বাইডেন টেক্সটাইলের জন্য আশীর্বাদ নাকি সর্বনাশ?


Latest Textile | Al Shariar

সম্প্রতি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২০-এ ডেমোক্র্যাট পার্টির জো বাইডেন জয়লাভ করেছেন এবং হোয়াইট হাউসে ৪৬ তম রাষ্ট্রপতি হিসাবে প্রবেশ করতে চলেছেন।
বাইডেনের জয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের "American Frist" পদ্ধতির সমাপ্তি ঘটাবে যা বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ, বাণিজ্য বিশ্লেষক এবং প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।
জয়ের বিষয়টি আমেরিকান জনগণের পাশাপাশি বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ যেহেতু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পণ্য বিশেষত পোশাক পণ্যগুলির একটি বৃহত্তম রপ্তানির গন্তব্যস্থল।

ইতিমধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন গত কয়েক বছরে আমেরিকার বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থা দুর্বল করেছে এবং সাধারণ সুরক্ষাবাদী নীতিতে মনোনিবেশ করেছে। ফলস্বরূপ, আমেরিকা চীনের সাথে বাণিজ্য বিরোধে জড়িয়ে পড়ে।
Bangladesh To US, Source: EPB

মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (Otexa) তথ্যের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রফতানি আয় গত ২০২০ সালের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর মাসে ১৩.৩২% হ্রাস পেয়ে $৪.১০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা এক বছর আগে $৩.৭২ বিলিয়ন ডলার ছিল। একই সময়ে পোশাক রফতানি ১৩.২৩% হ্রাস পেয়ে $৩.৯৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল $৪.৪৬ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক পরাশক্তি না হওয়ায়, বাংলাদেশকে ডব্লিউটিওর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার অধীনে বাণিজ্য সুবিধা নিতে হয়। এদিকে জো বাইডেন বহুমুখী বাণিজ্য ব্যবস্থাকে সম্মান করায় বাংলাদেশের জন্য এটি একটি ভালো খবর।
 
তাছাড়াও বাইডেন প্রশাসনের সাথে জেনারালাইজড সিস্টেম অফ প্রেফারেন্স (GSP) পুনঃস্থাপনের জন্য বাংলাদেশ পুনরায় আলোচনা করার একটি সুযোগ পাবে। ২০১৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দ্বারা জিএসপি স্থগিতের পরে ট্রাম্প প্রশাসনের সাথেও আলোচনার কোন সুযোগ হয়নি। কিন্তু নতুন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সাথে এ নিয়ে আলোচনা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মার্কিন রাষ্ট্রপতি হিসাবে নির্বাচিত হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিয়েছিলেন এবং নিয়ম-ভিত্তিক বাণিজ্য ব্যবস্থার অনুসরণ না করে একা-একাই তার প্রস্তাবিত "American Frist" নীতি অনুসরণ করেছিলেন। এভাবে ট্রাম্প প্রশাসন চীনের সাথে বাণিজ্য বিরোধে জড়িয়ে পড়ে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যকে অস্থিতিশীল করে তোলে।

কিন্তু বাইডেনের ঐক্যের ডাক দিয়েই নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন ফলে তিনি সব দেশের সাথেই একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবেন। যা চীন ও আমেরিকার সম্পর্কে আবারও সীথিল করতে পারে। আর তাদের এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বাংলাদেশের টেক্সটাইল বাণিজ্যকে ভালো দিক দিয়ে প্রভাবিত করবে। 
সর্বোপরি, বাইডেনের জয় বাংলাদেশের টেক্সটাইল বানিজ্যকে ভালোভাবেই প্রভাবিত করবে বলে ধরা যায়। এখন শুধু সময় আর সঠিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষা।
এদিকে উল্লেখ্য যে, আগামী ২০শে জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প জো বাইডেনকে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ

নামহীন বলেছেন…
সময়ে বোঝা যাবে