামও নেই! আমরা বিসিএসর মত কঠিন বিষয় নিয়ে ব্যস্ত।

তাই আমাদের দেশ এখন আবার এবং আবারও নির্ভরশীল হবে ভারতের উপর, যার ফলাফল আমরা গত কয়েক বছর স্পষ্ট ভাবেই দেখচ্ছি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ