করোনার অজুহাতে সাভারে ৫টি পোশাক কারখানা বন্ধ

Picturc: Mohammad Haque

Latest Textile | নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢা
কার সাভার উপজেলার আশুলিয়া থানায় ৫টি পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে। করোনার মহামারি ও ক্রয়াদেশ কম থাকার অজুহাতে ৩টি কারখানা স্থায়ী বন্ধ এবং অপর দুটি লে-অফ ঘোষণা করেছে বলে জানা যায়। কারখানা গুলোতে প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক কাজ করতো।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ বস্ত্র ও পোশাক শিল্প শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সরোয়ার হোসেন।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, জামগড়া এলাকার মদিনাপেল ফ্যাশনস ক্রাফট কারখানা ৪৫ দিনের লে-অফ ঘোষণা ও নিউ আইডিএস সোয়েটার কারখানার একটি সেকশন লে-অফ ঘোষণা করা হয়েছে।
তাছাড়াও আশুলিয়ার ধনাইদ এলাকার সিগমা ফ্যাশনস লিমিটেড কারখানা স্থায়ী বন্ধ ঘোষণা করেছে।
অন্যদিকে আশুলিয়ার ন্যাচারাল সোয়েটারে ১ হাজার ১০০ শ্রমিক ও পুর্বা সোয়েটারে ২৫০ জন শ্রমিকদের বেকার করে স্থায়ী বন্ধ ঘোষণার খবর পাওয়া গেছে।

মদিনাপেল ফ্যাশনস ক্রাফট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মতিন তাদের কারখানা বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেছেন,
তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ নেই। কারখানা বন্ধ রেখে শ্রমিকদের বেতন দেয়া হচ্ছিল। করোনা মহামারির প্রথম ধাক্কা পরবর্তী আমরা কষ্ট করে হলেও শ্রমিকদের বেতন দিচ্ছিলাম, এখন আর সম্ভব হচ্ছে না। তাই কারখানা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ায় বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর ১২ ধারা মোতাবেক ১ ডিসেম্বর থেকে ৪৫ দিনের লে-অফ ঘোষণা করা হয়েছে।
সিগমা ফ্যাশনের দেওয়া নোটিশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে করোনা পরিস্থিতির কারণে কারখানা কর্তৃপক্ষ শতচেষ্টা করেও পর্যাপ্ত কাজ সংগ্রহ করতে পারেনি। ক্রমাগত ক্রয়াদেশ কমার ফলে কাজ বর্তমানে শূন্যের কোঠায় নেমেছে। এ কারণে কারখানা ক্রমাগত আর্থিক লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে, এমন কি দিন দিন ঋণের বোঝা বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ৩০ নভেম্বর থেকে কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে শ্রমিকদের ত্রিপক্ষীয় কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক আইনানুগ যাবতীয় সুবিধা আগামী ৭ ডিসেম্বর পরিশোধ করা হবে।

নিউ আইডিএস সোয়েটার কারখানার একটি সেকশন লে-অফ ঘোষণা করার তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন।

আরও পড়ুন


রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, "এটা খুবই দুঃখজনক। শ্রমিকরা ভালো সময়ে সেবা দিয়েছে। তখন তো তারা বেশি বেতন পায়নি। এখন খারাপ দিন আসায় লে-অফ করে শ্রমিকদের বাড়ি পাঠানো হচ্ছে।"

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ বস্ত্র ও পোশাক শিল্প শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সরোয়ার হোসেন বলেন,
করোনার কারণে কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত এ কথা সত্যি, তবে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া অশনি সংকেত। শ্রমিকদের মুখের দিকে তাকিয়ে ক্রয়াদেশ কিভাবে বাড়ানো যায় এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সুদৃষ্টি দেওয়ার জোর দাবি জানাই।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ