জাতিসংঘ থেকে ২ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ পেয়েছে টেক্সটাইল


Latest Textile | নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতিসংঘের বিশ্বব্যাপী তহবিল গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (GCF) থেকে প্রায় ২১২১ কোটি টাকা (২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) পেয়েছে বাংলাদেশের টেক্সটাইল এবং গার্মেন্টস খাত। গত ১৩ই নভেম্বর জিসিএফের বোর্ড মিটিংয়ে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়েছে।
জ্বালানিসাশ্রয়ী শক্তিশালী ও দক্ষ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বেসরকারী খাতের বিনিয়োগের জন্য জিসিএফ থেকে দেওয়া হয়েছে এত বড় সংখ্যার টাকা।
গতকাল (১৮ই নভেম্বর) সরকারি মালিকানাধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (IDCOL) থেকে জানা গেছে যে, বাংলাদেশের জন্য এটা প্রথম ও বৃহত্তম বেসরকারী খাতের অর্থ বিনিয়োগ এবং যেখানে জিসিএফের ডিরেক্ট অ্যাকসেস এন্টিটি (DAE) পেয়েছেন ইডকোল।

উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিহত করতে কাজ করে যাচ্ছে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (GCF)। 
জিসিএফ, জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের কাঠামোর মধ্যমে প্রতিষ্ঠিত একটি তহবিল

কর্মসূচির আওতায় ইডকোল জিসিএফ থেকে ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ২১২১ কোটি টাকা) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২০ বছরের জন্য দেওয়া এই ঋণের অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে আরো পাঁচ বছর অতিরিক্ত সময়ও দেওয়া হবে। এ সময়ে ইডকোলকে কারিগরি সহায়তা হিসেবে অতিরিক্ত ৬৫ লাখ মার্কিন ডলার দেওয়া হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্য খাত মোট জ্বালানির ৪৭.৮ শতাংশ ব্যবহার কর। আর শুধুমাত্র টেক্সটাইল এবং গার্মেন্টস খাতেই মোট জ্বালানির ৩৮ শতাংশ ব্যবহৃত হয়।

তাই টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস কারখানাগুলোকে জ্বালানিসাশ্রয়ী প্রকল্পে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া এই কর্মসূচিটির প্রধান উদ্দেশ্যে।

২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মধ্যে ১০০ মিলিয়ন ডলার টেক্সটাইল কারখানাগুলোর জ্বালানিসাশ্রয়ী প্রকল্পগুলিতে অর্থায়নে ব্যবহার করা হবে এবং গার্মেন্টস কারখানাগুলোকে জ্বালানিসাশ্রয়ী প্রকল্পের অর্থায়নের জন্য বাকি ১৫০ মিলিয়ন ডলার চারটি স্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ব্যয় করা হবে, যার সুদের হার হবে ৪.৭৫%। টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (SREDA) এই প্রকল্পের একটি অংশ বাস্তবায়ন করবে বলে জানা যায়।

তবে যেসব কারখানাগুলো থেকে সব থেকে বেশি পরিবেশ দূষণ ও জ্বালানি অপচয় হয় তারা এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে কিনা তাতে যথেষ্ট সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা

বিজিএমইএর (BGMEA) সভাপতি ড. রুবানা হক প্রকল্পটির অনুমোদন পাওয়ায় ইডকোলকে অভিনন্দন জানান।
এই প্রকল্পের অনুমোদনের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি আরো টেকসই পথে এগিয়ে গেল। একই সঙ্গে কারখানাগুলোর বড় অংশ সহজলভ্য ও বৈশ্বিক মানের অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগ পেল
বলে জানান বিটিএমএর (BTMA) ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল্লাহ আল মামুন

আরও দেখুন:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ